Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ৩, ২০২৬

স্কলারশিপ ও শিক্ষা ঋণেই আমেরিকায় পড়াশোনা : আরটিআই বিতর্কে নথি প্রকাশ করে জবাব অভিজিৎ দীপকের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
স্কলারশিপ ও শিক্ষা ঋণেই আমেরিকায় পড়াশোনা : আরটিআই বিতর্কে নথি প্রকাশ করে জবাব অভিজিৎ দীপকের

‘নিট’ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে আন্দোলনের অন্যতম মুখ এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের বিদেশে উচ্চশিক্ষার খরচ, আর্থিক উৎস এবং সংগঠনের অর্থায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি তথ্যের অধিকার আইন-এর আওতায় তাঁর পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে তদন্তের আবেদন করা হলে, সেই বিতর্কেরই জবাব দিলেন অভিজিৎ দীপকে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকায় তাঁর উচ্চশিক্ষার খরচ বাবার আয়ে নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ এবং শিক্ষা ঋণের মাধ্যমে বহন করা হয়েছে।

মহারাষ্ট্রের এক সাধারণ সরকারি কর্মীর পরিবার থেকে উঠে আসা অভিজিৎ দীপকের বাবা ভগবানরাও দীপকে মহারাষ্ট্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। তাঁর মাসিক বেতন ছিল প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। এত সীমিত আয়ে কীভাবে ছেলেকে আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠানো সম্ভব হলো, সে প্রশ্ন তুলে সমাজকর্মী অমিত তিওয়ারি তথ্যের অধিকার আইনের আওতায় তদন্তের আবেদন করেন। এ প্রশ্নের উত্তরে অভিজিৎ দীপকে জানান, বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া স্কলারশিপের ভিত্তিতেই তিনি সেখানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান। পাশাপাশি তিনি শিক্ষা ঋণও নিয়েছিলেন, যা এখন ধীরে ধীরে পরিশোধ করার সময় এসেছে। নিজের দাবির সমর্থনে তিনি ২০২৪ থেকে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত স্কলারশিপের নথিও প্রকাশ করেছেন।

অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ উঠেছিল যে, ‘নিট আন্দোলন’-এর সময় তাঁর সংগঠন বিদেশি অনুদান পেয়েছিল। তবে সে অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, কীসের বিদেশী সাহায্য? আন্দোলনের সময় সাধারণ মানুষই তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কেউ খাবার, কেউ পানীয় জল, আবার অনেকেই নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। এমনকি, তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশের কয়েকজন সদস্যও নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে আন্দোলনকারীদের পানীয় জল দিয়ে সহায়তা করেছিলেন। তাঁদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল ‘নিট কেলেঙ্কারি’র বিরুদ্ধে আন্দোলনকে সমর্থন জানানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ রক্ষা করা।

উল্লেখ্য, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রথম আন্দোলন সাফল্য পাওয়ার পর বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে পড়া সংগঠনের সদস্যদের আইনি সহায়তার জন্য একটি তহবিল গঠনের ঘোষণা করেছিলেন অভিজিৎ দীপকে ও সৌরভ দাস। সেই সময় প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল এক কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়। এরপরই সংগঠনের অর্থের উৎস এবং অভিজিৎ দীপকের আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সেই প্রেক্ষিতেই আরটিআই আবেদন এবং পরবর্তীতে দীপকের এই ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। স্কলারশিপের নথি প্রকাশ করে অভিজিৎ দীপকের দাবি, তাঁর বিদেশে পড়াশোনা সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে অর্জিত সুযোগের ফল এবং এ নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে খণ্ডন করা সম্ভব।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!