Advertisement
  • ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
  • আগস্ট ৪, ২০২৫

সময়ের মুখোমুখি থমকে গল্প, ‘তবুও আপেক্ষিক’

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সময়ের মুখোমুখি থমকে গল্প, ‘তবুও আপেক্ষিক’

গত শনিবার সন্ধ্যেয় দক্ষিণ কলকাতার উইসডম ট্রি ক্যাফেতে ভিড়মুখর সোল্লোসে আর আন্তরিক প্রয়াসে মুক্তি পেল অন্য ঘরানার নতুন বাংলা চলচিত্র ‘তবুও আপেক্ষিক’-এর ট্রেলার। ছবির কলাকুশলীদের উপস্থিতিতে, আয়োজিত এই জমকালো অনুষ্ঠানে ধরা পড়ল আবেগ, নির্মাণের সুদীর্ঘ পথে প্রত্যয়ের হাঁটা, প্রত্যাশা আর শিল্পচর্চার উজানমুখী আহ্লাদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছবির মুখ্য অভিনেত্রী বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়, মোনালিসা রায়, অভিনেতা জয় সেনগুপ্ত, ইন্দ্রজিৎ মজুমদার, সুদীপ মুখোপাধ্যায়, শিশুশিল্পী আজান, ছবির পরিচালক অর্জুন চক্রবর্তী, ছবির প্রযোজক গার্গী বসু এবং অন্যান্য কলাকুশলীরা। ছিলেন বিশিষ্ট সিনেমা আলোচক, অধ্যাপক সঞ্চয় মুখ্যোপাধ্যায়-সহ বিশিষ্ট জনেরা। ‘তবুও আপেক্ষিক’ সময়ের মুখোমুখি একটি গল্প, যেখানে খেলা করে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক কলরব, নৈঃশব্দ্য আর দ্বন্দ্বমুখর মেঘেরা। ঝরে পড়ে বৃষ্টি হয়ে, বয়ে চলে স্রোত হয়ে। স্থির নয়, বদ্ধ নয় যেখানে সবকিছুই আপেক্ষিক। আজকের শতব্যস্ত সময়ে একটুখানি দাঁড়িয়ে নিজেদের বুকের ভিতরে মাটি আর জলের মিশলে তৈরি হয় অচেনা, অজানা মূর্তি, আবার তা গলেও যায়, মিশে যায় সময়ের বিরাট গহ্বরে। আশ্চর্য সমাপতন, ১৯২০ সালের ২ আগস্ট কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেঘনাদ সাহা ও সত্যেন্দ্রনাথ বসুর তত্ত্বাবধানে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্বের অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। ১০৫ বছর পর একই দিনে বাঙালির সীমানাহীন চেতনা আর মননে যুক্ত হল, কালান্তরের আরো এক আপেক্ষিক তত্ত্ব।

ছবিটির ট্রেলার শুরু হতেই ক্যাফের পরিবেশে নেমে এসেছিল অন্য দুনিয়ার ছোঁয়া, অন্য অনুভবের সুবাস। স্ক্রিনে ফুটে উঠেছে সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, মানসিক দ্বন্দ্ব এবং অতীতের স্মৃতিকে ঘিরে বর্তমানের টালমাটাল অবস্থা। রঙের উপর রঙ। পরিচালক অর্জুনের কথায়, ‘তবুও আপেক্ষিক’ কোনো সাধারণ সম্পর্কের গল্প নয়। সময়ের ভেতর দিয়ে চলা সম্পর্কগুলোর বিবর্তন বোঝার চেষ্টা। আমরা সবাই সময়ের কাছে বিভিন্নভাবে ভাবে বন্দি। সম্পর্কের মিলন যেখানে আপেক্ষিক, দূর দ্বীপের বাসিন্দা, সে বাস্তবতাকে নিয়েই এই ছবি। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর ৩ বন্ধুর কাছাকাছি ফেরবার চেষ্ট, তবু অসীম এক দূরত্বের খতিয়ান।’ বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়, ছবিতে যিনি আত্মসমালোচনায় নিমগ্ন, আত্মসংঘাতময় একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন, ট্রেলার উদ্বোধনের সময় বলেন, ‘এই চরিত্রটা আমার কাছে একেবারে আলাদা। সময়, স্মৃতি আর অনুশোচনার জটিল স্তরগুলোকে আমরা ছবিতে ছুঁয়ে যেতে চেয়েছি। ট্রেলারের প্রতিটি দৃশ্যেই সেই অনুভূতির ছাপ রয়েছে।’ জয় সেনগুপ্ত জানান, ‘গল্পটা শুরু হয় পরাবাস্তব অভিঘাতের পরত মেখে। অন্তর্জলী যাত্রায় তার সঙ্গী আমরা সবাই। আমাদের চারপাশের সম্পর্কগুলোর মধ্যেও যে কত আপেক্ষিকতা থাকে, তা খুব সূক্ষ্মভাবে এখানে দেখানো হয়েছে। অর্জুন খুব যত্ন নিয়ে গল্পটা সাজিয়েছে।’ ট্রেলারের সামান্য ঝলকেই সুদৃঢ়ভাবে পরিচালকের কথন ফুটে উঠতে দেখা যায়। একেরপর এক দৃশ্য তাক লাগিয়ে দেয় দর্শক চোখে।

এদিন, অনুষ্ঠানের পরিবেশ ছিল ঘরোয়া অথচ সৃজনশীলতায় ভরপুর। উপস্থিত অতিথিরা শুধু ট্রেলার নয়, বরং সিনেমার নির্মাণ ভাবনা, প্রক্রিয়া, ও বাধা-বিপত্তির আখ্যান শোনবার জন্যও আগ্রহ দেখান। আলোচনায় উঠে আসে ছবির অনুপ্রেরণার কথা, যেখানে সময়কে ধরা হয়েছে চরিত্রের মানসিক গতিপ্রবাহের প্রতীক হিসেবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছবির সঙ্গীত পরিচালক, চিত্রগ্রাহক এবং সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা শিল্পীরাও। সকলেই তাঁদের নিজ নিজ জায়গা থেকে ছবির ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। এ ছবি সরল গড়পড়তা কোনো গল্প নয়; এটি একান্তভাবে মানুষের মনে গড়ে ওঠা সময়-জাল, যা আমাদের সিদ্ধান্ত, সম্পর্ক এবং অপরাধবোধকে প্রভাবিত করবে। ‘তবুও আপেক্ষিক’ সেই জটিল সময়ের গল্প, যা সবার জীবনে কোনো না কোনোভাবে, কখনো না কখনো প্রতিফলিত হয়। পরিচালকের জানিয়েছেন, চলতি বছরে ছবিটির প্রিমিয়ার হবে, কিছু চলচিত্র উৎসবেও দেখানো হবে। তারপর প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তি পেতে পারে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আসবে। সব মিলিয়ে, ‘তবুও আপেক্ষিক’-এর ট্রেলার লঞ্চ শুধুই একটি ‘প্রোমোশনাল ইভেন্ট’ নয়, বরং এক শিল্পমনা সন্ধ্যা, যেখানে সিনেমা হয়ে উঠল ভাবনার, অনুভবের এবং সময়ের সাক্ষী।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!