- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ১০, ২০২৫
ওয়াকফ আইনের সাংবিধানিক গ্রহণযোগ্যতা কতখানি ? আগামী সপ্তাহে মামলার শুনানি সুপ্রিমকোর্টে
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগ, আইনের সাংবিধানিক গ্রহণযোগ্যতা কতখানি ! বিতর্কিত ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে একাধিক সংগঠন ও ব্যক্তিরা। দ্রুত শুনানির আর্জিও জানানো হয়েছিল। আগামী ১৬ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না, বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথমের বেঞ্চে মামলার শুনানি হতে চলেছে।
গত সপ্তাহে সংসদে পাশ হয়েছে ওয়াকফ সংশোধনী বিল। শনিবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মূর স্বাক্ষরের পর, এটি বর্তমানে আইন। ৮ এপ্রিল থেকে সারা দেশে এ আইন বলবৎ করা হয়েছে। কিন্তু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগ, আইনের সাংবিধানিক গ্রহণযোগ্যতা কতখানি! বিতর্কিত ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে একাধিক সংগঠন ও ব্যক্তিরা। দ্রুত শুনানির আর্জিও জানানো হয়েছিল। আগামী ১৬ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না, বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথমের বেঞ্চে মামলার শুনানি হতে চলেছে। ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে কেন্দ্র। অর্থাৎ মোদি সরকারের মতামত না শুনে যেন কোনো রায় সুপ্রিম কোর্ট না দেয়, সে নিয়ে আপিল করা হয়েছে।
জানা গেছে, এই আইনটির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে মোট ১৫টি পিটিশন দাখিল হয়েছে, যার মধ্যে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন, রাজনৈতিক দল, এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলি বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে। এই আইনের মূল বিষয়বস্তু হলো, ওয়াকফ সংক্রান্ত সম্পত্তি ও সংস্থাগুলির ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা। অনেকের দাবি, এতে করে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সম্পত্তির অধিকার হুমকির মুখে পড়তে পারে। বিরোধী দলগুলি, বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস, এআইএমআইএমসহ বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন এই আইনকে বৈষম্যপূর্ণ এবং সংখ্যালঘুদের প্রতি অবিচার হিসেবে তুলে ধরেছে। তাদের মতে, এই আইন মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করবে, তাদের সাংবিধানিক অধিকারকে লঙ্ঘন করবে। এর ফলে সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্য বাড়বে। তাঁরা সামাজিক, ধর্মীয় আর অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, এই আইন কোনওভাবেই ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না। সরকারের বক্তব্য, এই আইনের মাধ্যমে মুসলিমদের কোনও জমি বা সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া হবে না। ধর্মাচরণের অধিকারও বজায় থাকবে। তাদের যুক্তি, এটি একটি সংস্কারমূলক আইন যা মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য উপকারী হবে। কারণ এই আইন ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনাকে আরো কার্যকর ও স্বচ্ছ করবে। এই মুহূর্তে পুরো দেশজুড়ে এই আইন নিয়ে উত্তেজনা ও মতবিরোধ চলছে। দেশের ভবিষ্যতে এর প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতের সিদ্ধান্তের পরেই হয়তো এই বিতর্কের কোনও নির্দিষ্ট দিশা পাওয়া যাবে।
অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন বাঁ এআইএমআইএম-এর সুপ্রিমো, সংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েসি, কংগ্রেস এমপি মোহাম্মদ জাভেদ এবং ইমরান প্রতাপগড়ী, আপ এমএলএ আমানতুল্লাহ খান, আজাদ সমাজ পার্টির সভাপতি চন্দ্রশেখর আজাদ, সমাজবাদী পার্টির এম পি জিয়াউর রহমান বার্ক, জামিয়াত উলেমা-ই-হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি, কেরালা সুন্নি স্কলারস বডি, সামস্তা কেরালা জামিয়াতুল উলেমা, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ এবং এনজিও অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অফ সিভিল রাইটস সুপ্রিম কোর্টে এই আইনের বিরুদ্ধে আবেদন দাখিল করেছেন। পাশাপাশি, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছে, জোর করে সংসদে পাস করা বিলের সংশোধনগুলি আসলে স্বেচ্ছাচারী মনোভাব। সমাজে বৈষম্য আর বিভেদ সৃষ্টি করতেই করা। রাজ্যসভার এমপি, বিহারের আরজেডি সদস্য ফয়াজ আহমেদ, বিহারের আরজেডি এমএলএ মোহাম্মদ ইজহার আসফি ওয়াকফ আইনের মাধ্যমে ধর্মীয় সম্পত্তিতে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরির চেষ্টা বলে মামলা করেছেন। তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকারের পক্ষ থেকেও এ আইনের পুনর্বিবেচনার জন্য শীর্ষ আদালতে আবেডন জানানো হয়েছে। রাজ্যসভায় পার্লামেন্টারি কমিটির সদস্য, বিলের উপর যৌথ পার্লামেন্টারি কমিটির সদস্য ডিএমকে এমপি এ রাজা, এই আইনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন।
উল্লেখ্য, যে ১০টি আবেদন শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রধান আবেদনটি হল আসাদউদ্দিন ওয়েসির করা আবেদন। আবেদনপত্রে ওয়েসি উল্লেখ করেছেন, ‘ এই সংশোধিত আইন সাংবিধানিক মৌলিক সুরক্ষাগুলির পরিপন্থী। চিরায়ত ওয়াকফ ব্যবস্থাকে ভেঙে দেবার চেষ্টা। নিজেদের স্বার্থে, নিজেদের পছন্দমতো গোষ্ঠীগুলির হাতে ধর্মীয় সম্পত্তি তুলে দেবার ষড়যন্ত্র। এর ফলে এত বছর ধরে তিলতিল করে গড়ে ওঠা ওয়াকফের অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, ওয়াকফ ব্যবস্থাপনাকে কয়েক দশক পিছিয়ে দেবে।’ তিনি এই আইনকে ‘স্বেচ্ছাচারী’ ও ধর্মীয় ভিত্তিতে বৈষম্য সৃষ্টিকারী বলে মনে করছেন। এর ফলে শরিয়ত আইনের লঙ্ঘন হবে, মুসলিম সম্প্রদায়কে তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
❤ Support Us






