- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ৩, ২০২৬
বাঁকিপুরের বিজেপি দুর্গে চমক, উপনির্বাচনে ১১ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে জনসুরাজের প্রশান্ত কিশোর
ভোটকুশলী হিসেবে দীর্ঘদিন সাফল্যের নজির তৈরি করার পর রাজনীতির ময়দানে নেমেছিলেন প্রশান্ত কিশোর (পিকে)। জনসুরাজ পার্টি (জেএসপি) গঠন করলেও এতদিন নির্বাচনী সাফল্য অধরাই ছিল তাঁর। তবে প্রথমবার সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেই বড় চমক দেখালেন তিনি। বিহারের পটনা সংলগ্ন বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে গণনার মাঝপথেই বিজেপিকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছেন পিকে। এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত বাঁকিপুর কেন্দ্রে ২১ রাউন্ড গণনা সম্পন্ন হয়েছে। মোট ৩১ রাউন্ড গণনা হওয়ার কথা। প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, প্রশান্ত কিশোর ১১ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিজেপি, আরজেডি রয়েছে তৃতীয় স্থানে।
বাঁকিপুর দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আসন পুনর্বিন্যাসের পর ২০১০ সালে পটনা পশ্চিম কেন্দ্রের একটি বড় অংশ এবং পুরনো পটনা মধ্য কেন্দ্রের কিছু অংশ নিয়ে এই বিধানসভা কেন্দ্র তৈরি হয়। ২০১০ সাল থেকে টানা চার বার এই আসনে জয় পেয়েছেন বিজেপির বর্তমান সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ৬২ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর ছেড়ে যাওয়া আসনেই এবার উপনির্বাচন হচ্ছে।
২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোরের জনসুরাজ পার্টি প্রার্থী দিলেও নিজে নির্বাচনে অংশ নেননি পিকে। সেই নির্বাচনে দল কোনও আসন জিততে পারেনি। তাই বিজেপির শক্তিশালী ঘাঁটি বাঁকিপুর থেকে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন এমন একটি আসনকে লড়াইয়ের জন্য বেছে নিলেন পিকে। তবে গণনার প্রাথমিক প্রবণতায় দেখা যাচ্ছে, বিজেপির দুর্গেই আপাতত সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছেন তিনি।
প্রশান্ত কিশোর যদি শেষ পর্যন্ত জয়ী হন, তবে বাঁকিপুরে বিজেপির দীর্ঘদিনের আধিপত্যের অবসান ঘটবে। এই আসনের রাজনৈতিক ইতিহাসও বিজেপির পক্ষে শক্তিশালী। বাঁকিপুরের বড় অংশ আগে পটনা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ওই কেন্দ্র থেকে টানা চার বার জয়ী হয়েছিলেন নিতিন নবীনের বাবা নবীন কিশোর প্রসাদ সিন্হা। নিতিন নবীনের ছেড়ে যাওয়া আসনে প্রার্থী নির্বাচন নিয়েও বিজেপির অন্দরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রথমে অভিষেক কুমারকে প্রার্থী করেছিল দল। কিন্তু তাঁকে নিতিন নবীনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখিয়ে পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ তোলে বিজেপিরই একাংশ। সেই বিতর্কের পর প্রার্থী পরিবর্তন করে বিজেপি। নতুন প্রার্থী করা হয় নীরজ কুমার সিন্হাকে।
বাঁকিপুর ছাড়াও গত বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রদেশের দতিয়া এবং গুজরাতের মঞ্জলপুরে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দতিয়ায় প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে বিজেপির ভিতরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। আশুতোষ তিওয়ারিকে প্রার্থী করায় মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্রের অনুগামীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে প্রথম দিকে পিছিয়ে থাকলেও সাত রাউন্ড গণনার পর কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যাম সিংহ ৩২৯৫ ভোটে এগিয়ে যান।
অন্যদিকে, গুজরাতের মঞ্জলপুর কেন্দ্রে শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী সত্যেন্দ্রভাই পটেল। গণনা যত এগিয়েছে, তাঁর ব্যবধানও বেড়েছে। ১৬ রাউন্ড শেষে কংগ্রেস প্রার্থী ভিখাভাই রাবারির থেকে ২৫ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন তিনি।
❤ Support Us






