Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ২৮, ২০২৫

টিসিএস-এ নজিরবিহীন ছাঁটাই: কাজ হারাচ্ছেন ১২,০০০ কর্মী

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
টিসিএস-এ নজিরবিহীন ছাঁটাই: কাজ হারাচ্ছেন ১২,০০০ কর্মী

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিল দেশের শীর্ষ আইটি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস বা টিসিএস। সংস্থার সিইও কে কৃত্তিবাসন জানিয়েছেন, প্রায় ১২ হাজার কর্মীকে চলতি অর্থবর্ষের মধ্যে ধাপে ধাপে ছাঁটাই করা হবে। সংখ্যায় যা সংস্থার মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় ২ শতাংশ। সংস্থার ইতিহাসে এই প্রথম এত বড়ো মাত্রায় কর্মী ছাঁটাই করতে চলেছে টাটা গ্রুপের টিসিএস।

সংস্থা সূত্রে খবর, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে আগামী ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২৬ অর্থবছরের মধ্যে ধাপে ধাপে এই কর্মীছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। মূলত মধ্য ও উচ্চপদস্থ কর্মীরাই এ সিদ্ধান্তের আওতায় পড়তে চলেছেন। জুন মাস পর্যন্ত টিসিএস-এর বিশ্বজুড়ে কর্মীসংখ্যা ছিল ৬ লক্ষ ১৩ হাজারেরও বেশি। পরিসংখ্যানের নিরিখেই একযোগে বিপুল এ ছাঁটাইকে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে বড়ো কর্মীছাঁটাই হিসেবে দেখা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, টিসিএসের এহেন সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে সংস্থার নতুন ‘এআই-ফার্স্ট’ কৌশলের বাস্তব প্রয়োগ। তবে, সংস্থারর সিইও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ছাঁটাইয়ের কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়। বরং যাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পহীন অবস্থায় রয়েছেন, যাঁদের পুনঃনিয়োগ বা নতুন প্রকল্পে স্থানান্তর সম্ভব হচ্ছে না, তাঁদেরই ‘ছাঁটাইযোগ্য’ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। দক্ষতার অভাব এবং ভবিষ্যতে তাদের কাজে লাগানোর সম্ভাবনা না থাকা, এই কঠিন সিদ্ধান্তের পেছনে মুখ্য কারণ বলে জানান কৃত্তিবাসন।

এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য আরেকটি দিক, সংস্থার সদ্য চালু হওয়া বেঞ্চিং নীতি। গত মাসেই টিসিএস নতুন একটি ‘অভ্যন্তরীণ নীতি’ ঘোষণা করে, সেখানে বলা হয়, প্রত্যেক কর্মীকে বছরে অন্তত ২২৫ দিন ‘বিলযোগ্য’ প্রকল্পে যুক্ত থাকতে হবে। অর্থাৎ, ক্লায়েন্ট সংক্রান্ত কাজে সরাসরি যুক্ত থাকতে হবে বছরের বেশিরভাগ সময়। অন্যদিকে, কর্মীরা যদি ৩৫ দিনের বেশি সময় বেঞ্চে থাকেন, অর্থাৎ কোনো প্রকল্পে যুক্ত না থেকে সংস্থার খরচে বসে থাকেন, তবে তাঁরা পড়বেন উচ্চ-ঝুঁকির তালিকায়। সংস্থার অভ্যন্তরে এ নীতিকে ঘিরে, শুরু থেকেই উদ্বেগ আর অস্থিরতার পরিবেশ ছিল। কারণ, সংস্থার বিশাল সংখ্যক কর্মী বিভিন্ন কারণে স্বল্পমেয়াদে প্রকল্পবিহীন অবস্থায় থাকেন, যা নতুন নিয়মে কার্যত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

টিসিএস-এর এক কর্মী জানিয়েছেন, সংস্থার তরফে প্রতিটি কর্মীর জন্য একজন করে এইচআর ম্যানেজার বরাদ্দ করা হয়েছে। বেঞ্চে থাকা কর্মীদের ওই এইচআর ম্যানেজাররা ডেকে পাঠিয়ে তাঁদের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করছেন। বৈঠকে তাঁদের বলা হচ্ছে, অবিলম্বে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিলে ৩ মাসের বেতন সমেত ‘সেভারেন্স প্যাকেজ’ অর্থাৎ আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সুবিধা মিলবে। কিন্তু যদি কেউ সেই প্রস্তাবে রাজি না হন, এবং ইস্তফা না দেন, তাহলে তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে এবং সেই ক্ষেত্রে তাঁরা কোনো আর্থিক সুবিধা পাবেন না। কোম্পানির তরফে এ ঘোষণার পর সংস্থার অভ্যন্তরে তৈরি হয়েছে চাপা আতঙ্ক। কর্মীদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু দক্ষতার ভিত্তিতে নয়, বরং সংস্থার অভ্যন্তরীণ আর্থিক কাঠামো এবং পরিচালনার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বহু কর্মী মনে করছেন, এত বছর ধরে যারা সংস্থায় কাজ করে এসেছেন, তাঁরাও এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

তবে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের জন্য কিছু সহায়তা ঘোষণা করেছে টিসিএস। তাঁদের নোটিশ পিরিয়ডের সম্পূর্ণ বেতন, ৩ মাসের ‘সেভারেন্স প্যাকেজ’, ‘স্বাস্থ্যবিমা কভারেজ’ কিছু সময়ের জন্য বজায় রাখা এবং অন্যত্র চাকরি খুঁজে পেতে ‘আউটপ্লেসমেন্ট’ সহায়তা দেওয়া হবে। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কর্মীদের প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব নিয়েই এসকল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দেশের বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার এই পদক্ষেপ অন্য সংস্থাগুলিকেও প্রভাবিত করতে পারে। কারণ, প্রকল্পভিত্তিক কাজে যুক্ত সংস্থাগুলির জন্য বেঞ্চে থাকা কর্মীরা আগামিদিনে আর্থিক বোঝা হিসেবেই গণ্য হবেন। প্রশ্ন উঠছে, যদি দক্ষতার অভাবই সমস্যার মূল, তবে সেই অভাব পূরণে প্রশিক্ষণ বা পুনঃযোগ্যতা বৃদ্ধির সুযোগ দেওয়া হল না কেন? পাশাপাশি, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি জগতে উল্লেখযোগ্য ও ভরসাযোগ্য সংস্থায় একবারে এত বড়ো ছাঁটাইয়ের ঘটনা নিঃসন্দেহে দেশের চাকরির বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে চলেছে। ফলে শুধু টিসিএস-এর কর্মীরাই নন, উদ্বিগ্ন গোটা আইটি জগৎ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!