Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ২, ২০২৫

টেট না পাশ করলে যাবে চাকরি, স্পষ্ট নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। সময়সীমা ২ বছর, কারা পাবেন ছাড়?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
টেট না পাশ করলে যাবে চাকরি, স্পষ্ট নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। সময়সীমা ২ বছর, কারা পাবেন ছাড়?

দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে যোগ্যতার মান বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। জানিয়ে দিল, শিক্ষকতা করতে হলে কিংবা পদোন্নতি পেতে হলে ‘টিচার এবিলিটি টেস্ট’ বা ‘টেট’ পরীক্ষা পাশ করা বাধ্যতামূলক। দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা ‘টেট’ ছাড়াই শিক্ষকতা করে আসছেন, তাঁদের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিল দেশের শীর্ষ আদালত। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে, আগামী দুই বছরের মধ্যে ‘টেট’ পাশ না করলে, শিক্ষকদের চাকরি থাকবে না। মহারাষ্ট্রের একটি মামলার প্রেক্ষিতে এ রায় এলেও, এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে চলেছে গোটা দেশে।

এদিন শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, যাঁদের অবসরের সময়সীমা পাঁচ বছরের কম, তাঁদের জন্য থাকছে ছাড়। এই শিক্ষক-শিক্ষিকারা ‘টেট’ ছাড়াই বাকি চাকরি চালিয়ে যেতে পারবেন এবং নিয়মমাফিক অবসর নিতে পারবেন। প্রবীণদের জন্য এটিকে স্বস্তিদায়ক বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বাকি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আগামী ২ বছরের মধ্যে ‘টেট’ পাশ করতেই হবে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হন, তবে তাঁদের হয় চাকরি ছাড়তে হবে অথবা টার্মিনাল সুবিধা নিয়ে বাধ্যতামূলক অবসর নিতে হবে। তবে তাঁদের প্রাপ্য পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা তারা পাবেন, যদি আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চাকরির মেয়াদ পূর্ণ করে থাকেন। কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আপাতত মুলতুবি রেখেছে আদালত। সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘টেট’ বাধ্যতামূলক হবে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য বিষয়টি পাঠানো হয়েছে বৃহত্তর বেঞ্চে। সংবিধানের ধারা অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠানগুলির কিছু নিজস্ব অধিকার রয়েছে, যা কেন্দ্রীয় নিয়মের বাইরে। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো বাকি।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে ‘জাতীয় শিক্ষক শিক্ষাপরিষদ’ শিক্ষক নিয়োগে ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে ‘টেট’ পরীক্ষাকে বাধ্যতামূলক করে। প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগে এ নিয়ম কার্যকর হয়। কিন্তু বহু রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে বহু শিক্ষক ‘টেট’ উত্তীর্ণ না হয়েই চাকরি করে আসছেন। আদালতে প্রশ্ন ওঠে, এই ব্যবস্থা কি শিক্ষার গুণমানকে খর্ব করছে না? এ প্রেক্ষিতেই এদিন শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, শিক্ষকতার মতো পেশায় যোগ্যতার মান বজায় রাখাই মূল চাবিকাঠি। সুতরাং, যাঁরা এখনও এই পরীক্ষায় পাশ করেননি, তাঁদের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হল। পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই ‘টেট’-কে ঘিরে বিতর্ক চলছে। একাধিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলা, যোগ্য-অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ, নানাকিছু নিয়ে জর্জরিত রাজ্যের শিক্ষা বিভাগ। সম্প্রতি ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের মামলায় অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর ফের উত্তাল হয়েছে রাজ্য।

এই অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের রায় নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও এই রায় সরাসরি মহারাষ্ট্রের মামলার প্রেক্ষিতে এসেছে, তবুও বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গ-সহ অন্যান্য রাজ্যেও শীঘ্রই এই নির্দেশ কার্যকর করা হতে পারে। তবে, তা করতে হলে রাজ্য সরকারকে পৃথক নির্দেশিকা জারি করতে হবে। তাই এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, কিন্তু যাঁরা এখনও ‘টেট’ উত্তীর্ণ হননি, তাঁদের জন্য সুপ্রিম আদালতের বার্তাটি স্পষ্ট। সময় নষ্ট না করে প্রস্তুতি শুরু করুন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!