Advertisement
  • দে । শ
  • আগস্ট ২২, ২০২৪

আলো জ্বললেও আঁধার কাটল না নান্দুরে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আলো জ্বললেও আঁধার কাটল না নান্দুরে

রাখি পূর্ণিমার চাঁদ কবেই ডুবেছে নান্দুর ঝাঁপানতলায়। অন্ধকার একটু একটু করে ঘন বর্ধমানের বৈকুন্ঠপুর ২নং পঞ্চায়েতের এই গ্রামে। এমন ‘অন্ধকার’ যে, হাতড়ে হাতড়ে দিদির নিজের হাতে বানানো রাখিটা কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছিল না সুরজিৎ হাঁসদা। সুরজিতের দিদি প্রিয়াঙ্কা বেঙ্গালরুতে একটি শপিং মলে কাজ করত। সেইসঙ্গে লেখাপড়াটাও চালাত ‘অনেক বড় হওয়ার’ স্বপ্ন পূরণে। ফি-বছর ভাইয়ের জন্য রাখি বানাত। এবারও বানিয়েছিল। সেই মহার্ঘ উপহারটা খুঁজতে খুঁজতেই হঠাৎ মনে পড়ে গেল সুরজিতের, ‘ওটাতো দিদির সঙ্গেই শ্মশানে পাঠিয়ে দিয়েছি।’ শুধু সুরজিতই নয়, প্রিয়াঙ্কার শোকে এবার গোটা গ্রাম রাখি পরেনি। সবার জন্য খেয়াল রাখা, পাশে থাকা মেয়েটার বিরহে এবার গ্রামে ব্রাত্য থেকেছে রাখিবন্ধন।
১৪ আগস্ট সন্ধ্যায় সুরজিৎকে পড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল প্রিয়াঙ্কার। তার আগে বাড়ি লাগোয়া শৌচাগারে গিয়েছিল সে। সন্ধ্যা গড়িয়ে তখন রাতের দিকে ঢলছে। ‘এখনওতো দিদি এল না’, মনে করে খুঁজতে বেরয় সুরজিৎ। সঙ্গে বাড়ির লোকজন। ফুট পঞ্চাশেক দূরেই কাত হয়ে পড়েছিল মেয়ে। গলার কাটা নলি থেকে বেরনো রক্ত মাটিতে পড়ে তখন জমাট হতে শুরু করেছে। প্রথমে সবাই ভেবেছিল, শেয়ালে টেনে নিয়ে গিয়ে খুবলেছে প্রিয়াঙ্কাকে। পরে সবাই নিশ্চিত হয়, নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে তরতাজা মেয়েটাকে। তবে এখনও পুলিশ বা বাড়ির লোক, কেউই নিশ্চিত নয়, কেন প্রিয়াঙ্কাকে খুন করা হল, কেই-বা মারল? ‘এখনওতো অপরাধী ধরাই পড়ল না!’ হতাশা ঝরে নিহত প্রিয়াঙ্কার বাবা সুকান্ত হাঁসদা থেকে শুরু করে পড়শি মঙ্গলা হাঁসদা, শিবু হেমব্রমদের। যোগ করলেন, ‘পুলিশ বলছে, পার্টি (তৃণমূল) বলছে, ধরা পড়বে। এতদিনতো হয়েই গেল। আর কবে ধরা পড়বে?’
তবে পুলিশ জানতে পেরেছে, আততায়ী প্রিয়াঙ্কার চেনা। বেঙ্গালরুতেই কাজ করে। যথেষ্ট ভাল সম্পর্ক ছিল দুজনের। ছিল নিয়মিত ফোনালাপও। তাই খুনের পর প্রমাণ লোপাট করতে প্রিয়াঙ্কার মোবাইলটাও নিয়ে যায় খুনি। খুনি ভিন জেলার হলেও নান্দুর গ্রামটা তার হাতের তালুর মত চেনা। তাই প্রিয়াঙ্কাকে খুন করে সহজেই পালাতে পেরেছিল। তারপর অনেকগুলো রাত কেটে গেলেও সেই ‘অভিশপ্ত’ রাতেই আজও আটকে রয়েছে আদিবাসী অধ্যুষিত নান্দুরের ঝাঁপানতলা। সন্ধ্যা নামতেই গভীর অন্ধকারে ঢেকে যেত বলে গ্রামের দাবি ছিল, পঞ্চায়েত একটা আলোর ব্যবস্থা করুক। বুধবার রাতে ঝাঁপানতলার বিদ্যুতের খুঁটিতে আলো জ্বলল। তাতেও ‘অন্ধকার’ কাটল কই? গ্রামের সব আলো, তামাম খুশি আঁচলে এঁটে মেয়েটা যে না ফেরার দেশে চলে গেল! প্রিয়াঙ্কার জন্য ঝরা আফশোসের ভাঁজে ভাঁজেই গ্রামজুড়ে আঁধার আসনপিঁড়ি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!