- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মার্চ ১৪, ২০২৬
৬ মাস পর মুক্তির পথে পরিবেশকর্মী সোনম । আটকের সিদ্ধান্ত বাতিল, বিবৃতিতে ব্যাখ্যা দিল কেন্দ্র
প্রায় ৬ মাসের বন্দিজীবনের পর অবশেষে মুক্তির পথে লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা আটকাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। শনিবার এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানায়, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং লাদাখে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লাদাখে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সে পরিবেশ গড়ে উঠলেই সমস্ত পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ আলোচনা সম্ভব হবে। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই যথাযথ বিবেচনার পর ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট’-এর অধীনে সোনম ওয়াংচুককে আটক রাখার নির্দেশ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর লেহ জেলার প্রশাসকের নির্দেশে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় ওয়াংচুককে আটক করা হয়েছিল। তার কয়েক দিন আগেই লাদাখে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাজ্যের মর্যাদা এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবিতে ২৪ সেপ্টেম্বর অঞ্চল জুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলন ঘিরে হিংসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশের গুলিতে ৪ জনের মৃত্যু হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য-সহ প্রায় ৫০ জন আহত হন। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেয়। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছিল, ওই সময়ে ওয়াংচুকের কিছু বক্তব্য ও মন্তব্য জনতার মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছিল এবং তার জেরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সে কারণেই জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে তাঁকে আটক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আটক করার পর তাঁকে রাজস্থানের জোধপুরের একটি কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়, যেখানে তিনি গত কয়েক মাস ধরে বন্দি ছিলেন।
কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে অনুমোদিত আটককালীন সময়ের প্রায় অর্ধেক ইতিমধ্যেই কাটিয়ে ফেলেছেন ওয়াংচুক। পাশাপাশি লাদাখের মানুষের দাবি ও উদ্বেগের বিষয়গুলি নিয়ে সরকার নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা বন্ধ ও বিক্ষোভের আবহে লাদাখের স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে বলেও স্বীকার করেছে কেন্দ্র। সরকারি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ছাত্রছাত্রী, চাকরিপ্রার্থী, ব্যবসায়ী, পর্যটন সংস্থা এবং পর্যটকদের উপর। বিশেষ করে পর্যটননির্ভর অর্থনীতির ক্ষেত্রে এই অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে বলেই জানিয়েছে সরকার। সরকার জানিয়েছে, লাদাখের মানুষের স্বার্থরক্ষায় প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ব্যাপারে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অঞ্চলটির দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনার জন্য গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি এবং অন্যান্য উপযুক্ত আলোচনামঞ্চের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
সেই প্রেক্ষাপটে লাদাখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে এনে পারস্পরিক আস্থা ও সংলাপের পরিবেশ তৈরি করাকে জরুরি বলে মনে করছে কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য, স্থিতিশীল পরিবেশ গড়ে তুলতে পারলেই সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার পথ সুগম হবে। সেই কারণেই সোনম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে জারি করা আটকাদেশ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সোনমকে মুক্তির সিদ্ধান্তের সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ওয়াংচুকের আটকাদেশকে চ্যালেঞ্জ করে তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, বেআইনি ভাবে ওয়াংচুককে আটক রাখা হয়েছে এবং তাঁর বক্তৃতার ভুল ব্যাখ্যা করে কেন্দ্র সরকার ওই পদক্ষেপ নিয়েছে। ওই মামলায় তাঁদের পক্ষে সওয়াল করছিলেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল।
মামলার শুনানির সময় কেন্দ্রের তরফে আদালতে দাবি করা হয়েছিল, নেপাল ও বাংলাদেশের মতো ভারতেও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বৃহৎ আকারের বিক্ষোভ গড়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছিল এবং সে প্রচেষ্টায় ওয়াংচুকের ভূমিকা ছিল বলে তাদের সন্দেহ। তবে ওই যুক্তি নিয়ে প্রশ্নও তুলেছিল আদালত।মামলাটি এখনও বিচারাধীন রয়েছে শীর্ষ আদালতে। বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও পি.বি ভারালের -এর বেঞ্চ আগামী ১৭ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। আদালত জানিয়েছিল, ওই দিনই চূড়ান্ত ভাবে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। কিন্তু সেই শুনানির আগেই কেন্দ্র সরকারের তরফে আটকাদেশ প্রত্যাহারের ঘোষণা করা হল। এর ফলে আইনি লড়াই চলতে থাকলেও কার্যত ৬ মাসের বন্দিজীবনের পর মুক্তির পথে লাদাখের এই পরিবেশকর্মী।
❤ Support Us






