- দে । শ
- জুন ৩০, ২০২৫
প্রবীণ সাহিত্যিক পরেশ ভট্টাচার্যের জীবনাবসান, শোক বসিরহাটের সাহিত্য মহলে।
চলে গেলেন প্রবীণ সাহিত্যিক পরেশ ভট্টাচার্য। রবিবার দুপুরে ৯৯ বছর বয়সে বসিরহাটের ধলতিথা গ্রামের বাড়িতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। কয়েক মাস বার্ধক্য জনিত অসুখে ভুগছিলেন। ‘মাঝি’ , ‘জঙ্গল পাহাড়ি’ ‘রঙমহল’ ‘তবুও রমনী’ প্রভৃতি তাঁর লেখা উপন্যাস গুলির অন্যতম। ‘আমি মুসাফির’, ‘মানস গঙ্গার পথে’, ‘দুর্গম সুন্দর’ ভ্রমণ কাহিনীগুলি একসময় পাঠকের প্রশংসা পায়। কিছুদিন তিনি ‘উল্টোরথ’ পত্রিকার সম্পাদনা করেন। সবিতাব্রত দত্ত অভিনীত ‘চারণকবি মুকুন্দদাস’ চলচ্চিত্রের সংলাপ রচয়িতা পরেশ ভট্টাচার্য ও হীরেন্দ্র নারায়ণ মুখার্জি যৌথভাবে। আত্মপ্রচার বিমুখ, সদালাপী মানুষটি যুবা থেকে প্রবীণ সবার কাছে তিনি ‘পরেশদা’ পরিচিত ছিলেন। কাটিয়েছেন অনাড়ম্বর জীবন। বসিরহাটের নানা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে থাকতেন প্রথম সারিতে। বসিরহাটে বইমেলা থেকে শুরু করে নানা উদ্যোগে তিনি সক্রীয় ভাবে যুক্ত ছিলেন। সুন্দরবন এলাকার জনজীবন নিয়ে তিনি একাধিক উপন্যাস, ছোট গল্প লিখেছেন। সুন্দরবন এলাকার মানুষের সঙ্গে ছিল তাঁর নিবিড় সম্পর্ক। পরেশবাবু অভিভক্ত কম্যুনিষ্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাম আন্দোলনে নিজেকে জড়িয়ে রাখতেন। বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধের সময় বসিরহাট থেকে যাঁরা মুক্তি যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাদের মধ্য পরেশ ভট্টাচার্যও ছিলেন একজন। ঢাকার একটি প্রকাশনা সংস্থা থেকে তাঁর লেখা বই প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে বসিরহাটের সাহিত্য সংস্কৃতি জগতে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁর গুণমূগ্ধরা লেখকের ধলতিথা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রবিবার রাতে বসিরহাট শ্মশানে বর্ষিয়ান সাহিত্যিকের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর কৌশিক দত্ত, তৃণমূল নেতা পিন্টু দাশ, সিপিএম নেতা প্রতাপ নাথ, বিশ্বজিৎ বসু প্রমুখ বিশিষ্ট জনেরা। রেখে গেলেন একমাত্র পুত্র, পুত্রবধূ ও নাতিকে।
❤ Support Us






