Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ৮, ২০২৫

উত্তরবঙ্গের ঘটনার অভিঘাতে তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর! আতঙ্ক, আশঙ্কা নিয়েই ত্রিপুরায় পথে সায়নি, কুণালরা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
উত্তরবঙ্গের ঘটনার অভিঘাতে তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর! আতঙ্ক, আশঙ্কা নিয়েই ত্রিপুরায় পথে সায়নি, কুণালরা

আবারও উত্তপ্ত উত্তর-পূর্ব। মঙ্গলবার রাতে ত্রিপুরার আগরতলার বনমালিপুর এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে। সে উত্তেজনার আঁচ গিয়েই পৌঁছল কলকাতায়। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তৃণমূল নেতৃত্ব নির্দেশ দিলেন, সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ত্রিপুরা যেতে হবে প্রতিনিধিদলকে। বুধবার সকালেই কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ৬ জনের একটি প্রতিনিধি দল রওনা দেয় আগরতলার উদ্দেশে। দলে রয়েছেন— তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ, সাংসদ সায়নী ঘোষ, জয়নগরের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল, রাজ্যের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা, সাংসদ সুস্মিতা দেব এবং যুব নেতা সুদীপ রাহা। ত্রিপুরায় গিয়ে আক্রান্ত কর্মীদের সঙ্গে দেখা করা, দলীয় দফতরের ক্ষয়ক্ষতির পরিদর্শন, প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ—এই ৩ দফার কাজের দায়িত্বেই পাঠানো হয়েছে প্রতিনিধিদের বলে ঘাসফুল শিবির সূত্রে খবর।

বুধবার, বিমানবন্দরে প্রবেশ করার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ বলেছেন, ‘আগরতলায় আমাদের পার্টি অফিসে হামলা চালিয়েছে বিজেপি-প্রশ্রয়প্রাপ্ত দুষ্কৃতীরা। পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে দেখেছে। অতীতেও বারবার ওখানে আমাদের উপর হামলা হয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছিল। কোনোক্রমে বেঁচে ফিরেছিলাম। এখনো হুমকি আসছে। আমরা যাচ্ছি, কিন্তু ফিরতে যদি আমাদের মৃতদেহই ফিরে আসে, তবু জানবেন আমরা পিছিয়ে যাইনি।’ বিজেপির তরফ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, কোনো হামলাই না কি হয়নি। বরং উত্তরবঙ্গের নাগরাকাটায় বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর উপর আক্রমণের প্রতিবাদেই তারা আগরতলায় মিছিল করেছিল। সেই সময় কিছু সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, কিন্তু তাতে বিজেপির সংশ্লিষ্টতা নেই বলেই দাবি তাদের। তৃণমূল অবশ্য সেই দাবি মানতে নারাজ। কুণাল ঘোষ এদিন স্পষ্ট বলেন, ‘আমরা কোনও শারীরিক হিংসাকে সমর্থন করি না। নাগরাকাটার ঘটনার সঙ্গে আমাদের দলের কোনো কর্মী জড়িত নন। বিজেপি এসব বলে আসল ঘটনা থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে।” একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘শান্তিপূর্ণ মিছিল যদি হয়ে থাকে, তা হলে দফতরে ভাঙচুর হল কীভাবে? পুলিশের সামনে অফিস ভাঙা হল, অথচ কেউ ধরা পড়ল না?’ কুণালের সঙ্গে রয়েছেন যাদবপুরের সাংসদ তথা যুবনেত্রী সায়নী ঘোষ। তিনি বলেন, ‘আমরা ত্রিপুরার কর্মীদের পাশে থাকতে যাচ্ছি। তাঁদের বার্তা দিতে যাচ্ছি যে, তাঁরা একা নন। দিল্লি হোক বা ত্রিপুরা—আমরা সব জায়গায় এক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকব। আর বিজেপি সবসময় আমাদের আইনশৃঙ্খলার পাঠ দেয়। কিন্তু কাল যা ঘটেছে, তা কি কোনও সুশাসনের পরিচয় দেয়?’ নাগরাকাটার প্রসঙ্গ টেনে সায়নীর বক্তব্য, ‘বিজেপি সাংসদরা সারা বছর নিরুদ্দেশ থাকেন। ভোট এলেই মাঠে নামেন। মানুষ রেগে গেলে তাকে দমন করে রাখা যায় না। তবে আমাদের কেউ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়।’

এ ঘটনার কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলায় ব্যালট বাক্সে পরাজিত হয়ে বিজেপি এখন হিংসার আশ্রয় নিচ্ছে। আগরতলায় পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও আমাদের পার্টি অফিসে হামলা চালানো হয়েছে। এটা বিজেপির প্রতিশোধপরায়ণ, স্বৈরাচারী মনোভাবের প্রমাণ।’ সঙ্গে তিনি নিজের পুরনো অভিজ্ঞতার কথাও মনে করিয়ে দেন। লেখেন, ‘২০২১ সালের ত্রিপুরা সফরের সময় আমার কনভয়েও হামলা হয়েছিল। সে বারও পুলিশ কিছু করেনি।’ এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ত্রিপুরার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। এটি গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত। বিজেপি আমাদের পার্টি অফিস পুড়িয়ে দিতে পারে, পোস্টার ছিঁড়তে পারে, কর্মীদের ভয় দেখাতে পারে। কিন্তু লড়াইয়ের মনোবল মুছে দিতে পারবে না।’ একইসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘যাঁরা ক্ষমতায় থেকেও বিরোধীদের কণ্ঠ রোধ করতে হিংসার আশ্রয় নেন, তাঁরা আসলে নিজেদের দুর্বলতা ও নৈতিক দেউলিয়াপনার পরিচয় দেন।’

এদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য নাগরাকাটার ঘটনার তদন্তে এনআইএ-কে টানার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গুন্ডাদের আশ্রয়দাতা। বিজেপি সাংসদ ও বিধায়ক আক্রান্ত হওয়ার পরও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। তাই এনআইএ তদন্ত চাইছি।’ বিধানসভা ভোটের আগে যুযুধান এ লড়াই দেখে একদিকে যেমন উত্তেজনার পারদ চড়ছে, তেমনি আবার কংগ্রেস-বামদলগুলি মনে করছে এ আসলে পূর্বপরিকল্পিত। রাজ্যের মানুষকে তৃণমূল-বিজেপির বাইরে অন্য চিন্তা না করতে দেওয়ার কৌশল। যদিও, তৃণমূলের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, এ বার তাঁরা কোনোভাবেই পিছিয়ে আসবে না।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!