- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ৩, ২০২৬
লস্কর যোগ সন্দেহে এসটিএফের জালে তৃতীয় অভিযুক্ত, হাওড়া থেকে গ্রেফতার আদিত্য সিংহ
র্ধমান থেকে জঙ্গি যোগের সন্দেহে গ্রেফতার হওয়া হামিম মণ্ডল-কাণ্ডে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। সোমবার হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড এলাকা থেকে আদিত্য সিংহ ওরফে রাজ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, হামিমের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল, রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হামিমের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতেই আদিত্যকে আটক করে ‘এসটিএফ’। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সোমবার সকালে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। একই দিন তাঁকে বর্ধমান আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, হামিমের সঙ্গে আদিত্যের যোগাযোগের পরিধি কতটা ছিল এবং তিনি ঠিক কী ধরনের তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, কয়েক দিন আগে রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে পাকিস্তান থেকে একটি হুমকি ফোন করা হয়েছিল। অভিযোগ, আবিদ জাঠ নামে এক ব্যক্তি ফোন করে মন্ত্রীকে খুন এবং তাঁর পুত্রকে অপহরণের হুমকি দেয়।
শুধু তাই নয়, মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিস্তারিত তথ্য তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। প্রথমদিকে উমেশ রাই বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে পুলিশের দ্বারস্থ হন। এরপরই গোটা ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয় এসটিএফকে। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই প্রথমে বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরে একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসে। এর আগে হামিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তদন্তকারীদের অভিযোগ, হামিম ও অর্পিতা পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ‘আইএসআই’-এর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং পশ্চিমবঙ্গে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন।
তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, হামিম কিছুদিন নিউটাউনে অবস্থান করেছিলেন। সেই সময় তিনি রাজ্যের এক শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের যাতায়াতের রুট পর্যবেক্ষণ বা ‘রেকি’ করেন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এছাড়াও অভিযোগ, অর্পিতা সরকারকে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে ব্যবহার করা হত। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি নেতা, মন্ত্রী ও আমলাদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাঁদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের কাজে যুক্ত ছিলেন। এবার আদিত্য সিংহের গ্রেফতারের পর তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তাঁর ভূমিকা। তিনি হামিমকে ঠিক কী কী তথ্য দিয়েছিলেন, মন্ত্রী উমেশ রাই সম্পর্কে কোন কোন গোপন তথ্য ফাঁস হয়েছিল এবং এই চক্রের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ কতটা গভীর ছিল— এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে ‘এসটিএফ’। তদন্তকারীদের মতে, এই গ্রেফতারের মাধ্যমে গোটা চক্র সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। উল্লেখ্য, আদিত্য সিংহ, হামিম মণ্ডল ও অর্পিতা সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি এখনো তদন্তাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আইনিভাবে দোষী বলা যায় না।
❤ Support Us







