- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জুলাই ১৯, ২০২৫
পুনর্বাসন মৌলিক অধিকার নয়: সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়
জনস্বার্থে জমি অধিগ্রহণ করা হলে ক্ষতিগ্রস্ত জমিমালিকরা জীবিকার অধিকারের দোহাই দিয়ে পুনর্বাসন বা বিকল্প জমি দাবি করতে পারেন না, এটি কোনো সংবিধানিক মৌলিক অধিকার নয়। সুতরাং সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের ‘জীবিকা ও জীবনধারণের অধিকার’কে পুঁজি করে বিকল্প জমি বা বাড়ি দাবি করা যাবে না, সাফ জানিয়ে দিল সুপ্রিম আদালত।
শনিবার, এই ঐতিহাসিক রায় দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, ক্ষতিপূরণ পাওয়া জমিদাতার অধিকার হতে পারে, কিন্তু পুনর্বাসন একান্তই সরকারের সদিচ্ছা, তা আইনি অধিকার নয়। বিচারপতি জে বি পার্দিওয়ালা ও ন্যায়মূর্তি আর মাহাদেবন-এর বেঞ্চ বলেছেন, ‘আইন মেনে জমি অধিগ্রহণ হলে তা সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে সুরক্ষিত জীবিকার অধিকার লঙ্ঘন করে না। জমি হারানো মানেই জীবিকা হারানো নয়।’ হরিয়ানার কৈথল জেলার কয়েকজন জমির মালিকের আবেদনের ভিত্তিতে এ মামলার সূত্রপাত। জমিমালিকদের দাবি, ৯০-এর দশকে অধিগৃহীত জমির বিনিময়ে হরিয়ানা সরকারের ১৯৯২ সালের পুনর্বাসন নীতির আওতায় তাঁদের বিকল্প আবাসিক প্লট দেওয়া হোক, তাও তৎকালীন [তিন দশক আগের] দামে। তবে আদালত সেই যুক্তিকে মান্যতা দিতে নারাজ। রায়ে বলা হয়েছে, এত পুরনো কোনও নীতির ভিত্তিতে আজকের দিনে বিকল্প জমি দাবি করা যায় না। বরং তাঁরা যদি পুনর্বাসনের জন্য আবেদন করতেই চান, তবে তা বর্তমান আইন ও নীতিমালার ভিত্তিতেই করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার জন্য আদালত ৪ সপ্তাহ সময় দিয়েছে এবং হরিয়ানা নগরোন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য সরকারকে নতুন আবেদন যথাযথ বিবেচনা সাথে খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছে।
শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘অনেক সময়ে রাজ্য সরকার জনপ্রিয়তা বা তোষণের খাতিরে এমন সব পুনর্বাসন প্রকল্প চালু করে, যেগুলির আইনগত ভিত্তি নেই। ফলত, নীতি আর বাস্তবতার মধ্যে ফারাক তৈরি হয়। সে অসঙ্গতি থেকে দীর্ঘমেয়াদি মামলা-মোকদ্দমা শুরু হয়। এ মামলা সেরকমই অব্যবস্থার জ্বলন্ত উদাহরণ।’ আদালতের মতে, রাজ্য সরকার পুনর্বাসনের কথা ভাবতেই পারে, তবে সেটি করতে হবে মানবিকতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে, আইনগত বাধ্যবাধকতার ভিত্তিতে নয়। আর সেটিও প্রযোজ্য হবে তাঁদের ক্ষেত্রেই, যারা জমির উপর একান্তভাবে নির্ভর করতেন— যেমন প্রান্তিক কৃষক, দিনমজুর, বা যাঁরা সরাসরি জমির উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে সবক্ষেত্রে একচেটিয়াভাবে পুনর্বাসনের দাবি করা উচিৎ নয়। আদালতের মন্তব্য, ‘প্রত্যেক অধিগ্রহণেই পুনর্বাসনের দাবি জানানো এক ধরনের প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’
সতর্কতা হিসাবে শীর্ষ আদালত এও জানায়, ভবিষ্যতে যাতে কোনো চক্র বা দালালমহল এই পুনর্বাসনের সুযোগ নিয়ে জমি দখলের কারবার না শুরু করে, তার জন্য রাজ্য সরকার ও এইইউডিএ-কে কড়া নজরদারি চালাতে হবে। পাশাপাশি, যাঁদের পুনর্বাসনের ভিত্তিতে জায়গা বরাদ্দ হবে, তাঁরা যেন ওই সম্পত্তিকে বাজারে বিক্রি করে টাকা রোজগারের উপায় হিসেবে না দেখেন। এই সমস্ত জমিতে ৫ বছরের মধ্যে কোনওরকম কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত। বরাদ্দের পর কমপক্ষে ৫ বছর জমি হস্তান্তর করা যাবে না, যদি একান্তই তা করতে হয়, তবে সরকারের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রসঙ্গত, এর আগেও সুপ্রিম কোর্ট নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন [২০১১] ও অমরজিৎ সিং বনাম পাঞ্জাব সরকার [২০১০]-এর মতো বহুল চর্চিত মামলায় পুনর্বাসনকে আইনি অধিকার না বলে, সরকারের মানবিক দায় হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছিল। শনিবারের রায়ে, আগের সে অবস্থানেই সিলমোহর দিল দেশের সুপ্রিম আদালত।
❤ Support Us






