Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • এপ্রিল ১, ২০২৬

“যথাযথ ভাবে সত্যতা যাচাই না করে বাদ পড়া ভোটারদের নতুন নথি গ্রহণ করা যাবে না”, ট্রাইবুনালকে জানাল সুপ্রিম কোর্ট, মামলার পরবর্তী শুনানি ৬ এপ্রিল

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
“যথাযথ ভাবে সত্যতা যাচাই না করে বাদ পড়া ভোটারদের নতুন নথি গ্রহণ করা যাবে না”, ট্রাইবুনালকে জানাল সুপ্রিম কোর্ট, মামলার পরবর্তী শুনানি ৬ এপ্রিল

মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টা নাগাদ পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার শুনানি শুরু হয় সুপ্রিম কোর্টে । এসআইআর মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট এদিন জানিয়ে দেয়, হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সর্বোচ্চ আদালতকে জানিয়েছেন, আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে সব নামের নিষ্পত্তি হয়ে যাবে ।

এসআইআর মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বললেন, “হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির চিঠিতে আমরা সন্তুষ্ট। প্রায় ৪৭ লক্ষ নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে ।” একই সঙ্গে তিনি জানান, ট্রাইবুনালও দ্রুত কাজ শুরু করবে।

তখন কমিশনের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে বলেন, “আজ বুধবার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে । আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ট্রাইবুনালের কাজ শুরু হয়ে যাবে ।”

এই সময় রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কেন প্রাক্তন বিচারপতিদের প্রশিক্ষণ দেবে কমিশন? কমিশনই যদি একতরফা ভাবে করে তবে কী ভাবে? প্রাক্তন বিচারপতিরা স্বাধীন ভাবে সিদ্ধান্ত নিন।”

তখন রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনি কেন আপত্তি করছেন ? প্রশিক্ষণ নিয়ে আপনার কী অসুবিধা ? অবশ্যই প্রাক্তন বিচারপতিরা স্বাধীন ভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন।”

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের হস্তক্ষেপ নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “এই বিচারকদের এমন একটি কাজ করতে বলা হয়েছে, যা তাঁরা আগে করেননি। তবে তাঁদের নিরপেক্ষতা বা পক্ষপাতহীনতা নিয়ে আমাদের কোনও সন্দেহ নেই।”

প্রধান বিচারপতি বলেন, “যেখানে নথির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকবে, সেখানে আপিল ট্রাইবুনাল তা যাচাই করবে।”

রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সুপ্রিম কোর্টে বলেন, “চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বার হয়েছে। বিবেচনাধীনদের নামের নিষ্পত্তি করার কাজ চলছে। এই অবস্থায় বান্ডিল বান্ডিল ফর্ম ৬ জমা পড়ছে। কোনও রাজনৈতিক দলকে দোষারোপ করছি না। কিন্তু এখন কেন?”

ফর্ম ৬ নিয়ে অভিযোগ জানাতেই কল্যাণের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “অনুমানের ভিত্তিতে বলবেন না।”

এই সময় কমিশনের তরফে আদালতে বলা হয়, আইন অনুযায়ী মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত ফর্ম ৬ জমা দেওয়া যায়। যে কেউ তা দিতে পারেন। একই সঙ্গে কমিশনের আইনজীবী বলেন, “আইনে বলা আছে দেখুন ফর্ম ৬ জমা দেওয়া একটি চলমান পদ্ধতি। যে কেউ দিতে পারেন। কমিশন সব যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়।”

এর পর ফর্ম ৬ নিয়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে বললেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি।

তখন কমিশনের আইনজীবী বলেন, “অনুচ্ছেদ ২০ দেখুন। সেখানে ফর্ম ৬ নিয়ে স্পষ্ট বলা রয়েছে। কারও কোনও আপত্তি থাকলে ফর্ম ৭ জমা দিতে পারেন।”

এর পর ফর্ম ৬ জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার বিষয়ে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “কেউ যদি এখন তালিকায় থাকেন, কিন্তু পরে বাদ পড়েন, সে ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। তাই মনে রাখতে হবে—কেউ যদি এই নির্বাচনে ভোট দিতে না-পারেন, তার মানে এই নয় যে, তাঁর ভোটাধিকার চিরতরে কেড়ে নেওয়া হবে।”

ফর্ম ৬ নিয়ে কমিশনের আইনজীবী বলেন, “আইনের অনুচ্ছেদ ২৩ অনুযায়ী, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত নাম অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। আজ কেউ যদি ১৮ বছরে পা দেন, তাঁরও ভোটার তালিকায় নাম তোলার অধিকার আছে। কারও আইনগত অধিকার থাকলে, তা কেউ বাধা দিতে পারে না।”

এই সময় কল্যাণ বলেন, “প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম ৬ এক জন ব্যক্তি জমা দিয়েছেন। এটা কী ভাবে হতে পারে?” তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, “প্রায় প্রতি বারই এই অভিযোগ ওঠে, এটা নতুন কিছু নয়। নির্দিষ্ট করে আপনি আপত্তি তুলতে পারেন।”

বিচারপতি বাগচী বলেন, “বিজ্ঞপ্তির পরে একটি নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত ভোটার তালিকা নিয়ে ভোট হয়। তার পরে কারও নাম ফর্ম ৬ দিয়ে উঠল মানেই তিনি ভোট দিতে পারবেন এমন নয়।”

মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান বলেন, “আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, তার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্তির হার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং বাদ পড়ার হার প্রায় ৪৫ শতাংশ—যা অত্যন্ত বেশি। এটি মূলত যাঁদের ম্যাপিং করা হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।”

এদিন প্রধান বিচারপতি প্রথমে বলেছিলেন, “আমাদের জানানো হয়েছে, ৭ এপ্রিলের মধ্যে সব আপত্তির নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। তাই আমরা মামলাটি ৭ এপ্রিল বিকেল ৪টায় রাখছি।” কমিশনের আইনজীবী তখন বলেন, “আইন অনুযায়ী মনোনয়নের শেষ দিন পর্যন্ত যাঁরা ভোটার তালিকায় আসবেন, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। তাই বিবেচনাধীনদের নামের নিষ্পত্তি ৭ তারিখের পরিবর্তে ৬ তারিখ রাত ১২টার মধ্যে করা হোক। শুনানিও ৬ তারিখ রাখা হোক।” শেষে শীর্ষ আদালত জানায়, ৬ তারিখ মামলার পরবর্তী শুনানি।

এদিকে ট্রাইব্যুনাল এর জন্য বুধবারই সব প্রাক্তন বিচারপতিদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তাঁদের অনলাইন ও অফলাইন—দুই ধরনের আপিল সম্পর্কেই আপডেট দিতে হবে।

একই সঙ্গে সুুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আপিল ট্রাইবুনালগুলি যেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা যে রিপোর্ট এবং কারণ উল্লেখ করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভাবে দেখতে পায় এবং সেই ভিত্তিতেই এই ধরনের মামলার নিষ্পত্তি করে।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ বলে, “আমরা ট্রাইবুনালগুলিকে অনুরোধ করছি—যে নথিগুলি আগে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকের সামনে পেশ করা হয়নি, সেই নতুন নথি যেন তারা গ্রহণ না-করে। যথাযথ ভাবে নথির সত্যতা যাচাই না-করে, কোনও নতুন নথি গ্রহণ করা হবে না।”


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!