Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ডিসেম্বর ১১, ২০২৫

কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে সংসদ চত্বরে লাগাতার বিক্ষোভ তৃণমূলের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে সংসদ চত্বরে লাগাতার বিক্ষোভ তৃণমূলের

শীতকালীন অধিবেশনে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে চাপ বাড়াতে ‘বাংলা বঞ্চনা’ ইস্যুকে প্রধান হাতিয়ার করে লাগাতার বিক্ষোভে তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্য অর্থ বন্ধ রেখে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালানো হচ্ছে, এমন অভিযোগকে সামনে রেখেই তৃণমূল সাংসদরা প্রতিদিনই সংসদ চত্বরে আলাদা আলাদা কৌশলে বিক্ষোভ করছে। বিভিন্ন দিনে আলাদা আলাদা পোস্টার, কখনো সাদা প্ল্যাকার্ড, কখনো বঞ্চনার খতিয়ান তুলে ধরে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার বাংলার শাসক দলের প্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি, প্রায় দু-বছর ধরে কেন্দ্র ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলার প্রাপ্য তহবিল আটকে রাখা হয়েছে।

জোড়া ফুল শিবিরের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি, যার মধ্যে শুধু এমজিএনআরইজিএ–তেই প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা আটকে রয়েছে। তৃণমূলের ক্ষোভ, কেন্দ্র একশো দিনের কাজ, এমজিএনআরইজিএ, পিএম-আবাস যোজনা, সমগ্র শিক্ষা, জল জীবন মিশন, পিএম গ্রাম সড়ক যোজনা— সহ একাধিক প্রকল্পের বকেয়া অর্থ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রেখেছে। একই সঙ্গে আমফান-সহ বাংলার দুর্যোগ মোকাবিলা, পুনর্গঠন ও ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করেছে দল। এ ছাড়াও দুর্বার বন্যার জন্য দায়ী জলাধার ব্যবস্থাপনা, ডিভিসি–র পক্ষ থেকে একতরফা জলছাড়, বাংলার অভিবাসী শ্রমিকদের উপর হামলা, আমৃত ভারত স্টেশন স্কিমে রেলওয়ে পুনর্বিকাশের ধীরগতি— এসব বিষয়ও তৃণমূলের ২০ দফা প্রশ্নের তালিকায় রয়েছে। সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক দাবি হিসেবে সারনা/সারি ধর্মের স্বীকৃতি, কুর্মালি ও রাজবংশী কামতাপুরি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা, গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার মর্যাদা, পয়লা বৈশাখকে ‘পশ্চিমবঙ্গ ফাউন্ডেশন ডে’ ঘোষণা এবং রাজ্যের নাম ‘বাংলা’ করার অনুমোদনের মতো ইস্যুগুলিও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

তৃণমূলের বক্তব্য, লোকসভা ও রাজ্যসভায় ধারাবাহিকভাবে প্রশ্ন তোলা হলেও, সেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে কেন্দ্রের তরফে কোনো উচ্চবাচ্চ দেখা যাচ্ছে না, সংসদে দলের সাংসদরা বুধবার সাদা কাগজ হাতে প্রতীকী প্রতিবাদ দেখিয়ে বলেছিলেন, ‘৬৩৬ দিন কেটে গেলেও কেন্দ্র হোয়াইট পেপার আনতে ব্যর্থ। বাংলার প্রতি স্পষ্ট বঞ্চনা চলছে।’ বৃহস্পতিবারও দেখা গেল সাংসদরা বঞ্চনা আর দাবির কথা পোস্টারে লিখে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন। রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব বলেন, ‘২০২৪ সালের মার্চে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বাংলার বরাদ্দ নিয়ে প্রকাশ্য বিতর্কে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রায় ২১ মাস পরেও কোনো তথ্য সামনে আনেনি কেন্দ্র।’ এদিন মকর দ্বারের সামনে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সাংসদরা স্লোগান দেন— ‘বাংলার বকেয়া কবে মেটানো হবে? নরেন্দ্র মোদি, জবাব দাও।’

অন্যদিকে, লোকসভায় নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে আলোচনার সময় তৃণমূল নেত্রী শতাব্দী রায় কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, নোটবন্দীর নামে কালো টাকা উদ্ধার হয়নি, উল্টে মানুষের উপর অত্যাচার নেমে এসেছিল, বর্তমানে ‘এসআইআর’–এর মতো ব্যবস্থার মাধ্যমেও সাধারণ মানুষকে একইভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ‘বিহারের নির্বাচনে কেউ যদি জিতে থাকে, তা হলে সেটা মানুষ নয়, বরং নির্বাচন কমিশন।’ বৃহস্পতিবার, এক্স–হ্যান্ডেলে তৃণমূল আরো অভিযোগ করেছে, কেন্দ্র সরকার ‘গরিবের মজুরি, আবাস বরাদ্দ এবং বিভিন্ন খাতের প্রাপ্য টাকা আটকে রেখে পরিকল্পিতভাবে বাংলাকে শাস্তি দিতে চাইছে।’ তৃণমূল কংগ্রেস ঘোষণা করেছে—‘বাংলার প্রাপ্য এক টাকা–ও ছাড়া হবে না; ন্যায় না মিললে প্রতিবাদ আরো তীব্র, বিস্তৃত করা হবে।’ তৃণমূলের মতে, শীতকালীন অধিবেশনই কেন্দ্র–রাজ্য সম্পর্ক, ফেডারেল কাঠামো এবং বাংলার আর্থিক ‘বঞ্চনা’ নিয়ে জাতীয় পরিসরে বডড়ো লড়াই গড়ে তোলার উপযুক্ত সময়। সে লক্ষ্যেই সংসদ চত্বরে জারি রয়েছে দিনভিত্তিক আন্দোলন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!