- দে । শ
- মে ২৭, ২০২৫
রাজ্য সরকারের সঙ্গে বৈঠকে অসন্তোষ, চাকরিহারাদের দিল্লিমুখী আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতি ছাড়াই বিকাশ ভবনে চাকরিহারাদের বৈঠক, আন্দোলনকারীদের দাবির সম্পূর্ণ উত্তর মেলেনি – অভিযোগ তুলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। পুনর্বিবেচনা মামলার রায়ের আগে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করার সরকারের সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ তাঁরা।
দিল্লিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা। ২১ দিন ধরে রাজ্যের বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান করছেন তাঁরা, দাবি, সরকারের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে আলোচনা করতে চান। তবে সোমবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, তাদের একাধিক প্রশ্নের যথাযথ উত্তর মেলেনি, ফলে আন্দোলনকারীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
তাঁদের অভিযোগ, সোমবার তাঁরা গিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে, কিন্তু সে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। বৈঠকে শিক্ষাসচিব বিনোদ কুমার এবং সমগ্র শিক্ষা মিশন প্রকল্পের ডিরেক্টর শুভ্র চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন। তবে তাঁরা চাকরিহারাদের সব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি বলে দাবি চাকরিহারা শিক্ষকদের। বৈঠক শেষে আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দেন, তাঁদের দাবি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে মানা হয়নি। বিশেষত, পুনর্বিবেচনা মামলার রায়ের আগে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করার সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাঁদের আপত্তি রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে ৩১ মে-এর মধ্যে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে, কিন্তু আন্দোলনকারীরা শীর্ষ আদালতের ওই রায়ের বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের দাবি, ‘ এখনই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি না করে, কীভাবে যোগ্য শিক্ষকদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা যায়, তা সরকারের দেখানো উচিত।’
আন্দোলনকারীরা জানান, যদি তাঁদের দাবি মেনে না নেওয়া হয়, তবে এই আন্দোলন শুধু রাজ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং দিল্লিতেও তাঁদের আন্দোলন শুরু হবে। চাকরিহারারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম শিক্ষামন্ত্রী আমাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন, কিন্তু মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে আমাদের অসন্তোষ বেড়েছে। যদি আমাদের সঙ্গে সুবিচার না করা হয়, তাহলে দিল্লিতে আন্দোলন চালানো হবে।’
অন্যদিকে, চাকরিহারা গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি শিক্ষাকর্মীদের ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাজ্য সরকার এই ভাতার ঘোষণা করেছিল, যাতে বলা হয়েছে চাকরিহারা শিক্ষাকর্মীরা মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের ভাতা পাবেন। মামলাকারীদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টে, প্যানেল সম্পূর্ণ বাতিলের রায় দানের পর, এ ধরনের ভাতা দেওয়া বেআইনি, নীতি বিরুদ্ধ। যদিও রাজ্য সরকার নিজের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ভাতা নিয়মাফিকই দেওয়া হচ্ছে, এটি কোনো ‘বেতন’ নয়, বরং চাকরিহারাদের পাশে থাকবার প্রয়াস। পাল্টা মামলাকারীরা দাবি করেছেন, যদি ভাতা দেওয়াই হয়, তাহলে ‘যোগ্য’ এবং ‘অযোগ্য’-দের বাছাই করার পরই দেওয়া উচিত। গরমের ছুটির পর কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি হতে পারে।
❤ Support Us






