- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- আগস্ট ৩, ২০২৬
গুরুতর অপরাধ না থাকলে মামলা প্রত্যাহারের স্বাধীনতা রাজ্যের : নিট আন্দোলনকারীদের এফআইআর নিয়ে স্পষ্ট বার্তা শীর্ষ আদালতের
ছাত্রবিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে কোনও ‘দুষ্কৃতী’ যেন আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিক্ষোভ দমনের নামে কোনো পুলিশকর্মী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকলে, তাঁর বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সোমবার মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণ করে।
গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত ছাত্র-যুব সংগঠনগুলি ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির ডাক দেয়। সেই কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ অপ্রয়োজনীয় এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিক্ষোভ চলাকালীন একাধিক পুলিশকর্মী আহত হওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকেও পাল্টা মামলা করা হয়েছে। দুই পক্ষের অভিযোগের গুরুত্ব স্বীকার করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘কোনো পুলিশকর্মী বাড়াবাড়ি করলে তাঁকে অযথা আড়াল করা উচিত নয়। আবার ছাত্রবিক্ষোভের আড়ালে কোনো দুষ্কৃতী পার পেয়ে যাচ্ছে— এমনটাও যেন না হয়।’ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, প্রকৃত ছাত্র-আন্দোলনকারী এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
‘নিট’ প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাসহ একাধিক দাবিতে আন্দোলন চালিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। পরবর্তীতে আন্দোলন প্রত্যাহারের সময় সংগঠনটির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করা। তবে আন্দোলন প্রত্যাহারের পরও সরকার সে প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি পালন করছে না বলে অভিযোগ তোলে সংগঠনটি এবং প্রয়োজনে ফের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দেয়। এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতে গুরুতর অপরাধের নজির থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে। এই পর্যবেক্ষণ নিয়ে আপত্তি জানান আন্দোলনকারীদের আইনজীবীরা। তাঁদের প্রশ্ন ছিল, কোন ধরনের অপরাধকে ‘গুরুতর’ হিসেবে ধরা হবে এবং শুধুমাত্র অতীতে কোনও অভিযোগ দায়ের হওয়াই কি মামলা বহাল রাখার জন্য যথেষ্ট হবে? রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বহু ক্ষেত্রেই ফৌজদারি মামলা দায়ের হয় এবং দেশের বহু সাংসদের বিরুদ্ধেও এমন মামলা রয়েছে— এই যুক্তিও আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়। এ বিতর্কের ব্যাখ্যা দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, শুধুমাত্র গুরুতর ও জঘন্য অপরাধের অভিযোগ থাকলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘এফআইআর’ প্রত্যাহার না করার বিষয়টি বিবেচিত হবে। সাধারণ বা রাজনৈতিক কারণে দায়ের হওয়া মামলাকে সেই শ্রেণিতে ফেলা যাবে না।
এর আগে আদালত বলেছিল, ইতিমধ্যেই দায়ের হওয়া এফআইআর-এর ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে যেতে রাজ্যগুলির কোনও বাধা নেই। তবে সোমবার আদালত আরও স্পষ্ট করে জানায়, এফআইআর প্রত্যাহারের বিষয়ে আইন অনুযায়ী স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাজ্য সরকারের রয়েছে। চাইলে তারা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার করতে পারে। তবে একমাত্র শর্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতে কোনও গুরুতর বা জঘন্য অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকা চলবে না। শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, ছাত্রদের বিরুদ্ধে এফআইআর প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে কেন্দ্র বদ্ধপরিকর। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে অতীতে গুরুতর ও জঘন্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, এমন প্রায় ২,৭০০ জনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে না।
এদিকে, আন্দোলনকারীদের উপরে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং পুলিশকর্মীদের উপরে হামলা— দুই ঘটনাতেই নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। আদালত জানিয়েছে, তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হতে পারে অথবা কোনও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন কমিটি তৈরি করা হতে পারে। আগামী ১৮ অগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানিতে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
❤ Support Us





