Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • নভেম্বর ৭, ২০২৫

বিহার বিধানসভার প্রথম দফায় উঠলো ফের ভোট চুরির অভিযোগ ! পদ্ম-কমিশনের গোপন আঁতাত নিয়ে সরব তেজস্বী

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিহার বিধানসভার প্রথম দফায় উঠলো ফের ভোট চুরির অভিযোগ  ! পদ্ম-কমিশনের গোপন আঁতাত নিয়ে সরব তেজস্বী

বিহারে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ও আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। তিনি দাবি করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাত করে ভোট ‘চুরি’ করতে সহায়তা করছে। তেজস্বী যাদবের বলেছেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) করার পর বিহারের যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তা আসলে ভোট ডাকাতি। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, কমিশন বিজেপি নেতাদের দুটো করে ভোটার কার্ড রাখার কাজেও সহায়তা করছে।

তেজস্বী যাদব সাংবাদিকদের সামনে এই অভিযোগ তোলেন, “বিহারে নির্বাচন কমিশন বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাত করে ভোট চুরি করতে সাহায্য করছে। বিজেপি নেতাদের দুটো করে ভোটার কার্ড পাওয়ার জন্য কমিশন সহায়তা করছে।” তাঁর দাবি, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর মুজফফরপুরের মেয়র নির্মলা দেবীর নামেও দুটি আলাদা ভোটার কার্ড রয়েছে। একটি কার্ডে তাঁর বয়স ভিন্ন এবং দুটি আলাদা বুথে তাঁর নাম রয়েছে, যা তেজস্বীর মতে একটি গুরুতর অনিয়ম।

এছাড়াও, তেজস্বী যাদবের অভিযোগ, গুজরাটের কিছু মানুষকে বিহারের ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে পাটনা কেন্দ্রে বিজেপির ভোটের দায়িত্বে থাকা ভিখুভাই দালসানিয়ার নাম উল্লেখ করেন, যিনি গুজরাটে ভোট দেওয়ার পর এখন বিহারের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

এসআইআর-এ মৃত ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত হওয়ার বিষয়েও তেজস্বী যাদব নিন্দা জানান। তিনি বলেন, “এসআইআর-এ মৃত ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত ছিল, যা আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশন এই বিষয়গুলো নিয়ে উদাসীন হয়ে ভোট চুরিতে অংশগ্রহণ করছে।”

প্রসঙ্গত, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর  ১৭ ধারা বলছে,  “কোনও  ব্যক্তি একাধিক নির্বাচনী এলাকায় ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত হওয়ার অধিকারী হবে না।” জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০আবার -এর ১৮ ধারা বলছে :“কোনও  ব্যক্তি কোনও  নির্বাচনী এলাকায় একাধিকবার ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত হওয়ার অধিকারী হবে না।” সেই হিসেবে তেজস্বী যাদবের অভিযোগ তখনই বাস্তব বলে প্রমাণ হবে যখন তিনি প্রমাণ করতে পারবেন গুজরাটের যে ভোটাররা বিহারের ভোটার হয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করছেন, তাঁরা গুজরাট ও বিহার এই দুই রাজ্যেই ভোটার আছেন। যদি তিনি তা প্রমাণ করতে পারেন তবে সেটা প্রমাণ হবে যে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিজেপি-র আঁতাতের বিষয়ে তাঁর অভিযোগ সত্যি, না হলে তাঁর অভিযোগের কোনও সারবত্তা থাকবে না।

এদিকে, কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধিও বিহারে ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন যে, বিহারের ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যাদের অধিকাংশই মহাগঠবন্ধনের সমর্থক। রাহুল গান্ধি এই অভিযোগ করেন, “বিজেপি নানা কারচুপি করে ভোট চুরি করতে চাইছে। বিহারের ভোটেও এর প্রভাব পড়তে পারে, যা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।”

বিহারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে, এবং বিরোধীরা নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!