Advertisement
  • এই মুহূর্তে স | হ | জ | পা | ঠ
  • নভেম্বর ১৯, ২০২৫

২ কোটি বছরের প্রাচীন অভ্যাস ! ‘চুমু’-র ইতিহাস অন্বেষণে গবেষণা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
২ কোটি বছরের প্রাচীন অভ্যাস ! ‘চুমু’-র ইতিহাস অন্বেষণে গবেষণা

ভালোবাসা, স্নেহের অন্যতম প্রতীক চুম্বন। প্রত্যেকেই প্রিয়জনকে চুম্বন করে থাকেন। সে প্রেমিক-প্রেমিকাই হোক, কিংবা সন্তান। এমনকি যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি করতেও চুম্বনের বিকল্প নেই। কিন্তু এই চুম্বন কি মানুষের সৃষ্ট?‌ না, কোনও গ্রহের জীবদের মাধ্যমে চুম্বন সৃষ্টি হয়নি। চুম্বনের আবির্ভাব প্রায় ২ কোটি বছর আগে শাখামৃগদের মাধ্যমে। প্রকাশিত এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। একই গবেষণায় এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে নিয়ান্ডারথালরাও হয়তো চুম্বন করেছিলেন।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফ্লোরিডা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির গবেষকরা পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন যে, চুম্বনের শুরু কবে থেকে ? কীভাবে এর আবির্ভাব ঘটেছিল। গবেষকরা এই ব্যাপারে জানতে আগ্রহী হয়েছিলেন। কারণ, বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এর সুবিধা না থাকলেও এটি রোগ ছড়াতে পারে।

তবুও মানুষ, শিম্পাঞ্জি, বোনোবো, ওরাংওটাং এবং গরিলা প্রত্যেই চুম্বন করে। যা দৃঢ়ভাবে ইঙ্গিত দেয় যে অভ্যাসটি, শুধু মানুষের নয়। পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে এটা মানবজাতির প্রাপ্তি। গবেষণায় বিজ্ঞানীরা মানুষের পূর্বপুরুষদের আচরণ পর্যবেক্ষণ এবং বিবর্তনীয় সম্পর্কের তথ্য একত্রিত করে প্রথম চুম্বনের তারিখ নির্ধারণের চেষ্টা করেন।

অক্সফোর্ডের জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ডঃ মাটিল্ডা ব্রিন্ডেল বলেছেন, ‘‌দুটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ব্যবহার করে, আমরা একটি মডেলিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছি যা আমাদের বিভিন্ন বিবর্তনীয় পরিস্থিতি অনুকরণ করতে সাহায্য করেছে। লক্ষ লক্ষ বার মডেলটি চালানোর মাধ্যমে প্রথম চুম্বনের ঘটনাটি ধরা পড়ে ২১.‌৫–১৬.‌৯ মিলিয়ন বছর আগে।’‌ এই গবেষণার ফলাফল ‘‌ইভোলিউশন অ্যান্ড হিউম্যান বিহেভিয়ার’‌ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের চুম্বনের ‘‌আক্রমণহীন, মুখ থেকে মুখের সংস্পর্শ, যাতে খাদ্য স্থানান্তর জড়িত থাকে না।’‌ এর মধ্যে যৌন চুম্বনের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বা বন্ধুত্বপূর্ণ শুভেচ্ছার মতো প্লেটোনিক চুম্বনও অন্তর্ভুক্ত ছিল। চুম্বনের উদ্ভব কীভাবে হয়েছিল তা বিতর্কের বিষয়, এবং কেন এটি টিকে ছিল তাও বিতর্কের বিষয়। ব্রিন্ডেল বলেন, ‘‌কিছু লোক মনে করেন যে, যৌন চুম্বন সঙ্গীর গুণমান বা উপযুক্ততা মূল্যায়নের একটা কার্যকর উপায়। বিকল্পভাবে, চুম্বন এক ধরণের খেলা হতে পারে, যা যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি করে এবং নিষেকের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।’‌ তিনি আরও বলেন, জটিল সামাজিক সম্পর্ক স্থাপন বা বন্ধন বৃদ্ধির জন্য প্লেটোনিক পেক ব্যবহার করা হয় বলে মনে করা হয়। গবেষণায় বলা হয়েছে প্রাচীন মানব আত্মীয় নিয়ান্ডারথাল এবং গুহামানবদের মধ্যেও চুম্বন বিনিময় হতো । কারণ এক লাখ বছর আগে দুই প্রজাতির সহাবস্থান ছিল । নিয়ান্ডারথাল ডিএনএ–র ওপর পূর্ববর্তী এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, আধুনিক মানুষ এবং নিয়ান্ডারথালরা একটি মৌখিক জীবাণু ভাগ করে নিয়েছে, যা মানুষের লালায় পাওয়া এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া। ডঃ ব্রিন্ডল ব্যাখ্যা করেন, ‘‌এর অর্থ হল যে, দুটি প্রজাতি বিভক্ত হওয়ার পর থেকে তারা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে লালা বিনিময় করে আসছে।’‌


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!