- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ২২, ২০২৫
বাংলা ভাষার উপর আক্রমণ! আগস্টে বসতে পারে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন
বাংলা ভাষা এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার–এই দুটি ইস্যুকে সামনে রেখে আগস্টে রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকার চিন্তাভাবনা করছে রাজ্য সরকার। বিধানসভা সূত্রে জানা গেছে, ৮ থেকে ২১ আগস্টের মধ্যে বসতে পারে বিশেষ অধিবেশন। তৃণমূল পরিষদীয় দল ইতিমধ্যে এই বিষয়ে আলোচনা করেছে বিধানসভার সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে। যদিও এ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়নি।
বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে বাংলাভাষা ও পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি পেশ করা হতে পারে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ বিল। বিলগুলোর খসড়া তৈরি নিয়ে চলছে আলোচনা আইন দফতরের সঙ্গে। সবকিছু চূড়ান্ত হলে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অধিবেশন বসানোর আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হবে। এর আগেও বিশেষ বিশেষ বিষয়ে অতিরিক্ত অধিবেশন বসেছে বিধানসভায়। যেমন, গত বছর আরজি কর হাসপাতালে এক যুবতী চিকিৎসককে যৌন নির্যাতন করে খুনের ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘অপরাজিতা বিল’ পাশ করতে আগস্ট মাসে বিশেষ অধিবেশন হয়েছিল। এদিকে, দিল্লিতে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে সংসদের বাদল অধিবেশন। সে অধিবেশনেও বাংলা ভাষা ও পরিযায়ী শ্রমিকদের ইস্যুতে সরব হতে চলেছে জোড়াফুল শিবির। তৃণমূল সূত্রে খবর, সাংসদরা গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ধর্না দেবেন, পাশাপাশি লোকসভা ও রাজ্যসভায় বাংলায় বক্তৃতা করার মাধ্যমে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের ওপর হওয়া ‘আক্রমণ’-এর প্রতিবাদ জানাবেন।
গতকাল, ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘প্রতি-আক্রমণের’ ঘোষণা করেন। সে কৌশল অনুযায়ীই সংসদে ও রাজ্যে দুই স্তরেই বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়াবে তৃণমূল। অন্যদিকে, রাজ্যেও ‘ভাষা আন্দোলন’ আরো বিস্তৃত, আরো তীব্র করতে চাইছে শাসক দল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ২৭ জুলাই ‘নানুর দিবস’ থেকে শুরু করে, প্রতি শনি ও রবিবার রাজ্যজুড়ে বাংলাভাষার পক্ষে এবং বিজেপির বিরোধিতায় কর্মসূচি পালিত হবে। তবে এই ইস্যুতে পালটা দিতে প্রস্তুত বঙ্গ বিজেপিও। মঙ্গলবার দিল্লির পথে রওনা হওয়ার আগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করে বলেন, ‘বাংলা ভাষা রক্ষা করার অধিকার মুখ্যমন্ত্রীকে দিলেন? যাঁকে রাষ্ট্রপতি করার কথা উঠেছিল, সেই প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বিরোধিতা উনিই করেছিলেন। যে পার্টিকে উনি গালাগালি করেন, সে অন্যতম পার্টির প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ও বাঙালি।’ শুভেন্দু আরো বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বহু বাঙালি রয়েছেন, যেমন প্রয়াত বিবেক দেবরায় (প্রধানমন্ত্রীর প্রাক্তন উপদেষ্টা), সঞ্জীব সান্যাল (বর্তমান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা), এবং হরিয়ানার সদ্য নিযুক্ত রাজ্যপাল অধ্যাপক অসীম ঘোষ। এসব বিষয়ে মমতা ব্যানার্জির মন্তব্য না করাই ভালো। ’
সব মিলিয়ে, রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তুঙ্গে উঠতে চলেছে বাংলা ভাষা এবং বাঙালি পরিচিতি ঘিরে বিতর্ক। গতকালই সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্য সরকারকে বিধানসভায় বাংলা ভাষার রক্ষা ও ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তার বিরুদ্ধে বিধানসভায় প্রস্তাব পাশের পরামর্শ দিয়েছিলেন সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য ছিল, সংসদে বাংলার সাংসদরা বাংলায় কথা বলুক।
❤ Support Us






