- এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৫
রাজ্যজুড়ে অগ্নিমূল্য চালের বাজার ! ১০০ টাকা কেজি দরে চাল কিনতে পকেটে টান মধ্যবিত্তের…
দুর্মূল্যের বাজারে কোনো কিছুই এখন আর সস্তা নয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য যেমন ডিম, দুধ, পাউরুটির মতো পণ্যের দাম হু হু করে বেড়েছে। অস্বাভাবিকভাবে হারে চালের দাম, মিনিকেট চাল এখন ১০০ টাকা কেজি। মধ্যবিত্ত আমজনতার পকেটে টান।
কথায় আছে মাছে-ভাতে বাঙালি। এবার বাঙালির হেঁশেলে বিপর্যয়। পশ্চিমবঙ্গে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ভাতের অত্যন্ত গুরুত্ব রয়েছে। বাঙালি বাড়িতে পাতে অন্যান্য পদ যাই থাকুক না কেন ভাত থাকবেই। আর তাই বাংলার বেশীর ভাগ বাড়িতে সাধারণত চালের পরিমাণও বেশী কেনা হয়। কিন্তু বাঙালির প্রধান খাবার ভাতের চাল কিনতেই পকেটে টান পড়ছে অধিকাংশক ক্রেতাদের। হুট করে চালের দাম এতটা বেড়ে যাওয়ায় হিমসিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়াতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে মিনিকিট, বাঁশকাঠি, গোবিন্দভোগসহ অন্যান্য চালের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। কম বেশী সব চালের দরেই প্রতি কেজিতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকী ২৫ টাকা পর্যন্তও বেড়েছে কিছু কিছু চালের কেজিতে। কিন্ত চালের দাম কেন বাড়ছে, তা বুঝতে পারছেন না ক্রেতা থেকে চাল ব্যবসায়ী কেউই।
দুর্মূল্যের বাজারে কোনো কিছুই এখন আর সস্তা নয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য যেমন ডিম, দুধ, পাউরুটির মতো পণ্যের দাম হু হু করে বেড়েছে। অস্বাভাবিকভাবে হারে চালের দাম, যে মিনিকেট চাল কিছুদিন আগে ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল, তা এখন ১০০ টাকা কেজি। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অন্যান্য চালের দামও। ৪৩ টাকা প্রতি কেজি দরে পাওয়া যেত রত্না চাল, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা। বাঁশকাঠি চালের দাম প্রতি কেজিতে ৭২ টাকা ছিল পূর্বে, যা বেড়ে ৮০ টাকা ছুয়েছে। আর গোবিন্দভোগ চাল তো প্রায় নাগালের বাইরেই পৌঁছে গিয়েছে। যে গোবিন্দভোগ চাল আগে ৮৫ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল, তা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এভাবে লাগামহীন দাম বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তাগ্রস্থ সাধারণ মানুষ।
পূর্ব বর্ধমানকে ‘পশ্চিমবঙ্গের ধানের গোলা’ বলা হয়। সেই কৃষিপ্রধান জেলাতেও চালের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চিন্তার ভাঁজ পড়েছে প্রশাসনের কপালে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশামনের তরফে টাস্ক ফোর্স গঠন করে এর রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েষা রানি জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। টাস্ক ফোর্সের রিপোর্টের অপেক্ষা করছেন তারা। রিপোর্ট এলেই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিপিআইএম-এর কৃষক সভার রাজ্য সভাপতি অমল হালদারের দাবি, একাংশ অসাধু ব্যবসায়ী চালের দাম বাড়িয়েছে বলেই এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। তিনি প্রশাসনকেও নিশানা করে বলেছেন, সরকারের নজরদারির অভাব রয়েছে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে। জেলা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে যেন তারা পরিস্থিতির উপর নজর রাখে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
তবে চালের এভাবে বেড়ে যাওয়া নিয়ে ক্ষোভ তৈরী হয়েছে চাল বিক্রেতাদের মধ্যেও। তাঁদের অভিযোগ এর ফলে ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। ক্রেতারাও বেশী দাম দিয়ে চাল কিনতে চাইছেন না। মূলত বড়ো বড়ো রাইস মিলের থেকে আড়তদাররা চাল নিয়ে এসে নিজেরা বিক্রি করেন এবং দোকানে জোগান দেন। নতুন ধান ওঠার মরশুমে, কৃত্রিমভাবে অভাব তৈরি করে মুনাফা লোটার চেষ্টা করছেন কি না সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন চাল ব্যবসায়ীরা। বেঙ্গল রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মালেক জানিয়েছেন, কৃষকরা যদি ধানের দাম বেশি পান, তাতে তাদের ক্ষতি হবে না। তার মতে, নতুন চাল বাজারে উঠলে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হয়ে আসবে। ক্রেতারা প্রশ্ন তুলছেন, এভাবে আর কতদিন এমন অস্বাভাবিক দাম সহ্য করা যাবে!
❤ Support Us






