- দে । শ
- ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫
সিদ্ধান্ত আর সামাজিক শর্তের সংঘাত, পোশাক বিতর্কে মন্তব্য জাভেদ আখতারের
স্পষ্ট ও বিতর্কিত বক্তব্য পেশ করতে কোনওদিন থমকে যাননি প্রবীণ গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার কখনও পিছপা হন না. বারবার নানান ইস্যুতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন। এবার সেই বিতর্কিত ব্যক্তি এসওএ লিটারারি ফেস্টিভ্যাল ২০২৫-এর মঞ্চে, বোরখা পরা নিয়ে স্পষ্টভাবে প্রশ্ন তুলে বললেন, “একজন নারী কেন নিজের মুখ নিয়ে লজ্জা বোধ করবেন ?” তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই নতুন করে সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ইন্ডিয়ান পারফর্মিং রাইটস সোসাইটি আয়োজিত এবং সংস্কৃতি মন্ত্রকের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত আলোচনাসভার মূল বিষয় ছিল নারীর পছন্দের স্বাধীনতা, সামাজিক চাপ এবং মানসিক গড়নের বাস্তবতা। জাভেদ আখতার বলেন, সমাজে কেন নারীদের মুখ ঢাকার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা শুধুই ধর্মীয় অনুশাসন বা ব্যক্তিগত পছন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি দীর্ঘদিনের সামাজিক শর্ত বা মানসিক প্রভাবের ফল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বহু ক্ষেত্রে মুখ ঢাকার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় নয়, বরং চারপাশের চাপ থেকেই আসে।
জাভেদ আখতার “পছন্দ” শব্দটিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, প্রকৃত পছন্দ তখনই সম্ভব, যখন একজন মানুষ ভয়, চাপ বা সামাজিক বিচার থেকে মুক্ত হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যদি কোনও নারী সত্যিই নিজের ইচ্ছায় মুখ ঢাকতে চান, তাতে প্রশ্ন তোলার অধিকার কারও নেই। কিন্তু যদি তা হয় সমাজ, পরিবার বা সম্প্রদায়ের চাপের কারণে, তাহলে এটিকে স্বাধীন সিদ্ধান্ত বলা যায় না।
আলোচনা আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষের প্রশ্ন-উত্তর পর্বে। এক তরুণী প্রশ্ন তোলেন, মুখ বা শরীর ঢেকে রাখা কি একজন নারীকে কম শক্তিশালী করে ? জাভেদ আখতার বললেন, শক্তি কোনও পোশাকের ওপর নির্ভর করে না। একজন নারী বোরখা পরেও শক্তিশালী হতে পারেন, আবার না পরেও হতে পারেন। সমস্যা তখনই শুরু হয় যখন কোনও পোশাককে নৈতিকতা বা শক্তির মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। তিনি বলেন, “যে মুহূর্তে সমাজ ঠিক করে দেয় কী পরলে তুমি ভালো নারী, আর কী না পরলে তুমি খারাপ, সেই মুহূর্তে স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়।”
আখতার আরও বলেন, মুখ মানুষের পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নারীর মুখ ঢাকার সঙ্গে লজ্জা, ভয় বা নিয়ন্ত্রণের ভাব জড়িয়ে আছে কি না এই প্রশ্ন করাই জরুরি। পুরুষদের ক্ষেত্রে মুখ ঢাকার সামাজিক বাধ্যবাধকতা না থাকলেও নারীর ক্ষেত্রে তা বারবার সামনে আসে। এই দ্বিচারিতা নিয়েই তিনি ভাবার আহ্বান জানান।
বোরখা বিষয়ক আলোচনা সীমিত থেকে অনেক বেশি গভীর অর্থে নারী স্বাধীনতা, সামাজিক নিয়ম এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে সংঘাত তুলে ধরেন। অনেক ছাত্রছাত্রী ও শ্রোতা আখতারের বক্তব্যে সহমত প্রকাশ করেন, আবার কেউ ভিন্নমতও পোষণ করেন। তবে এক বিষয়ে সবাই একমত, এই ধরনের সংলাপ সমাজকে প্রশ্ন করতে শেখায়।
❤ Support Us






