- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১৩, ২০২৫
উরি সীমান্তে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ! জঙ্গি অনুপ্রবেশে পাক মদতের অভিযোগ, গুলির লড়াইয়ে শহিদ ভারতীয় সেনা জওয়ান
উরির জঙ্গলে রাতের নিস্তব্ধতা চিরে ছুটে এলো গুলির শব্দ। কুয়াশা ঘেরা পাহাড়ি পথ ধরে সীমান্তের ওপার থেকে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করছিল একদল সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী। ভারতীয় সেনা বাধা দিতেই শুরু হয় গুলির লড়াই। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এক জওয়ানকে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। সেনা সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে জম্মু-কাশ্মীরের উরি সেক্টরে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়। তবে এটি কোনো সাধারণ অনুপ্রবেশের ঘটনা নয়। ভারতীয় সেনার দাবি, অনুপ্রবেশকারীদের দিকে থেকে গুলি ছোঁড়া হচ্ছিল পাকিস্তানের সেনা চৌকি থেকেই। অর্থাৎ, অনুপ্রবেশে স্পষ্ট মদত ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর।
সেনা সূত্রে খবর, এ ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে থাকতে পারে পাকিস্তানের ‘বর্ডার অ্যাকশন টিম’। সেনা আধিকারিকদের মতে, এ বাহিনী মূলত পাকিস্তান সেনা ও জঙ্গি সংগঠনগুলির মিশ্র একটি বিশেষ ইউনিট, যাদের কাজ হল নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর কখনো লুকিয়ে, কখনো ঘন কুয়াশার আড়ালে কিংবা রাতের অন্ধকারে ভারতীয় সেনার উপর হামলা চালানো। এদিন, ভারতীয় সেনা দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলে। গুলির লড়াই চলে বেশ কিছুক্ষণ। তবে খারাপ আবহাওয়া এবং কঠিন ভূপ্রকৃতির সুযোগ নিয়ে অনুপ্রবেশকারীরা পালাতে সক্ষম হয়। জানা যাচ্ছে, এই মূহুর্তে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান চলছে। তবে, এ অবধি সেনার তরফে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি, তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে দিল্লিতে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার খবর মিলেছে।
এমন এক সময়ে এই ঘটনা ঘটল, যখন ‘অপারেশন সিঁদুর’ প্রতিবেশি দু-দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত। পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন নিরীহ মানুষের মৃত্যুশোক কাটিয়ে দেশ আবার সজল-সবল হয়ে উঠছে। কিন্তু উরির এই অনুপ্রবেশ সেই শীতলতা ভেঙে ফের উত্তপ্ত করে তুলল নিয়ন্ত্রণরেখা। অন্যদিকে, সেনা সংঘর্ষের আবহেই ফের বিতর্কে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। সম্প্রতি আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, ‘যদি পাকিস্তান অস্তিত্ব সংকটে পড়ে, তবে আমরা অর্ধেক পৃথিবীকে শেষ করে দেব।’ এ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত। পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেছেন, ‘এ ধরনের পারমাণবিক হুমকি পাকিস্তানের পুরোনো কৌশল। এতে শুধু তার পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়, যা গোটা বিশ্বের উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত।’ নয়াদিল্লি জানিয়েছে, ‘ভারত কখনো যুদ্ধ চায় না, কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। পারমাণবিক ব্ল্যাকমেল বরদাস্ত করা হবে না।’ বিশ্লেষকদের মতে, এটি নিছক সীমান্ত সংঘর্ষ নয়, বরং কূটনৈতিক স্তরে ভারতের ওপর চাপ তৈরি করার কৌশল হতে পারে। বিশেষত, আন্তর্জাতিক মহলের চোখ যখন পাক অধিকৃত কাশ্মীর ও ভারতের পাল্টা স্ট্রাইক নিয়ে, তখন এ ধরনের উসকানি সংঘর্ষ বাড়ানোর উদ্দেশ্য নিয়েই করা হয়েছে বলেই ধারণা।
❤ Support Us






