Advertisement
  • দে । শ
  • মার্চ ১৭, ২০২৬

জেল মুক্তির পর কেন্দ্রের বিরুদ্ধে নরম সুর ওয়াংচুক-এর। কোন পথে লাদাখ আন্দোলনের ভবিষ্যৎ ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জেল মুক্তির পর কেন্দ্রের বিরুদ্ধে নরম সুর ওয়াংচুক-এর। কোন পথে লাদাখ আন্দোলনের ভবিষ্যৎ ?

কয়েক মাসের কারাবাসের পর অবশেষে মুক্তি। আর মুক্তির পরই বিদ্রোহের সুরে স্পষ্ট পরিবর্তন। লাদাখের রাজনৈতিক দাবি-দাওয়া নিয়ে আপাতত সংঘাত নয়, বরং আলোচনার পথেই সমাধান খুঁজতে চাইছেন জলবায়ু আন্দোলনকারী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুক। কেন্দ্রের সঙ্গে ‘দেওয়া-নেওয়া’র ভিত্তিতে এগোনোর ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলছেন, লক্ষ্য একটাই—পাহাড়ের উন্নয়ন।

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (এনএসএ) অধীনে আটক ছিলেন ওয়াংচুক। লেহ-তে প্রতিবাদের জেরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, তাঁর উস্কানিতেই বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছিল। পরে সরকারই আটকাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে মুক্তির পথ খুলে যায় তাঁর। মুক্তির পর সোমবার মুখ খুলে ওয়াংচুক জানালেন, আদালতে লড়াইয়ের প্রস্তুতি তাঁর ছিলই। কিন্তু সরকারের পদক্ষেপে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের প্রয়োজন পড়ল না। বরং আলোচনার পথেই এগোনো এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন তিনি।

লাদাখের মূল দাবি ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্তি এবং পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা। তবে দু-টির মধ্যে আপাতত একটি পেলেও চলবে, এমনই নমনীয় অবস্থান নিলেন ওয়াংচুক। তিনি বলেছেন, ‘কেন্দ্র যদি কিছু চায়, আমাদেরও কিছু পাওয়া উচিত। একতরফা ক্ষতি যেন না হয়।’ এ মন্তব্যেই স্পষ্ট, দীর্ঘদিনের অনমনীয় অবস্থান থেকে খানিকটা সরে এসে বাস্তবসম্মত সমাধানের খোঁজে তিনি। যদিও তাঁর এই অবস্থান ‘অ্যাপেক্স বডি লেহ’ বা ‘কার্গিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স’-এর অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। ওই সংগঠনগুলি বরাবরই বলে এসেছে, ষষ্ঠ তফসিল ও পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা, দুটিই ‘নন-নেগোশিয়েবল’।

তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সোনম দেখছেন একটি ইতিবাচক দিক। সরকারের তরফে সংলাপের ইঙ্গিতকে ‘আস্থার হাত বাড়ানো’ বলেই ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ‘আমরা লড়ছি, প্রতিবাদ করছি, লাদাখ থেকে দিল্লি পর্যন্ত হেঁটেছি। মানুষ তো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই চেয়েছে।” অন্যত্র যেখানে সংঘাত ক্রমে সহিংসতায় গড়ায়, সেখানে এ পরিস্থিতিকে তিনি ভিন্ন দৃষ্টান্ত হিসেবেই দেখছেন। নিজের মুক্তির পেছনে কোনও ‘ডিল’ ছিল কি না, সে জল্পনাও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর আন্দোলন ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, লাদাখবাসীর অধিকারের জন্য। প্রয়োজনে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় গঠিত কোনও উচ্চপর্যায়ের কমিটিতেও তিনি থাকতে প্রস্তুত।

কারাবাসের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন ওয়াংচুক। তিনি জানান, গ্রেফতারের সময় মৌলিক অধিকারও লঙ্ঘিত হয়েছে, ফোন করার সুযোগ পাননি। যদিও জেলকর্মীদের মানবিক আচরণের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগে কিছু সমস্যার কথা জানান। তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো-কে দিল্লি গিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। সে সময় তাঁকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। তবে অতীতের তিক্ততা আঁকড়ে ধরে থাকতে রাজি নন ওয়াংচুক। বরং নতুন করে আস্থা গড়ে তোলার পক্ষে সওয়াল করছেন। তাঁর কথায়, ‘আলোচনা মানেই দেওয়া-নেওয়া। উভয় পক্ষকেই কিছুটা ছাড় দিতে হয়।’ এখন তাঁর লক্ষ্য, লাদাখে ফিরে স্থানীয় সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনায় বসা। ‘অ্যাপেক্স বডি’ ও ‘কেডিএ’-র সঙ্গে কথা বলেই পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা রেখেই পরিবেশকর্মী জানিয়েছেন, জেল অভিজ্ঞতা তাঁর বিশ্বাসকে আরও মজবুত করেছে। পাশাপাশি লাদাখের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ‘অর্থহীন মামলা’ প্রত্যাহারের দাবিও তুলেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এমনকি রক্তদান করতে যাওয়া মানুষকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, গীতাঞ্জলি আংমো লাদাখের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, আত্মনির্ভরতা, পরিবেশরক্ষা ও তৃণমূল ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে লাদাখ দেশকে পথ দেখাতে পারে, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই।

অহিংস আন্দোলনের পথেই আস্থা রাখছেন ওয়াংচুক। নিজেকে গান্ধীবাদী বলে দাবি করে তিনি জানিয়েছেন, অনশন তাঁর প্রথম পছন্দ নয়, তবে প্রয়োজনে সে পথেও হাঁটতে পারেন। অভিযোগ-প্রতিআভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আদালতে বহু বিষয়ই ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই অতীত ভুলে সামনে তাকাতেই আগ্রহী তিনি। তবে জেলে কাটানো সময়ে একটি বিষয় তাঁকে নাড়া দিয়েছে বন্দিদের সামাজিক বাস্তবতা। সোনম জানান, ‘প্রায় ৭০ শতাংশ বন্দিই দরিদ্র শ্রেণির, এটা অস্বস্তিকর। পরিবর্তন দরকার।’ একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘যদি আমি দেশদ্রোহী হতাম, তবে আমাকে ছাড়া হত না’। লাদাখবাসীকে ‘দেশবিরোধী’ তকমা দেওয়া হয়েছে, এর বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!