Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ৪, ২০২৫

‘প্রকৃত দেশপ্রেমী হলে একথা বলতে পারতেন না…’ চিনের ভারতীয় ভুখণ্ড দখল অভিযোগ নিয়ে রাহুলকে তীব্র কটাক্ষ সুপ্রিম আদালতের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘প্রকৃত দেশপ্রেমী হলে একথা বলতে পারতেন না…’ চিনের ভারতীয় ভুখণ্ড দখল অভিযোগ নিয়ে রাহুলকে তীব্র কটাক্ষ সুপ্রিম আদালতের

২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষ এবং ২০ জন ভারতীয় সেনার শহিদ হওয়ার পর থেকে চিনের হাতে ভারতীয় ভূখণ্ডের দখলের প্রসঙ্গে একাধিকবার সরব হয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা, সংসদের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’র সময় তিনি দাবি করেছিলেন, লাদাখের ওই সংঘর্ষের পর চিন ভারতের প্রায় ২,০০০ বর্গকিলোমিটার জমি দখল করে নিয়েছে এবং কেন্দ্র সরকার এ ব্যাপারে ‘আত্মসমর্পণের রাজনীতি’ করছে। রাহুলের ওই বক্তব্যের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের হয়। মামলাকারী উদয়শঙ্কর শ্রীবাস্তব অভিযোগ করেন, রাহুল সেনাবাহিনীকে অবমাননা করেছেন, দেশের সীমানা নিয়ে ভিত্তিহীন, ক্ষতিকর মন্তব্য করেছেন।

২০২৪ সালের মে মাসে এলাহাবাদ হাইকোর্টে মামলার সমন বাতিলের আবেদন করেন রাহুল গান্ধী, কিন্তু তাঁর সে আবেদন নাকচ হয়ে যায়। হাইকোর্ট বলেছে, ‘মুক্ত বাকস্বাধীনতা আছে, কিন্তু সেনাবাহিনীকে অবমাননা করার অধিকার নেই।’ এরপর মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে যায়। সোমবার, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি এজি মাসিহের বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। শুনানির এক পর্যায়ে, শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা রাহুল গান্ধীর বক্তব্য নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কীভাবে জানলেন চিন ২,০০০ বর্গকিলোমিটার জমি দখল করেছে? আপনি কি সেখানে ছিলেন? আপনার কাছে কি কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ আছে?’ বিচারপতি দত্ত আরেক ধাপ এগিয়ে বলেন, ‘যদি আপনি সত্যিকারের ভারতীয় হন, তাহলে এমন কথা বলা উচিত নয়।’ রাহুলের পক্ষে বক্তব্য দেন প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক সিংহভি। তিনি সুপ্রিম আদালতে জানান, ‘যদি নিজের বক্তব্য মুক্তভাবে না দিতে পারেন, তাহলে বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর ভূমিকা কী হবে?’ বিচারপতি জবাবে বলেন, ‘তাহলে সংসদে গিয়ে বলুন, সেখানে বলবার অধিকার আছে, কিন্তু সমাজমাধ্যমে এ ধরণের কথা বলা উচিত নয়।’ সুপ্রিম কোর্ট আপাতত মামলার বিচার কার্যক্রম স্থগিত রাখলেও রাহুল গান্ধীর আবেদন খারিজ করে, মামলাকারী ও উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নোটিস জারি করে আগামী শুনানির জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রাহুল গান্ধী ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’র সময় বারবার বলেছিলেন, ‘চিন ভারতের জমিতে দখল করছে, এটা সত্য, দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। কিন্তু সরকার বাস্তবতাকে অস্বীকার করছে, যা দেশের ভবিস্যতের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।’ তিনি আরো বলেছিলেন, ‘চিনের সঙ্গে দৃঢ় ভাষায় কথা বলা দরকার এবং তাদের জানানো উচিত যে, তারা ভারতের জমিতে বসবাস করছে, যা আমরা কখনো মেনে নেব না।’ প্রসঙ্গত, ২০১৯-২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় উত্তেজনার পর চিনা বাহিনীর সীমান্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ বাড়ে। ১৫ জুন ২০২০ সালে গালওয়ান সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা শহীদ হন, ভারতীয় জনমনে যা গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে। আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে জানা গেছে, ভারতের পাল্টা হামলায় বেশ কয়েকজন চিনা সেনাও নিহত হন। রাহুল গান্ধী জানিয়েছিলেন, একাধিক প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা তাঁকে জানিয়েছেন যে, চিন ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ২,০০০ বর্গকিলোমিটার জায়গা দখল করে নিয়েছে। যদিও, কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর রাহুল গান্ধীর মন্তব্যকে ‘ভুল তথ্য’ ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে দাবি করেন। তিনি জানান, ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধে যে জমি হারিয়েছে ভারত, তা সাম্প্রতিক কোনো দখল নয় এবং রাহুল এটিকে সাম্প্রতিক ‘ক্ষয়ক্ষতি’ হিসেবে দেখাতে চাইছেন। বিজেপির তরফে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যকে ‘দেশবিরোধী’ ও ‘আত্মসমর্পণের রাজনীতি’ বলেও সমালোচনা করা হয়েছে। অভিযোগ, রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস অতীতে চিনের কাছে জমি ‘সরবরাহ’ করার মতো মনোভাব পোষণ করেছে। রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস বরাবর এসব অভিযোগ নাকজ করে আসছেন। রাহুলের দাবি, সেনাবাহিনী ও দেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ভুল তথ্য প্রচার করেননি তাঁরা। দেশের স্বার্থে সঠিক তথ্য তুলে ধরাই তাঁদের কর্তব্য। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের সুরক্ষা ও সেনাবাহিনীর মর্যাদা নিয়ে এমন সহজে মেটবার নয়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!