- প্রচ্ছদ রচনা
- মার্চ ২২, ২০২২
রামপুরহাট ঘটনায় রাজনীতির যোগ নেই, নবান্নে বৈঠকের পর দাবি রাজ্য পুলিশের ডিজির ।
ফাইল ফটো: রাজ্য পুলিশের ডিজি মনোজ মালব্য।
রামপুরহাটের বগটুই গ্রামের শিশু,মহিলা-সহ ১০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিস। মঙ্গলবার সকাল থেকে এই মর্মান্তিক ঘটনায় রীতিমত শোরগোল পড়ে যায়। সোমবার রাতে উপপ্রধান খুনের পর মঙ্গলবার সকালের এই ঘটনায় স্বভাবতই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে জোরকদমে। তবে প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ দেখে রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তাদের মত, এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই। গ্রাম্যবিবাদের জেরে এতজনের মৃত্যু। তবে ঠিক কী কারণে এমনটা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে কাজ করছে সিট।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার রাতে। রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের বড়শাল গ্রামের উপপ্রধান ভাদু শেখের মৃত্যুকে ঘিরে । এরপর গভীর রাতে বগটুই গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে আগুন লাগায় দুষ্কৃতীরা হয়। তাতেই পুড়ে মৃত্যু হয়েছে এতজনের। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে দিনের শুরুতেই নবান্নে জরুরি বৈঠক হয়। ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি ও অন্যান্য শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরা। এরপরই সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্য পুলিশের ডিজি মনোজ মালব্য জানান, এই ঘটনার পিছনে রাজনীতির যোগ নেই। গ্রাম্য বিবাদ বা পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরেই এমনটা ঘটে থাকতে পারে। তবে সবটাই তদন্তসাপেক্ষ।
ডিজি আরও জানান, সাত-আটটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। একটি বাড়ি থেকেই ৭ জনের দগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২ জন শিশু ও ৬ জন মহিলা রয়েছেন। ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিট ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। ডিজির বক্তব্য নিয়ে একটা প্রশ্ন থাকছেই। সিটের প্রাথমিক রিপোর্টের আগেই তিনি রাজনীতির যোগ উড়িয়ে দিলেন কীভাবে।
তবে এ নিয়ে বিধানসভায় বিবৃতি দিয়ে রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। রাজ্যকে বদনাম করার জন্য এটি করা হয়েছে।’ মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে টুইটে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে ফের সরব হন। এ বিষয়ে মুখ্যসচিবের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন তিনি।
এদিকে ১০জনের মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের দ্বারস্থ হল বিজেপি। এই ঘটনায় গেরুয়া শিবিরের লিগাল সেলকে মামলা দায়ের করার অনুমতিও দিল কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের ডিভিশন বেঞ্চ। তবে বিজেপি এখনও কোনও মামলা দায়ের করেনি। এ বিষয়ে বিজেপির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ‘রামপুরহাট কাণ্ডে আদালত যাতে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে, তার আরজি জানিয়েছিলাম। কিন্তু আদালত এখনই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করতে রাজি নয়। তবে আমাদের মামলা করার অনুমতি দিয়েছে।’
রামপুরহাটের এই ঘটনায় বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর তরজা। একে অপরকে দায়ী করছেন নেতারা। জেলার তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের দাবি, রাতভর বোমাবাজি, অশান্তি হয়নি। ওখানে একটি বাড়িতে শর্ট সার্কিট হয়েছে, তাতেই মৃত্যু হয়েছে বাড়ির লোকেদের। ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, উপপ্রধান খুনের পর আদৌ ওখানে কী ঘটেছে, সে সম্পর্কে কেউ কিছুই জানে না। তদন্ত না হলে তা বলা সম্ভব নয়। তবে এতজনের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। এদিকে, বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যর দাবি, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা যে একেবারে ভেঙে পড়েছে, এই ঘটনা আবার তার প্রমাণ।
❤ Support Us









