- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৫
জুবিন গর্গের মৃত্যু ! সন্দেহ-ষড়যন্ত্রের আবহে হেমন্তর আশ্বাস, প্রয়োজনে নেওয়া হবে সিবিআই-র সহায়তা
সিঙ্গাপুরের সাগরে আচমকাই ডুবে মৃত্যু ঘটেছে অসমের সাংস্কৃতিক জগতের মুকুটহীন সম্রাট জুবিন গর্গের। নিছকই দুর্ঘটনা ? নাকি রয়েছে তার অন্তরালে রয়েছে ষড়যন্ত্র? এসব প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে অসমের প্রতিটি কোণায়। শিল্পীর মৃত্যু-পরবর্তী প্রথম সপ্তাহ পার হতেই রীতিমতো আগুন ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যে। অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মাঝে তদন্তভার পেয়েছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম। আর সে তদন্তে গতি না এলে, সরাসরি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই-এর হাতে তদন্তভার তুলে দেবার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
বৃহস্পতিবার, তদন্তে নতুন মোড় এনে গ্রেফতার করা হয়েছে গায়কের দীর্ঘদিনের সঙ্গী ও ব্যান্ডসদস্য শেখরজ্যোতি গোস্বামীকে। সিঙ্গাপুরে সমুদ্রস্নানের সময় গায়কের সঙ্গে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম শেখরই ছিলেন সেই ব্যক্তি, যিনি জুবিনকে জল থেকে তোলেন এবং সবার আগে জানান গায়কের শারীরিক অবস্থা কেমন ছিল। তদন্তকারীরা তাঁকে একাধিকবার জেরা করে শেষমেশ তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।তদন্তে গতি আনতে জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা এবং উত্তর-পূর্ব ভারত উৎসবের মূল আয়োজক শ্যামকানু মহন্তর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তবে এ তল্লাশি ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। ধীরেনপাড়ায় সিদ্ধার্থ শর্মার বাড়ির সামনে বিক্ষুব্ধ জনতার জমায়েত শুরু হয়। এক সময় শিট-র গাড়িতে হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় আহত হন বেশ কয়েকজন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে, তদন্ত ঘিরে সমাজমাধ্যমে বারবার ছড়িয়ে পড়ছে গুজব, তৈরি হচ্ছে উত্তেজনা। এই আবহে হিংসা ও উত্তেজনায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করেছে ২ সোশ্যাল মিডিয়া প্রভাবশালী ভিক্টর দাস ও অজয় ফুকনকে। প্রশাসনের অভিযোগ, এঁরাই তাঁদের পোস্টের মাধ্যমে উত্তেজনা ছড়িয়েছেন, যার ফলেই শোকাতুর জনতা আইন হাতে তুলে নিচ্ছে। তবে, এত কিছুর মধ্যে রহস্য জিইয়ে রেখেছে একটি প্রশ্ন—জুবিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কোথায়? সূত্রের খবর, সেটি এখনো ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মার কাছেই রয়েছে। যদিও জুবিনের অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, যেমন জামাকাপড় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী, গর্গ পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে অসম পুলিশ।
জুবিনের মৃত্যু শুধু সংগীতপ্রেমীদের নয়, গোটা রাজ্যের মনে গভীর শোক তৈরি করেছে। সে আবেগেরই প্রতিফলন দেখা গেল আরো একটি মর্মান্তিক ঘটনার মাধ্যমে। এদিন শরাইঘাট সেতুর উপর দাঁড়িয়ে এক যুবক হঠাৎ চিৎকার করে ওঠেন, ‘জয় জুবিনদা!’, তারপর সঙ্গে সঙ্গে ব্রহ্মপুত্রে ঝাঁপ দেন। পুলিশ পরে তাঁর দেহ উদ্ধার করে। জুবিনপ্রেমের এমন চরম পরিণতি নাড়িয়ে দিয়েছে অসমবাসীকে। আবেগঘন মুহূর্তে জুবিনের পরিবার জানিয়েছে, তাঁর শেষ ছবি ‘রৈ রৈ বিনালে’ মুক্তি পাবে ৩১ অক্টোবর। এই ছবির গান ও অভিনয় আগেই শেষ করেছিলেন জুবিন, তবে কিছু ডাবিংয়ের কাজ এখনো বাকি ছিল। গায়কের শেষ ইচ্ছানুযায়ী, ছবি মুক্তির তারিখ ঠিক হয়েছে অক্টোবরের শেষ দিনে। পরিবার জানিয়েছে, ‘এ ছবি আমাদের কাছে শুধু একটা সিনেমা নয়, ওঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি।’
অন্যদিকে, শ্যামকানু মহন্ত এক গোপন যায়গা থেকে ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে দাবি করেছেন, তাঁর জীবনের উপর বিপদ ঘনিয়ে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, ‘গুয়াহাটি ফিরলেই আমায় মেরে ফেলা হতে পারে বলে হাজার হাজার হুমকি পাচ্ছি। কিন্তু আমি জুবিনের মৃত্যুর ঘটনায় কোনো ভাবেই জড়িত নই। আমি কেবলমাত্র সুবিচার চাই, এবং আদালতের কাছে নিরাপত্তার আবেদন জানাই।’ শ্যামকানুর দাবি ঘিরেও শুরু হয়েছে বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমি বহু আগেই জুবিনকে বলেছিলাম, কিছু লোক ওঁর জনপ্রিয়তাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। শ্যামকানু তাদের অন্যতম।’ সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে রাজনীতিও চরমে উঠেছে। বিরোধী দল কংগ্রেস, অসম জাতীয় পরিষদ, এবং রাইজ়র দল একযোগে দাবি জানিয়েছে, অবিলম্বে জুবিন গার্গের মৃত্যুর ঘটনার সিবিআই তদন্ত শুরু হোক এবং তা ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে বিচারাধীন থাকুক। অসম জাতীয় পরিষদেরর তরফে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ তদন্ত চাওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, যেহেতু ঘটনা ঘটেছে বিদেশে, অসম পুলিশের নিজস্ব তদন্তে সীমাবদ্ধতা থাকছেই, ফলে সিবিআই ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি। প্রবল চাপ ও বিতর্কের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা আবারও জনতাকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘শিট-কে তদন্তের সুযোগ দিন। যদি সাধারণ মানুষ তদন্তে সন্তুষ্ট না হন, আমরা অবশ্যই এই মামলা সিবিআই-এর হাতে তুলে দেব। আমরা চাই সত্য সামনে আসুক। আদালতে বিচার পেতে হলে আবেগ নয়, তথ্য ও প্রমাণ চাই। তাই তদন্তকে দিশাহীন করে তোলা যাবে না।’
❤ Support Us








