Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৫

কেন্দ্রের গ্রেট নিকোবর প্রকল্পে পরিবেশ ও জনজাতি সংকটের আশঙ্কা ? সংবিধান ও আইন লঙ্ঘন, মোদি সরকারকে বিঁধলেন সোনিয়া

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কেন্দ্রের গ্রেট নিকোবর প্রকল্পে পরিবেশ ও জনজাতি সংকটের আশঙ্কা ? সংবিধান ও আইন লঙ্ঘন, মোদি সরকারকে বিঁধলেন সোনিয়া

কেন্দ্রের ৭২ হাজার কোটি টাকার ‘হোলিস্টিক ডেভেলপমেন্ট অব গ্রেট নিকোবর’ প্রকল্প নিয়ে মোদি সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কংগ্রেস চেয়ারপার্সন, সাংসদ সোনিয়া গান্ধি। কটাক্ষের সুরে বললেন, ‘এ এক পরিকল্পিত দুঃসাহসিকতা।’ তাঁর অভিযোগ, প্রকল্পের নামে কেন্দ্র সরকার দ্বীপ এলাকার পরিবেশকে সংকটের মুখে ফেলছে, ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে শম্পেন ও নিকোবারিজ জনজাতিকে। দেশের সংবিধান ও আইনকে সরাসরি অমান্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

সম্প্রতি, ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে সোনিয়া গান্ধি লিখেছেন, ‘যেখানে এক দিকে উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে অন্য দিকে দেশের এক অতি-দুর্বল জনজাতির অস্তিত্বই মুছে যেতে বসেছে। এটি কোনোভাবেই উন্নয়ন নয়, বরং চূড়ান্ত অন্যায়, অপরাধ।’ সনিয়া জানান, কেন্দ্রের এর প্রকল্পের জন্য যে বিশাল পরিমাণ জমি নির্ধারিত হয়েছে, তাতে সরাসরি আদিবাসীদের বসতি ও জঙ্গল অধিগ্রহণ করা হবে। ২০০৪ সালের সুনামির পরে যাঁরা নিজেদের গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, তাঁরা এবার স্থায়ীভাবে উৎখাত হতে পারেন। প্রকল্পের খাতিরে শম্পেন ট্রাইবাল রিজার্ভের এক বড়ো অংশকে ‘ডিনোটিফাই’ করে সেখানে পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফলত, বনে-জঙ্গলে বসবাসকারী জনজাতিদের আর ফেরার পথ থাকছে না বলেই মত সনিয়ার। তাঁর আরো অভিযোগ, ‘সরকার কোনো রকম পরামর্শ না করেই, এক তরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছে। স্থানীয় ট্রাইবাল কাউন্সিল কিংবা শম্পেন জনগোষ্ঠীর কারো সঙ্গে কথা বলা হয়নি। আইন তো বটেই, ন্যায্যতার বালাইও এক্ষেত্রে নেই।’

পরিবেশগত বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিয়ে কংগ্রেস সাংসদ বলেছেন, ‘ এ প্রকল্পে প্রায় ৮.৫ লাখ থেকে ৫৮ লাখ গাছ কাটা পড়তে পারে। পুরনো রেইনফরেস্টের জায়গায় প্রতিস্থাপন বনায়ন করে প্রকৃত ক্ষতি পূরণ সম্ভব নয়।’ পাশাপাশি তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এর ফলে বহু বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি— যেমন নিকোবার লং-টেইলড ম্যাকাক বানর এবং সামুদ্রিক কচ্ছপ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। বিজ্ঞানসম্মত গবেষণা ছাড়াই পরিবেশগত সমীক্ষা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন সনিয়া। তাঁর অভিযোগ, ‘অফ-সিজনে, ভুল পদ্ধতিতে সমীক্ষা হয়েছে। রিপোর্টে প্রকৃত তথ্য গোপন করা হয়েছে। এমনকি উপকূলবর্তী অঞ্চলের নিয়ম এড়িয়ে যেতে এক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির সুপারিশকে ব্যবহার করা হয়েছে। সে রিপোর্ট আজও জনসমক্ষে আনা হয়নি।’ তবে শুধু পরিবেশ নয়, ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হওয়ার কারণে এ প্রকল্প গোটা ভৌগলিক ভূখণ্ডে বড়োসড়ো বিপদ ডেকে আনতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন কংগ্রেস নেত্রী। তাঁর কথায়, ‘অর্থনীতি, প্রকৃতি ও প্রাণ, সবকিছুকেই সর্বোচ্চ হুমকির মুখে ফেলা হচ্ছে। দেশের আইনকে নিঃসংকোচে উপহাস করা হচ্ছে। আর মোদি সরকারের খামখেয়ালির মূল্য চোকাতে হবে দেশের সবচেয়ে দুর্বল জনজাতিকে।’

উল্লেখ্য, গ্রেট নিকোবর দ্বীপে ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্ট, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও এক নতুন টাউনশিপ তৈরির জন্য প্রায় ১৬০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে চলছে বিতর্কিত ‘হোলিস্টিক’ প্রকল্প। উন্নয়নের স্লোগান উঠলেও দিন দিন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে প্রবল বিরোধিতা। পরিবেশবিদ, আদিবাসী অধিকার কর্মী ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের এক বড়ো অংশের কেন্দ্রের ‘উন্নয়ন প্রকল্প’-এর বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন। এখন প্রশ্ন, সমালোচনার মুখে পড়ে মোদি সরকার কি আদৌ বিশাল এই পরিকল্পনা পিছিয়ে আসবে? না কি আন্দামানের প্রাচীন নিবিড় প্রকৃতির বিনিময়ে হবে একরোখা ‘উন্নয়নের’ ইট-কাঠের রাজত্ব?


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!