- এই মুহূর্তে দে । শ
- মার্চ ১৮, ২০২৫
জমি দিচ্ছে না রাজ্য, তাই ব্যাহত হচ্ছে রেলের প্রকল্প। সংসদে অশ্বিনীর মন্তব্যের বিরোধিতায় সরব তৃণমূল
সোমবার রাজ্যসভায় রেলের কর্মপদ্ধতি, ব্যয়-বরাদ্দ, পরিকাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে বিরোধী রাজ্যগুলির সরকার রেলের কাজে সাহায্য করছে না বলে অভিযোগ করেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রেও জমিজটে রেলের কাজ আটকে আছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হন তৃণমূল সাংসদরা।
সোমবার রাজ্যসভায় রেল বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে রাজ্য সরকারের সহযোগিতার অভাবে রেলের প্রকল্পগুলো আটকে থাকার দাবি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজ্য সরকার রেলের উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতা করছে না, যার ফলে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ আটকে যাচ্ছে। বিরোধী দলগুলির প্রশ্নের উত্তরে, অশ্বিনী বৈষ্ণব বিভিন্ন রাজ্যে রেল প্রকল্পের পরিস্থিতি তুলে ধরেন, তামিলনাড়ু, কেরালা ও পচিমবঙ্গের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে রেলের প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমির মধ্যে মাত্র ২১ শতাংশ জমি পাওয়া গেছে, বাকি ৭৯ শতাংশ জমি রাজ্য সরকার প্রদান করতে পারেনি, যার কারণে একাধিক প্রকল্প আটকে গেছে। বিশেষভাবে, নন্দীগ্রামের রেললাইনের কাজের উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী জানান, জমি নিয়ে সমস্যার কারণে সেখানে ১৭ কিলোমিটার রেললাইন বসানোর কাজ করতে ৩ বছর সময় লেগেছে। তিনি আরো উল্লেখ করেন, নিউ ব্যারাকপুর থেকে বারাসত পর্যন্ত রেললাইনের কাজও আটকে আছে। খিদিরপুর স্টেশন নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণে সমস্যা চলছে, সে সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ খিদিরপুরে রেলের কাজ বন্ধ রয়েছে, খিদিরপুর, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে অবস্থিত। আমরা জানি, এটি কার এলাকা।’
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা রেলমন্ত্রীর মন্তব্যের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, রেলমন্ত্রী প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে অসত্য ও মিথ্যা কথা বলছেন। রেলমন্ত্রীর উল্লেখিত প্রকল্পগুলির মধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প মমতার কেন্দ্রের মধ্যে আসেই না। তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন অভিযোগ করেন, রেলমন্ত্রী রাজ্যসভার আলোচনায় ‘রেল বাজেট’ বলে উল্লেখ করেছেন, যা যথাযথ নয়। রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়, তবে চেয়ারম্যান তাতে কর্ণপাত করেননি, প্রতিবাদে তৃণমূল সাংসদরা ওয়াকআউট করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংসদের বাইরে রেলমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, যে সব রেল প্রকল্প আটকে আছে সেগুলি মূলত জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সমস্যা বা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে। তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, জমি অধিগ্রহণে তৃণমূল সুরকারে অনীহা আর সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা না করার কারণে প্রকল্পগুলির কাজ বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি আরো উল্লেখ করেন, জোকা-বিবাদীবাগ রেল প্রকল্পের কাজ খিদিরপুরে জমি অধিগ্রহণের কারণে আটকে গেছে। তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় এই মন্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, ‘মোমিনপুরে জমির সমস্যা রয়েছে, খিদিরপুরে নয়। খিদিরপুরের সমস্যা নিয়ে রেলমন্ত্রী বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। বাংলাকে আঘাত করতে গিয়ে তিনি ‘কাণ্ডজ্ঞান’ হারিয়েছেন, ক্রমাগত মিথ্যাচার করছেন।
এদিন লোকসভাতেও রেলের বরাদ্দ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে তুমুক বিতর্ক হয়। তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায় রেলের বেহাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ তোলেন, দিল্লি স্টেশনে যাত্রীদের পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার পরেও পরিস্থিতি বদলায়নি। একদিকে, বন্দে ভারত ট্রেনের মতো বিলাসবহুল ট্রেন চলছে, অন্যদিকে সাধারণ যাত্রীদের এখনো ভিড়ে ঠাসা ট্রেনে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বাতিল টিকিট থেকে রেলের আয় নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। বলেন, ২০১৯-২৩ সালের মধ্যে বাতিল টিকিট থেকে রেলের আয় হয়েছে ৬১১৩.৮ কোটি টাকা আর অপেক্ষমাণ টিকিট বাতিল থেকে আয় হয়েছে ১২২৯.৮৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রেলের সেবার অবনতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকার সময়ে অনেক বেশি ট্রেন চলত, কিন্তু এখন ৪ হাজার ট্রেন কম চলছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ রেলে যাত্রী সুরক্ষা তলানিতে ঠেকেছে । মহিলা পুলিশের উপস্থিতিও কমে গেছে। এছাড়াও ট্রেনের চালক পদের প্রচুর পদ খালি রয়েছে, অথচ তা পূরণ না করে অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, এর ফলে লাগাতার দুর্ঘটনা ঘটছে।’ তৃণমূল সাংসদ জুন মালিয়াও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বাংলায় রেল প্রকল্পে বঞ্চনার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ‘রাজ্য সরকার যে সকল প্রকল্পের জন্য জমি দিতে রাজি হয়নি, কেন্দ্রের উচিৎ ছিল কেন তা দিতে রাজি হওয়া যাচ্ছে না, সেটি সবদিক খতিয়ে দেখে সঠিকভাবে সমাধান করা। কিন্তু কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রক তা করছে না, উল্টে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।’
❤ Support Us






