Advertisement
  • গ | ল্প
  • এপ্রিল ১০, ২০২২

উপলক্ষ্য

অনেক সময় অনেক কথা আমরা বলতে পারি না। অনেক কথার জবাব থাকা সত্বেও কারো মুখের ওপর দিতে পারি না। সাময়িক চুপ করে যাই। কথা গুলো মাথার ভেতরে জমা থেকে যায়।

দেব সরকার
উপলক্ষ্য

চিত্র: দেব সরকার

স্যার, কিছু বলছেন?
পাশের টেবিলে বসে থাকা সত্তর উত্তীর্ণ কালীপ্রসন্ন ঘোষকে প্রশ্ন করে কুন্তল ।
প্রশ্নটা অবশ্য কুন্তল আগেও অনেকবার করেছে ।
জবাব একটাই, না, ও কিছু না ।
লাঞ্চের পর চেয়ারে বসে ঝিমোনো, তাঁর প্রতিদিনের অভ্যেস ।

কুন্তল এই অফিসে জয়েন করেছে খুব বেশিদিন হয় নি । তবে আগে কন্ট্রাক্টে কাজ করেছে বেশ কিছু দিন। তাই কাঁচের ঘরে বসা মানুষগুলো বাদে এখানকার আর সবার সঙ্গেই কুন্তলের পরিচয় ছিল । কন্ট্রাক্টে কাজ করার সময় কালীপ্রসন্নবাবুর পাশের টেবিলটা বরাদ্দ হয়েছিল কুন্তলের জন্য । তখন থেকেই দুই অসম বয়সি মানুষের গড়ে ওঠে সখ্যতা । এখন অবশ্য কুন্তলের বসার জায়গাটা পরিবর্তন হয়েছে । তাও লাঞ্চের পর এই মানুষটার পাশে কিছুটা সময় কাটাতে ভাল লাগে। কুন্তল জানে এটা কালীপ্রসন্ন বাবুর ঝিমোনোর সময় । এটা চলবে যতক্ষণ না এক কাপ চা আসবে । নেপাল, প্রসাদ, মাধব, কৃষ্ণ – এরা সবাই জানে কালীপ্রসন্ন চিনি ছাড়া চা খান । ঝিমুনির মাঝেই কামাখ্যা বাবু কুন্তলের সাথে কথা বলেন । ওর খোঁজ খবর নেন । অনেক উপদেশ দেন। আবার মৃদু গালমন্দও করেন মাঝে মাঝে, অভিভাবকের মত। তিনি অবশ্য এই অফিসে অনেকেরই অভিভাবক। কুন্তলের তাই মনে হয়। বিশেষ করে নিচু তলার অনেক কর্মচারী প্রায়শই কালীপ্রসন্নবাবুর সাথে নানা রকমের ব্যাক্তিগত সমস্যার কথা বলতে আসে। কুন্তল পরে জানতে পারে কালীপ্রসন্নবাবু ওই স্বল্প আয়ের নিচু তলার কর্মচারীদেরকে মাঝে মধ্যেই আর্থিক সহায়তা করেন। তবে এসবের হিসেব কোনদিন রাখতেন না কালীপ্রসন্ন । যাঁরা ওনার কাছ থেকে সাহায্য নিত, নিজেরাই হিসেব রাখত আর সুবিধে মত ধার শোধ দিয়ে দিত। কেউ পুরোটা শোধ না করতে পারলে সেটা অনেক সময় মুকুবও করে দিতেন তিনি । এ সবই কুন্তল জানতে পারে অন্য লোকের মুখে। কালীপ্রসন্নবাবুকে এসব নিয়ে কথা বলতে কেউ কোনোদিন শোনে নি।

না, না স্যার আপনি কিছু বলছিলেন, আমি স্পষ্ট শুনেছি ।
কালীপ্রসন্নবাবু একটু নড়ে চড়ে বসলেন ।
আমি কিছু বলি নাই ।
না আপনি কি সব বিড় বিড় করছিলেন, মনে হচ্ছিল যেন কারো সাথে কথা বলছিলেন। আর মধ্যে মধ্যে দু চারটে খারাপ কথাও ছিল স্যার । আমি স্পষ্ট শুনেছি ।
কামাখ্যা বাবুর মুখে এবার একটা স্মিত লাজুক হাসি।
দিলি তো আমার ঝিমুনিটা কাটিয়ে। কোথায় গিয়ে এই বয়সে প্রেম পিরতি করবি তা না করে একটা বুড়ো ভামের পাশে বসে সময় কাটাচ্ছিস। ও সব ছাড়, তোর লাভারের কি খবর বল।
কালীপ্রসন্নবাবু জানতেন কুন্তলের একটা ভালবাসার ব্যাপার আছে । এমডির সেক্রেটারী, অজিতবাবু একদিন দেখে ফেলেছিল অফিস আসার পথে । সাত সকালে কুন্তল একটা মেয়ের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে ধর্মতলার বাস স্ট্যান্ডের কাছে । আর অফিসে ঢুকে সবচেয়ে প্রথম কালীপ্রসন্নবাবুকে সামনে পেয়ে না উগড়ে থাকতে পারেন নি । সেই থেকে কালীপ্রসন্নবাবু মাঝে মাঝেই খবর নেন, ব্যাপারটা কতদূর এগোলো ।
সে সব ঠিক আছে স্যার । আপনি কি বলছিলেন বলুন না। আপনিও তো খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে সব জানতে চান স্যর। আমি তো সব বলে দিই আপনাকে। তবে আপনি বলবেন না কেন? আজ আমি শুনেই ছাড়ব।
বেশ, তবে শোন –
কালীপ্রসন্নবাবুর  চিনিছাড়া  চা এসে গিয়েছিল । সামনের টেবিলের ওপর থেকে মোটা ফ্রেমের চশমাটা হাত বাড়িয়ে নিলেন। গরম চায়ের কাপে সশব্দে একটা চুমুক দিয়ে কুন্তলের মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন –
এটাকে বলে ‘থিঙ্কিং এ্যালাউড’ মানে বুঝিস?’
কুন্তলের চোখে মুখে প্রশ্ন!
একটু থেমে আবার বললেন ‘আওয়াজ করে চিন্তা করা।
এরকম হয় বুঝলি। অনেক সময় অনেক কথা আমরা বলতে পারি না। অনেক কথার জবাব থাকা সত্বেও কারো মুখের ওপর দিতে পারি না। সাময়িক চুপ করে যাই। কথা গুলো মাথার ভেতরে জমা থেকে যায়। জবাব দিতে না পারায় নিজের ওপরই নিজেরই প্রচণ্ড রাগ হয়। ক্ষোভ হয়। ধিক্কার দিতে ইচ্ছে হয় নিজেকে সমুচিত জবাব দিতে না পারার জন্য।
কুন্তল হাঁ করে শুনছিল।
কালীপ্রসন্নবাবু চায়ের কাপে আরেকটা চুমুক দিয়ে আবার বলতে শুরু করলেন –
তুই বাচ্চা ছেলে, এখন বুঝবি না। আমার মত বয়স হলে বুঝবি।
কালীপ্রসন্নবাবু চেতলার কাছে একটা হাউসিং-এ থাকতেন। উল্টো দিকেই চেতলা মহা শ্মশান। আরেকটু বা দিকে এগিয়ে গেলেই মহাতীর্থ কালীঘাট। তিনি প্রতিদিন ভোরে স্নান করে চেতলা মহাশ্মশান আর কালীঘাট ঘুরতে যেতেন। অফিসে আসতেন কপালে একটা টক টকে লাল টিপ পড়ে। অফিস থেকে তাঁর বাড়ী তিন কিলোমিটার। পায়ে হেটেই যাতায়াত করতেন।
একসময় অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসে কাজ করতেন কালীপ্রসন্নবাবু। ট্রেড ইউনিয়নের লিডার ছিলেন। রিটায়ারমেন্টের পর এখানে আছেন প্রফেশনাল কন্ট্রাক্টে, তাও বেশ কয়েক বছর হয়ে গেল। কালীপ্রসন্নবাবুদের আদি বাড়ি ছিল বর্তমান বাংলাদেশের বরিশালে। অনেক ছোটবেলা থেকে কলকাতায় আছেন। কথাবার্তায় ওদেশী টান এখনো কিন্তু স্পষ্ট। তাঁর স্ত্রী এ দেশীয় এবং প্রচুর প্রতিপত্তিশালী পরিবারের মেয়ে। শ্বশুরবাড়ির সমস্ত সম্পত্তির একমাত্র অধিকারীনি। তবে সেসব নিয়ে কালীপ্রসন্নবাবুর বিশেষ মাথাব্যাথা নেই । নিজের উপার্জিত অর্থ উনি নিজের ইচ্ছে মত ব্যয় করেন। তার প্রায় সবটাই বোধহয় দান খয়রাতে বেরিয়ে যায় । এ ছাড়া তাঁর কোন বাজে খরচ নেই। মেয়ে বড়, তাঁর বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। ছেলে ছোট। প্রচণ্ড মেধাবী, ভাল গান গায়। কলেজে পড়ছে। এক কথায় নিশ্চিন্ত জীবন বলা যেতেই পারে।
টেবিল গোছানো হয়ে গেছে। অফিসের ক্যান্টিনে কুন্তলের টিফিন বক্সটা পড়ে আছে । আনতে হবে । কালকের কি কাজ আছে একটা নোট প্যাডে লিখে রাখছিল । এই অভ্যসটা রপ্ত করার চেষ্টা করছে কুন্তল । মাথা নিচু করে ভাবছিল আর লিখে যাচ্ছিল ।
স্যার, কাল টিফিন আনবেন না ।
মুখ তুলে তাকালো কুন্তল ।
চা নিয়ে এসেছে প্রসাদ। সাথে কুন্তলের টিফিন বক্স।
প্রসাদ এসময়ে রোজই এককাপ চা নিয়ে আসে।
কালীপ্রসন্নবাবু কাল সবাইকে খাওয়াবেন।
কালীপ্রসন্নবাবু প্রায়ই খাওয়ান। এবার কি উপলক্ষ্যে খাওয়াবেন?
জানা গেল, ছেলে পরীক্ষায় খুব ভাল ভাবে পাশ করেছে তাই।
দু বছর কেটে গেছে। অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। কুন্তল তার ভালবাসার সাথে ঘর বেঁধেছে। অফিসের কাজে এক বছরের জন্য বাইরে ট্রান্সফার হয়েছিল ওর। আজই আবার হেড অফিসে ফিরে এসেছে। সিঁড়ি দিয়ে ওঠার মুখেই একটা গন্ধ ভেসে এল নাকে। অফিসের ক্যান্টিন থেকে আসা এই গন্ধটা খুবই পরিচিত । প্রসাদ, নেপাল ওরা রান্না করছে অবধারিত । অসাধারণ রান্নার হাত ওদের । অফিসে যে কোনোও উপলক্ষ্যে সবারই পছন্দ। বাইরের হোটেল রেস্টুরেন্ট থেকে আনা খাবার কারো পছন্দ নয় । আজ আবার কি প্রোগ্রাম কে জানে।
গেট দিয়ে ঢুকতে না ঢুকতেই। সামনে নেপাল, এক মুখ হাসি নিয়ে বলল।
খুব ভাল দিনে এসে গেছেন স্যার। একদিন পরে এলে মিস করে যেতেন।
প্রসাদ পাশ থেকে প্রশ্ন করল, স্যার টিফিন আনেন নি তো?
টিফিন আজ আনা হয় নি। অনেক দিন পর বাড়ি থেকে অফিস আসছি তো। দু একদিন সময় লাগবে। কিন্তু, আজ কি উপলক্ষ্য?
কালীপ্রসন্নবাবুর ছেলে আবারও একটা পরীক্ষা পাশ করেছে তাই।
গত দু বছরে কুন্তল অনেক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে। অনেক কিছু বুঝতে শিখে গেছে।
একটা হিসেব আজ মেলাতে পারছিল না। এক বছর বাদে অনেক নতুন মুখ দেখতে পেল অফিসে কুন্তল। পুরনো প্রায় সকলেই আছে। সবার সাথে কথা বলতে বলতে সময়টা যেন কোথা দিয়ে কেটে গেল।
দুপুরে খাওয়া দাওয়া শেষ করে কুন্তল গিয়ে বসল তাঁর পুরোনো জায়গায়। কালীপ্রসন্নবাবুর পাশে। অফিসটা এখন ফাঁকা। সবাই লাঞ্চ শেষ করে এখনো ফেরে নি।
ফোঁকলা দাতে একমুখ হাসি কালীপ্রসন্নবাবু দিয়ে বললেন – আয় বোস। কতদিন বাদে তোকে দেখলাম।
কেমন আছেন স্যার?
ভাল আছি । তুই কেমন আছিস বল? তারপর বললেন, এক বছরে তোর হিসেবে কোন গন্ডগোল ধরতে পারলাম না। একবার একটা সামান্য  ভুল পেয়েছিলাম, তাঁর পরের বারই সেটা ঠিক করে পাঠিয়ে দিলি? তুই খুব পাজী। একটা নোট দেওয়ার সুযোগ দিলি না আমাকে!
কুন্তলের পাঠানো স্টেটমেন্ট গুলো কালীপ্রসন্নবাবুই অডিট করতেন।

সবই ঠিক আছে স্যার। কিন্তু আমি একটা হিসেব কিছুতেই মেলাতে পারছি না।
তোর আবার কি হিসেব মিলছে না? কালীপ্রসন্নবাবু হেসে জিজ্ঞেস করলেন’
শুভ কে স্যার? কুন্তল কোন ভূমিকা না করেই প্রশ্ন করল।
কালীপ্রসন্নবাবু যেন একটু চমকে উঠলেন।
টেবিল থেকে চশমাটা চোখে দিয়ে কুন্তলের দিকে একটু সতর্কতার সাথে তাকালেন। মুখের হাসিটা একটু ম্লান হয়ে গেছে?
কেন বলতো?
এমনি। বলুন না। শুভ কি আপনার ছেলের নাম?
কুন্তলের প্রশ্নে কালীপ্রসন্নবাবু একটু বিমর্ষ হয়ে গেলেন।
শুভব্রত, ভাল নাম । ডাক নাম শুভ । তুই জানলি কি ভাবে? এখানে কাউকে তো আমি বলি নি। কেউ জানতেই চায় নি কোনও দিন।
আপনি এখনো জোরে জোরে চিন্তা করেন স্যার? কুন্তল আবার প্রশ্ন করল।
কালীপ্রসন্নবাবুর মুখে একটু ম্লান হাসি।
একটু সময় কি যেন ভাবলেন। তারপর যেন ধরা পড়ে গেছেন, এমন একটা মুখের ভাব করে বললেন – তুই শুনে ফেলেছিস?
কুন্তল একটু চুপ করে থেকে বলল -আমি তো অনেকদিন আগেই আপনার মুখ থেকেই শুনেছি।
আর কি কি বলেছি আমি? মাথাটা নিচু করে কালীপ্রসন্নবাবু জিজ্ঞেস করলেন।
এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে কুন্তল অন্য কথা বলল।
একই উপলক্ষে আপনি আর কত বার সবাইকে খাওয়াবেন স্যার? আমার হিসেব বলে, আপনার ছেলের অন্তত দু বছর আগেই পাশ করে যাওয়ার কথা। তাই না?
কালীপ্রসন্নবাবু যেন পাথরের মূর্তিতে পরিণত হয়ে গেছেন। স্থির হয়ে বসে আছেন।
কুন্তল ভাবছিল, কথাটা না বললেই বোধহয় ভাল হোত। কি প্রয়োজন ছিল কথাটা বলার?
কালীপ্রসন্নবাবু খুব ধীর গতিতে মাথাটা তুলে কুন্তলের দিকে ঘুরে তাকালেন।
চশমার মোটা কাঁচের ভেতর দিয়েও দেখা যাচ্ছিল বৃদ্ধের জলে ভরা দুটো করুণ চোখ।
তুই এখানে কাউকে কিছু বলিস নি তো?
না স্যার। বলার হলে অনেক আগেই তো বলতে পারতাম। এখন মনে হচ্ছে আপনাকেও এসব না বললেই ভাল হোত। আমার খুব খারাপ লাগছে।
বৃদ্ধ একটু কাছে ঝুঁকে কুন্তলের দুটো হাত চেপে ধরলেন।
আমার ছেলেটা সত্যি খুব ভাল রে। আজ অবদি যন্ত্রণাটা বুকের ভেতর জমে ছিল। ভাল হল, জমে থাকা দুঃখটাকে আজ তুই টেনে বের করে দিলি। দুঃখ টা দূর হওয়ার নয়। কোনোদিনই নয়। কিন্তু তোকে সব বলতে পারলে আমার মনটা একটু হলেও হালকা হবে। সব কথা তো সবাই শুনতে চায় না। বুঝতেও পারে না। আর জানতেও চায় না। আমি তোকে সব বলছি।অনেক কিছুই বলেছিলেন সেদিন কালীপ্রসন্নবাবু।মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে স্টার মার্কস পেয়েছিল শুভব্রত। জয়েন্ট পরীক্ষা দিয়ে মেডিকেল আর ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রবেশিকায় দুটোতেই খুব ভাল ফল করে। কিন্তু ফিজিক্স অনার্সে কলেজে ভর্তি হয়, থাকতো হস্টেলে। ভালই চলছিল। প্রথম সেমিস্টারের পর কি যে হল, হঠাৎ একদিন রাতে বাড়ি চলে এল। আর ফিরে গেল না। নিজের ঘরেই দরজা বন্ধ করে বসে থাকত বেশ কিছু দিন। পরবর্তী কালে ঘরের দরজা খুলে রাখলেও বাড়ি থেকে বেরোয় না। কলেজে হস্টেলে খোঁজ নিয়েও কিছু কারন খুঁজে পাওয়া যায় নি। কোন অ্যাফেয়ার ছিল না। ছেলেটা আর ভাল করে কথাও বলে না। গানের গলা ছিল ভাল। সব যেন ভুলে গেছে। মানসিক রোগের চিকিৎসা করিয়েছেন অনেক দিন। কোন লাভ হয় নি।

কথা বলতে বলতে বৃদ্ধের গলার স্বর অবরুদ্ধ হয়ে আসছিল বার বার। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এক পিতা, তাঁর জীবনকালের যোগ বিয়োগ নিয়ে বিভ্রান্ত, অসহায়। সন্তান চোখের সামনেই আছে, অথচ তাঁর ধরা ছোঁয়ার বাইরে। সময়ের সাথে সাথে এই ব্যাপারটা মানিয়ে নিচ্ছিলেন অনেক কষ্টে। খাওয়া পড়া নিয়ে তো দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। কিন্তু যার জন্য এসব চিন্তা করা, সে তো আর নিজের মধ্যেই নেই। সে যে সর্বক্ষণ কোন জগতে বিচরন করে তার হদিশ দেবে কে? সে তো নির্বাক। অথচ তাকে অপ্রকৃতিস্থ, উন্মাদ বা মানসিক রোগগ্রস্ত বলার কোন জায়গা নেই। অন্তত চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় তো নয়ই। চিকিৎসকদের ধারণা, এটা এক প্রচণ্ড মানসিক আঘাতের প্রতিক্রিয়া, যা হয়ত নিজে থেকেই এক সময় সেরে যেতে পারে। কিন্তু সেটা কত দিনে সম্ভব?
কালীপ্রসন্ন বাবু আর কিছুই চান না। শুধু একটু কথা বলতে চান। সন্তানের মনে যে কষ্ট বা বেদনা, তার খনিকটা ভাগ নিজে পেতে চান। একটু সান্যিধ্য পেতে চান। কিন্তু পান না। কোন অভিমান থেকে আজ তাঁর সন্তানের এই পরিস্থিতি তার উত্তর কালীপ্রসন্নবাবু খুঁজে বেড়ান নিজেরই মনে মনে। তাঁর বিশ্বাস , তাঁর একা একা কথা বলাটাই তাঁর সন্তানের অন্তরাত্মার সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। এভাবেই একদিন শুভও হয়ত কথা বলতে শুরু করবে…

♦—♦♦—♦♦—♦


❤ Support Us
ভেসে যায় নধরের ভেলা, ভেসে যায় বেহুলা পা | র্স | পে | ক্টি | ভ রোব-e-বর্ণ
ঈশানবঙ্গের শক্তি পা | র্স | পে | ক্টি | ভ রোব-e-বর্ণ
error: Content is protected !!