- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ২২, ২০২৪
‘কাঁওয়ার যাত্রার’ সরকারি নির্দেশে সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ
শ্রাবণ মাসের প্রতিটি সোমবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র দিন রূপে স্বীকৃত। এ মাসেই মহাদেবের জন্ম মাস বলে মনে করেন তাঁরা । ভারতের একাধিক শৈবতীর্থে বিশেষত উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের মন্দিরগুলিতে এ সময় ভিড় করেন তীর্থযাত্রীরা। ‘কাঁওয়ার যাত্রা ‘আটের দশকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের উদ্যোগে জারি হয়। এই যাত্রায় উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার, গঙ্গোত্রী, গোমুখ এবং বিহারের সুরতানগঞ্জ এলাকা থেকে গঙ্গার জল নিয়ে তীর্থযাত্রীরা নিজেদের এলাকায় ফিরে গিয়ে স্থানীয় শিব মন্দিরে মহাদেবের মূর্তির মাথায় ঢালেন । ফলে বেশ কিছু ব্যবসায়ী বেশি আয়ের উদ্দেশে ছোট ছোট অস্থায়ী দোকান স্থাপন করেন। সম্প্রতি বিতর্ক দানা বেঁধেছে তা নিয়ে। উত্তরপ্রদেশ , উত্তরাখণ্ড রাজ্যের সরকার নির্দেশিকা জারি করেছে, প্রতিটি খাবারের অস্থায়ী স্টলে ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখ করতে হবে।পাশাপাশি ওই অঞ্চলের দুই সম্প্রদায়ের মালিকানাধীন রেস্তরাঁ থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রাঁধুনিদের কাজ থেকে ছাঁটাই করতে হবে। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। একই ইস্যুতে গত ২১ জুলাই দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অপূর্বানন্দ ও মানবাধিকার কর্মী আকার প্যাটেল শীর্ষ আদালতে মামলা করেন । ‘দ্য অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটস’ নামে এক এনজিও উত্তর প্রদেশের সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আগেই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল । তাদের বক্তব্য ছিল , নির্দেশিকাটি সংবিধান বিরোধী। সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অস্পৃশ্যতা একটি অপরাধ। ফলে সরকার নিজেই সংবিধানের বিরোধিতা করছে।
প্রথমে উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগরের পুলিশ এই নির্দেশ জারি করলেও পরে তা তিন রাজ্যে(উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মধ্যপ্রদেশ) বলবৎ হয়। সোমবার এ সরকারি নির্দেশিকার ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। । বিচারপতি ঋষিকেশ রায় ও এসভিএন ভাট্টির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে,অস্থায়ী দোকানে ব্যবসায়ীর নাম লেখার দরকার নেই। শুধুমাত্র কী কী খাবার পাওয়া যায় তার তালিকা থাকলেই হবে। উত্তরপ্রদেশ ,উত্তরাখণ্ড ও মধ্যপ্রদেশ সরকারের কাছে নোটিশ পাঠিয়েছে আদালত। । পিটিশনারদের পক্ষের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বললেন, ,’এটি কানওয়ার যাত্রার জন্য একটি ছদ্মবেশী আদেশ’।
নির্দেশিকা নিয়ে বিরোধীরা তো বটেই, সরকারের শরিক দল সহ বিজেপির বেশ কিছু নেতা আপত্তি করেন। বিরোধীদের বক্তব্য ছিল, ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষার আড়ালে আসলে বিভাজনকে প্রশ্রয় দিচ্ছে সরকার। বহুজন সমাজবাদী পার্টির নেত্রী মায়াবতী সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, যোগী সরকার মানুষের রোজগারে থাবা বসাচ্ছে। মায়াবতীকে পরোক্ষে সমর্থন করেছেন বিজেপি নেতা মুখতার আব্বাস নকভি। নীতিশ কুমারের জনতা দল (সেকুলার) , লোকজন শক্তি পার্টি (রামবিলাস) প্রমুখ শরিক দলগুলি আপত্তি জানায়। কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপির শরিক চরণ সিংহের নাতি জয়ন্ত চৌধুরীর দল আরএলডি-ও নির্দেশিকার কড়া সমালোচনা করেছে।
❤ Support Us






