Advertisement
  • বি। দে । শ
  • জুলাই ৩১, ২০২৬

মরক্কো থেকে জনস্রোতের ঢল, ফের অভিবাসন সংকটে স্পেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে, জরুরি অবস্থা জারি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মরক্কো থেকে জনস্রোতের ঢল, ফের অভিবাসন সংকটে স্পেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে, জরুরি অবস্থা জারি

ভয়ঙ্কর অভিবাসন সংকটের মুখোমুখি ইউরোপ। মরক্কো থেকে হাজার হাজার অভিবাসী সমুদ্র ও সীমান্ত বাধা অতিক্রম করে উত্তর আফ্রিকার স্পেনীয় স্বায়ত্তশাসিত শহর সিউটাতে প্রবেশ করেছে। এই আকস্মিক অভিবাসীর ঢল স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। সিউটা শহরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। যার ফলে সিউটা প্রশাসন মাদ্রিদের কাছে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে স্পেন সরকার সেনাবাহিনী, বেসামরিক রক্ষীবাহিনী এবং অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করেছে। স্থানীয় প্রশাসন দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্তের পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন। অবৈধ অভিবাসন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক লড়াই আবারও তীব্র হয়েছে। স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে আলোচনা চলছে এবং অবৈধভাবে প্রবেশ করা অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুত করতে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।

সিউটা স্পেনের একটা ছোট ভূখণ্ড। এই ভূখণ্ড স্পেনের অধীনে হলেও ইউরোপে নয়, এটা আফ্রিকায় অবস্থিত। যার সীমান্ত মরক্কোর সঙ্গে সংযুক্ত। এটা আফ্রিকার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থল সীমান্ত। ফলস্বরূপ, এটা বছরের পর বছর ধরে ইউরোপে পৌঁছনোর চেষ্টাকারী অভিবাসী এবং মানব পাচারকারীদের জন্য একটা প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হয়ে উঠেছে।
এই সংকট ইউরোপীয় রাজনীতিকেও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিও মেলোনি বলেছেন যে, অনিয়ন্ত্রিত অবৈধ অভিবাসন ইউরোপীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। তিনি বলেন, ইতালি এই বিষয়ে পিছু হটবে না এবং প্রয়োজনে স্পেনের সঙ্গে শেনগেন চুক্তি স্থগিত করার মতো ব্যতিক্রমী পদক্ষেপও বিবেচনা করতে পারে। তবে, আপাতত শেনগেন চুক্তি স্থগিত করা হয়নি। এটা ইতালির পক্ষ থেকে একটি রাজনৈতিক সতর্কবার্তা।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনও এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইউরোপের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেছে। হোয়াইট হাউস বলেছে, ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত ব্যাপক অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করে এমন নীতিগুলো পুনর্বিবেচনা করা। এ সংকট শুধু স্পেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সিউটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্তের একটা অংশ। তাই এখানকার পরিস্থিতি ইউরোপ জুড়ে সীমান্ত নিরাপত্তা, শরণার্থী নীতি এবং শেনগেন ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। এই কারণেই এই বিষয়টি এখন ইউরোপীয় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজনীতির অন্যতম জরুরি বিষয় হয়ে উঠেছে। হাজার হাজার অভিবাসী সীমান্ত পার হচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও হাজার হাজার অভিবাসীর আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সিউটার প্রেসিডেন্ট হুয়ান জেসুস ভিভাস বলেছেন, পরিস্থিতি ২০২১ সালের মতো সংকটের দিকে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, এক সপ্তাহে প্রায় ১৫০০ জন এসেছেন এবং প্রতিদিন প্রায় ৩০০ জন করে আসছে। অভিভাবকহীন নাবালক অভিবাসীদের জন্য কেন্দ্রগুলিপূর্ণ, এবং অনেকেই খোলা আকাশের নিচে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। ২০২১ সালের মে মাসে ২ দিনে মরক্কো থেকে ৮০০০ জনেরও বেশি অভিবাসী সিউটাতে এসেছিল। সে সময় সীমান্ত ব্যবস্থা পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। বর্তমান সংকটটিকে সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শুধু অবৈধ অভিবাসন সমস্যা নয়, এ এক মানবিক বিপর্যয়ও বটে। সাম্প্রতিক সংকটে সমুদ্রপথে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরে এ পথে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!