Advertisement
  • খাস-কলম প্রচ্ছদ রচনা
  • মে ২৯, ২০২৩

বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন, বাম কংগ্রেস কি মেনে নেবে তৃণমূলের আধিপত্য? মমতার ১ এর বিরুদ্ধে ১ ফর্মূলা কতটা গ্রাহ্য হবে বাংলায় ?

শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত
বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন, বাম কংগ্রেস কি মেনে নেবে তৃণমূলের আধিপত্য? মমতার ১ এর বিরুদ্ধে ১ ফর্মূলা কতটা গ্রাহ্য হবে বাংলায় ?

বাংলার রাজনীতির ময়দান এখন ক্রমেই দল বদলের খেলায় রঙিন হয়ে উঠছে। এই আবহেই ১২ জুন পাটনায় নীতিশ কুমারের ডাকে বিজেপি বিরোধী ২১ দলের জোটের মেগা বৈঠক হবে।

প্রশ্ন হচ্ছে, ১২ জুন পাটনায় যে বিরোধী জোটের বৈঠক হবে, সেখানকার অংশগ্রহণকারীরা মুখে যতটা বিজেপি বিরোধী, মনেপ্রাণে কি  তারা নিজেদের প্রতি ততটা আন্তরিক ? এই প্রশ্নের উত্তর এক কথায় বলা সম্ভব নয়। বাংলায় তৃণমূলের বিরোধী শক্তি কংগ্রেস ও সিপিএম আবার বাংলায় কংগ্রেস-বামের সমালোচনায় সর্বদা মুখর তৃণমূল। সদ্য সাগরদীঘির বাম-কংগ্রেস জোটের জয়ী বিধানসভার বিধায়ক বাইরন বিশ্বাসকে ২৯ মে ঘাটালে কংগ্রেস থেকে ভাঙিয়ে তৃণমূলে নিয়ে এলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার তিনি ঘাটাল থেকেই অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে সাবধান করে বললেন, “এখনও কংগ্রেসের অনেক সাংসদ লাইন দিয়ে বসে আছেন তৃণমূলে আসার জন্য, তিনি একটা টিপ দিলেই কাজ হয়ে যাবে।” প্রত্তুত্যরে অধীররঞ্জন চৌধুরী বলছেন, “বিজেপি বিরোধী জোটে তৃণমূলের সঙ্গে গেলেও বাংলায় কংগ্রেস তৃণমূলের বিরোধিতা কংগ্রেস যেমন করছে তেমনই করবে। দিল্লিতে অনেক সময় কংগ্রেস বিজেপি বিরোধী জোটের বৈঠক ডাকলে তৃণমূল যোগ দেয় না। এখন যদি কেউ কংগ্রেস, তৃণমূল উভয় দলের প্রতিনিধিদের বিয়ের নিমন্ত্রণ করে, তাহলে কি কংগ্রেস বা তৃণমূল যাবে না?” অধীরবাবু বোঝাতে চেয়েছেন, জোটের বৈঠকে গেলেই বাংলায় তৃণমূল বিরোধিতা কংগ্রেস ছেড়ে দেবে না।  সিপিএম-এর ঘোষিত নীতি, বিজেপি-তৃণমূল থেকে সমান দূরত্ব বজায় রাখা। বাংলায় তারা তৃণমূলের ও বিজেপির বিরোধিতা করা। আবার বাম ও হাত শিবিরের তৃণমূল বিরোধিতায় পদ্ম শিবিরের ভীত শক্ত হবে বলে মনে করে ঘাসফুল শিবির ।মমতা বলছেন,”রাম-বাম-শ্যাম জোট, এই ঘোটের বাংলায় বিজেপি বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ যে অন্ধকার এরকম ভাবনা অপ্রাসঙ্গিক নয়। বাম-কংগ্রেস ও তৃণমূলের এই বোঝাপড়ার অভাবের পরিপূর্ণ সুবিধাটাই পদ্ম শিবির নিতে পারে, সে অঙ্কটা পরিষ্কার।

বাংলায় যখন বিজেপি বিরোধী জোট শরিকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের আবহে ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হতে চলেছে, বিরোধী জোটকে আরও শক্তিশালী করতে আগামী ১২ জুন পাটনায় বিরোধীদের প্রথম সম্মিলিত বৈঠক নীতীশ কুমারের ডাকে। বৈঠকে থাকবে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, আপ-সহ ২১টি বিরোধী দল।

নীতীশ-তেজস্বীকে আগে এ বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। এই অনুরোধ মেনেই জুনের তৃতীয় সপ্তাহে বৈঠক ডাকলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী। জেডিইউ, এনসিপি, আরজেডি, ডিএমকে-সহ অধিকাংশ বিরোধী দলই বৈঠকে থাকছে। শেষ পর্যন্ত বৈঠকে কারা থাকেন সেদিকে নজর থাকবে ওয়াকিবহাল মহলের। আগামী নির্বাচনে বিরোধী ঐক্য কোন পথে, তারই হদিশ মিলবে ১২ জুন, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কয়েকদিন আগেই নীতীশের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। জানা যাচ্ছে, ওই বৈঠকের পরেই পাটনার বৈঠকের দিনক্ষণ ঠিক হয়েছে।

কিন্তু বৈঠকের প্রাক মুহূর্তে বাম-কংগ্রেস জোটের বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসকে কংগ্রেস থেকে ভাঙিয়ে তৃণমূলে নিয়ে আসার কাজটা  কি তৃণমূল না করলে পারতো না? রাজনৈতিক মহল এ প্রশ্ন তুলছে। প্রশ্ন তোলার কারণ তৃণমূল একদিকে কংগ্রেস ভাঙাবে আর তৃণমূলের একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী ফর্মুলা মেনে কংগ্রেস, বাম সেই জোটে যোগ দেবে সেটা তৃণমূল ভাবছে কী করে? না কি তৃণমূল চাইছে বাম-কংগ্রেসের সমালোচনা করে, বিজেপির দালাল বলে, কংগ্রেসের বিধায়ক ভাঙিয়ে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করতে যাতে কংগ্রেস ও বাম বিজেপি বিরোধী জোটে থেকে দূরে সরে যায়। তৃণমূল জানে এতে বিজেপির হাত শক্ত হবে। তৃণমূলের কিছু আসন হয়তো হাতের বাইরে যাবে, কিন্তু কংগ্রেস, বাম সাইনবোর্ডে পরিণত হবে। কেননা বাম ও কংগ্রেস তাদের জায়গা কেন বিজেপি বিরোধিতার জন্য তৃণমূলের হাতে ছেড়ে দেবে? তৃণমূলের বিজেপি বিরোধিতার পূর্ব রেকর্ড তো সুখকর নয়। তাই বাম ,কংগ্রেস কোনও ভাবেই নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বাংলায় বিপন্ন করার জন্য তৃণমূলের সঙ্গে মিলেমিশে একের বিরুদ্ধে এক অর্থাৎ বিজেপির বিরুদ্ধে একমাত্র তৃণমূলের প্রার্থী দেওয়ার সূত্র মানবে না। তাই নিশ্চিত করে বলা যায় অন্য রাজ্যে যাই হোক না কেন, ২১ দলের জোটের মূল কান্ডারীরা কোনও ভাবেই এক হতে পারবে না। সেই দায় শাসক দল হিসেবে তৃণমূলকে বেশি নিতে হবে। তৃণমূলের একদিকে বিজেপি বিরোধী জোটের ডাক দেওয়া, অন্যদিকে কংগ্রেস, বামকে বিজেপির বি টিম বলে প্রতিনিয়ত গাল দেওয়া আসলে বিজেপির হাত শক্ত করার নামান্তর বলেই বাম ও কংগ্রেস মনে করে। আদর্শগত ভাবে বামেদের তৃণমূলের হাত ধরা অসম্ভব। তবে অধীর রঞ্জন চৌধুরী যতই গলা ফাটান না কেন, তৃণমূলের বিরোধিতা এ রাজ্যে তাঁর দল করবে। হ্যাঁ শেষ পর্যন্ত যদি কংগ্রেস হাইকমান্ড প্রদেশ কংগ্রেসকে তৃণমূলের হাত ধরতে বলে তাহলে হয় অধররঞ্জন চৌধুরীদের সেটা মানতে হবে, না হলে সবাই মিলে কংগ্রেস ছেড়ে দিতে হবে। এর আগে আমরা এই পরিস্থিতি দেখেছি, তৃণমূলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েও, হাইকমান্ডের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের হাত কংগ্রেস ধরেছে।

২০১১ -র বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রের নির্দেশে রাজ্যে হাত শিবির তৃণমূলের হাত ধরে বামেদের বিরুদ্ধে লড়াই করে ৩৪ বছরের বাম সরকারের পতন ঘটিয়েছিল কংগ্রেস। আজ আবার সে কংগ্রেসের হাত ধরেছে সিপিএম। তাই জোটে যাওয়ার আগে বামেদেরও ভাবতে হচ্ছে এই রাজ্যে তারা কংগ্রেসের পাশে থাকার ইচ্ছে নিয়ে চললেও শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস বামেদের পাশে থাকতে পারবে তো?  এবারের সমীকরণ একটু আলাদা। তৃণমূলের রাহুল গান্ধিতে এলার্জি রয়েছে। তাই নিশ্চিত ভাবে তৃণমূল জোটের নেতৃত্ব কংগ্রেস মানবে না।রাজ্যে কংগ্রেস-তৃণমূল কাছাকাছি আসবে না, বলা যায়। এটাই একমাত্র কংগ্রেস-বামকে এই রাজ্যে কাছাকাছি আনতে পারে। বাকিটা সময় আর পরিস্থিতি বলবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!