- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ২২, ২০২৫
এসআইআর নিয়ে মিথ্যা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে শাসকদল, নির্বাচনে এর জবাব দেবে মানুষ, মন্তব্য শমীকের
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি । ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় ২০০২ সালের ভোটার তালিকা অনুসারে ভোটার তালিকার ম্যাপিং ঘিরে বাড়ছে বিভ্রান্তি । বাদ গেছে বহু নাম । এপর্যন্ত ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে বর্তমান তালিকার মিল রয়েছে ৫২ শতাংশ । এপ্রসঙ্গে আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন,শাসকের মদতেই রাজ্য জুড়েই বহু মানুষের ভুয়ো আধার,রেশন,ভোটার কার্ড তৈরি হয়েছে । কুচক্রীরা বিপন্ন মানুষকে ভয় দেখিয়ে সীমান্তবর্তী গ্রামে ডোমেসাইল সার্টিফিকেট তৈরি করছে । মানুষকে প্রতারিত করছে । তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন যদি নির্ভুল ভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে, তবে রাজ্যের বহু ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ যাবে ।
দেশে হিন্দু শরনার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার প্রশ্নের উত্তরে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ বলেছেন, গান্ধি থেকে পন্ডিত নেহেরু, সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল পর্যন্ত, ভারতের প্রতিবেশী দেশের সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে এদেশে আশ্রয়ের কথা বলেছিলেন । কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকার দেশভাগ পরবর্তী সেই শরনার্থীদের আশ্রয়ের দায়িত্ব পালন না করে পাপ করেছে । তার প্রায়শ্চিত্ত করছে ভারতীয় জনতা পার্টি । এবিষয়ে তাঁর সংযোজন, প্রতিবেশী দেশগুলির কোথাও যদি হিন্দু, বৌদ্ধ, পার্সিদের কেউ নিপিড়িত হয়ে এদেশে আাশ্রয় চায়, তাদের ক্যাম্প করে, অর্থ সাহায্য করে এদেশে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়ে সহয়তা করবে বিজেপি । এটা তাদের দলের ঘোষিত নীতি । অর্থাৎ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায়, মুসলিম বাদে অন্য নিপিড়িত ধর্মীবিলম্বীদের আশ্রয় দেবেন তারা । তবে সেক্ষেত্রে কখনোই রোহিঙ্গা মুসলিম কিংবা অবৈধ অনু্প্রবেশকারীদের, এদেশের ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্তিকে রেয়াত করা হবে না বলে, স্পষ্টতই জানিয়েছেন তিনি । তিনি বলেছেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় রাজ্যের একজনও যোগ্য, বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না । এক্ষেত্রে হিন্দুদের পাশাপাশি, কোনো ভারতীয় মুসলিমদের নামও বাদ যাবে না বলেই আশ্বস্ত করেছেন তিনি ।
তাঁর অভিযোগ, এসআইআর এর নামে রাজ্যবাসীদের মনে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতে চায় রাজ্যের শাসকদল । তাদের ভয় ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে রাজ্যে অবাধ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে, মানুষ তৃণমূলকে বর্জন করবে । তিনি বলেছেন, মানুষের ভোটেই রাজ্যের আগামী নির্বাচনে শাসকদল পরাস্ত হবে । এই কাজে বিজেপি উপলক্ষ্য মাত্র । পাশাপাশি তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, কমিশনের দায়িত্ব ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরি করে, রাজ্যে সুষ্ঠভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা । রাজ্যের শাসকদলকে এপ্রসঙ্গে বিঁধে তার মন্তব্য, ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করে নিজেদের ভোট অক্ষুন্ন রাখতে চাইছে তারা । সংবিধানের বিরোধীতা করে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে । রাজ্যের ৬০০ বিএলওকে শোকজ নোটিশ পাঠানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ।
জনগনণার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত রাজ্য সরকারের তরফে কোনো নোটিশ জারি হয়নি, এপ্রসঙ্গে রাজ্যের বিজেপি সভাপতি বলেছেন, কারণ এই রাজ্যের সরকার সচেতন যে,রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবিন্যাস শুধু বদলায়নি,এই রাজ্যে যে আধার কার্ড আছে তা তার জনসংখ্যার থেকে বেশি । ভুয়ো তালিকা,জালি নথিগুলো থেকে দৃষ্টি সরাতেই শাসক দলের সরকার কোনো জন গনণার বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি । পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ দষ্কৃতীরা শাসকের পতাকার ছত্রছায়ায় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রদায়িক উসকানি দিচ্ছে । দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায় দেবীমূর্তি ভাঙার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তিনি বলেছেন, এধরনের কর্মকান্ড বরদাস্ত নয়, এতে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হবে । মা কালী আর দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করবে না,এবার মা কালী এবার মাথা কাটতে শুরু করবে ।
তৃণমূলের সাংসদ সাকেত গোখলে লোকপালের বহুমূল্যের গাড়ি কেনার সমালোচনা করে একটি পোস্ট করেছেন, সেখানে তিনি বলেছেন, দেশের দুর্নীতিদমন সংস্থা নিজেই বিলাসিতায় ডুবছে । এপ্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শমীক বলেছেন, তৃণমূল সাংসদদের উচিত পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে, সেখানকার পঞ্চায়েত প্রধানদের সম্পদবৃদ্ধির উৎস কী, তা আগে খতিয়ে দেখা ।
❤ Support Us






