Advertisement
  • পা | র্স | পে | ক্টি | ভ রোব-e-বর্ণ
  • আগস্ট ২৩, ২০২৬

জেগে থাকে আরশোলারা 

দেবদত্ত চক্রবর্তী
জেগে থাকে আরশোলারা 

গ্রেগর সামসা এক সকালে অস্বস্তিকর স্বপ্ন থেকে জেগে উঠে নিজেকে বিছানায় আবিষ্কার করে এক বিশাল, বীভৎস পতঙ্গরূপে। কাফকা কোথাও প্রজাতির নাম বলেননি— শুধু বলেছেন ‘ungeheures Ungeziefer’, অর্থাৎ একটি দানবীয় কীট, যার ভেতরের অনির্দিষ্টতাই তার ভয়াবহতা। ঔপন্যাসিক ও কীটতত্ত্ববিদ ভ্লাদিমির নাবোকভ, ক্লাসঘরে দাঁড়িয়ে যুক্তি দিয়েছিলেন —গ্রেগর আসলে উড়তে-সক্ষম গুবরেপোকা, স্কেয়ারাবিডি গোত্রের সদস্য, যে নিজের পিঠের খোলসের নিচে ডানা লুকিয়ে রেখে তা কখনো ব্যবহার করার কথা ভাবেনি বলেই সংসারের বন্দিদশায় আটকা পড়েছিল। কিন্তু ভারতীয় রাজনীতির এ মুহূর্তের আবর্তনে নাবোকভের শুচিবায়ুগ্রস্ত শ্রেণিবিন্যাসের চেয়ে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক মনে হয় সেই অপর কীটটি, যাকে সভ্যতা সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করতে শিখেছে অথচ যাকে কিছুতেই নিশ্চিহ্ন করতে পারেনি— আরশোলা। পরমাণু বিস্ফোরণের বিকিরণেও যে বেঁচে থাকে বলে জনশ্রুতি, রান্নাঘরের অন্ধকার কোণে যে আলো জ্বলে ওঠামাত্র ছুটে পালায় অথচ ফিরে আসে বারবার। সেই অবিনশ্বর, অবাঞ্ছিত প্রাণীটিই  ভারতের যুব-বিক্ষোভের প্রতীক হয়ে উঠেছে, প্রখর গ্রীষ্মে, দিল্লির রাজপথে জন্ম নিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’— আরশোলা জনতা পার্টি, সংক্ষেপে ‘সিজেপি’।

কাফকা তাঁর নায়ককে প্রায় গোটা উপন্যাস জুড়ে কেবল ‘একটি বিশাল পতঙ্গ’ বলেই ডেকে গেছেন, নাম দেন নি, প্রজাতি বলেন নি। নামহীনতাই ছিল তার শক্তি— যে-কোনো পাঠক তার মধ্যে নিজের ভয়, নিজের অপমান, নিজের অস্তিত্বের অস্বস্তি বসিয়ে নিতে পারেন। ঠিক তেমনি অনির্দিষ্টতাই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে দিয়েছে অদ্ভুত রাজনৈতিক জীবনীশক্তি। কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শ নয়, নির্দিষ্ট নেতা নয়, নির্দিষ্ট ইশতেহার নয়— এ এক অপ্রতিরোধ্য রূপক, যাকে লক্ষ লক্ষ তরুণ নিজের মতো করে পরিধান করে নিতে পেরেছে।

দুই

২০২৬ সালের ১৫ মে, সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বেকার যুবসমাজের একাংশকে ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’ আখ্যা দেন। পরে তিনি সাফাই দেন — তাঁর সে মন্তব্যটি ছিল নকল ডিগ্রিধারীদের প্রতি, গোটা যুবসমাজের প্রতি নয়। কিন্তু শব্দ, একবার উচ্চারিত হলে, নিজের নিয়ন্ত্রণ নিজেই হারিয়ে ফেলে; মিখাইল বাখতিন যাকে বলতেন ‘হেটেরোগ্লসিয়া’—একটি শব্দ যতগুলো কণ্ঠে ধ্বনিত হয়, ততগুলো ভিন্ন অর্থ ধারণ করে ফেলে। ক্ষমতার কণ্ঠে উচ্চারিত অবজ্ঞা, রাস্তার কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয়ে বিদ্রূপে রূপান্তরিত হলো।

পরদিনই বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক রিলেশন্সের ছাত্র ও প্রাক্তন আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপক একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট খুললেন। ট্যাগলাইন সরল, নির্মম, আশ্চর্যরকম রকম কৌতূহলপূর্ণ— ‘Voice of the Lazy and Unemployed’। কয়েক দিনেই অনুসারী দুই কোটি ছাড়াল, শাসকদল বিজেপির সরকারি অ্যাকাউন্টকেও যা ছাপিয়ে গেল। কারণ সংখ্যাটাও নেহাত মিথ নয়— এ দেশে পঁচিশ বছরের কমবয়সি স্নাতকদের চল্লিশ শতাংশ বেকার। তারা পরজীবী নয়; তারা ভুল আর্থিক নীতি ও ভুল শিল্পনীতির শিকার, ক্রমসংকুচিত কর্মসংস্থানের বলি। রাষ্ট্র তাদের জন্য কাজ তৈরির পরিশ্রম করেনি; বদলে শিখিয়েছে জাতীয়তাবাদের ভাষায় আত্মনির্ভরতা, আর ব্যর্থতার দায় তাদেরই কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছে অপমানের ভাষায়।

গত দেড় দশক ধরে ভারতীয় রাষ্ট্রযন্ত্র চালিয়ে গেছে এক নিরবচ্ছিন্ন নৈতিক পরীক্ষা— কে ‘প্রকৃত ভারতীয়’, কে নয়। মিশেল ফুকো যাকে বলতেন ক্ষমতার ‘পরীক্ষণ-কাঠামো’— যেখানে দৃশ্যমানতাই শাস্তি, আর প্রশ্ন করাই অপরাধ; সেই কাঠামোয় সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, রাস্তার প্রতিবাদ, এমনকি নীরবতাও পরিণত হয়েছে জেরার বিষয়ে। যন্তরমন্তরের আন্দোলনের পর সেই পরীক্ষককেই যেন পরীক্ষার মুখোমুখি করা হলো, আর দেখা গেল সে-ও ব্যর্থ হচ্ছে।

তিন

এখানে এক গভীর স্ববিরোধিতা কাজ করে, যা ইউজিন আয়োনেস্কোর ‘রাইনোসেরস’ নাটকের কথা মনে করিয়ে দেয়। যেখানে একে একে গোটা শহরের মানুষ গণ্ডারে রূপান্তরিত হতে থাকে, আর একমাত্র প্রতিরোধ টিকে থাকে সেই ব্যক্তির মধ্যে, যে রূপান্তরিত হতে অস্বীকার করে, অথচ কোনো সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না। ‘সিজেপি’ জোর দিয়ে বলছে, তাদের সংগঠন রাজনৈতিক দল নয়, বরং সরকারের উপর চাপসৃষ্টিকারী যুব-আন্দোলন। রাজনীতি থেকে এই সচেতন দূরত্বই সম্ভবত ব্যাখ্যা করে, কেন ‘সিজেপি’ এত দ্রুত রাজনৈতিক শক্তি অর্জন করল। যে আন্দোলন দলীয় পরিচয়, আদর্শিক পতাকা, চেনা রাজনৈতিক বংশলতিকা নিয়ে হাজির হয়, তাকে  ক্ষমতাকাঠামো সহজেই ভাষার বন্দিশালায় আটকে ফেলতে পারে। শাহিনবাগকে বলা হয়েছে ‘সাম্প্রদায়িক’, কৃষক আন্দোলনকে ‘বিরোধী-চালিত’, ছাত্র সংগঠনের আন্দোলনকে ‘দেশবিরোধী কার্যকলাপ’। আরশোলাদের গায়ে এ বোঝা চাপানো গেল না, তাদের অভিযোগ প্রায় রাজনীতি-নিরপেক্ষ — পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, বেকারত্ব, জবাবদিহিতার অনুপস্থিতি। ‘নিট’ পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নফাঁস, আর তার জেরে একের পর এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা আন্দোলনকে পরিণত করেছিল ‘নৈতিক জরুরি অবস্থায়’, যেখানে রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার আগেই শোক আর রাগ জড়িয়ে ধরেছিল আমজনতার বুক।

ইতিহাসের কোনো আকস্মিক মুহূর্তে— সে থমকে দাঁড়িয়ে জানান দেয় নিজের উপস্থিতি, তারপর সরে যায়, কিন্তু ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি রেখে যায় অন্ধকারে। ভারতীয় গণতন্ত্রের স্পর্শকাতর মুহূর্তে সেই জানানদানই, হয়তো, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা— কারণ যে রাষ্ট্র নিজের সবচেয়ে ঘৃণ্য রূপকল্পের মধ্যেই নিজের ভবিষ্যতের সবচেয়ে অবিনশ্বর প্রতিরোধকে চিনতে পারে না, সে আসলে নিজেকেই চিনতে ব্যর্থ হয়

প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতির বাইরের আন্দোলন কখনো কখনো সংগঠিত দলীয় প্রচারণার চেয়েও বেশি দূর যেতে পারে। ১৯৬৮ সালের প্যারিসের ছাত্র-বিদ্রোহ তার সাক্ষী। সোরবোনের করিডরে জ্বলে ওঠা সে আগুন শুরু হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশি দমনের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ হিসেবে; পরে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো যোগ দিলেও আন্দোলনটি কোনো একটি দলের সম্পত্তি হয়ে ওঠেনি, বরং ছড়িয়ে পড়েছিল দেয়ালচিত্র, স্লোগান আর কবিতার ভাষায়— কল্পনাশক্তিকে ক্ষমতায় বসানোর ডাকে। যন্তরমন্তরের ‘সিজেপি’ সে ধারারই নতুন উত্তরসূরি। আন্না হাজারের ২০১১ সালের অনশন থেকে কৃষক আন্দোলন পর্যন্ত, যে যন্তরমন্তর প্রতিবাদের এক জীবন্ত ভূগোল হয়ে উঠেছিল, ‘আরশোলা’রা তাকে আরেকবার প্রাণিত করল।

বিরোধী দলগুলো যখন কোণঠাসা, তখন দেশের তরুণ ছাত্রছাত্রীরাই আন্দোলনের সলতে পাকাতে শুরু করে। তাদের নাছোড় মনোভাব বিরোধীদের প্রতি একটি বার্তাই দেয়— আপোসের চেনা রাজনীতিতে তাঁরা বিশ্বাসী নয়। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং নির্বাচিত সরকারের  দায়বদ্ধতা নির্দিষ্ট করাই ছিল দিল্লি আন্দোলনের অনড় দাবি। আন্দোলনের গতিপথও ছিল দ্রুত ও নাটকীয়— জুনের গোড়ায় যন্তরমন্তরে প্রথম বড়ো সমাবেশ, তারপর সোনম ওয়াংচুকের অনির্দিষ্টকালের অনশন, ‘আইসা’-র নেহা বোরা, মণীশ কুমার ও অন্যান্য ছাত্রনেতাদের অনশন, এবং সংসদ অভিমুখে মিছিল। পুলিশের লাঠি ও টিয়ারগ্যাসের মুখেও আন্দোলন থামেনি। ছত্রিশ দিনের ধর্না শেষে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও সরকারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নেওয়া প্রমাণ করে দিল— চেনা রাজনৈতিক দরকষাকষির বাইরে থেকে আসা চ্যালেঞ্জ কখনো কখনো ব্যবস্থাকে অনেক গভীরে নাড়া দিতে পারে।

চার

নেহা বোরা এই পরিমণ্ডলে এক গুরুত্বপূর্ণ সেতু। ‘আইসা’-র সঙ্গে যুক্ত এই নেত্রী সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের বিপ্লবী মার্ক্সবাদী ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী— এক ঐতিহ্য, যা নকশালবাড়ির মাটি থেকে জন্ম নিয়েছিল, যেখানে কৃষক আর ছাত্র একসঙ্গে স্বপ্ন দেখেছিল এক অন্য ভারতের। তিনি ও তাঁর সহযোদ্ধারা আন্দোলনকে কেবল অনলাইন মিম থেকে রাস্তায় নামিয়ে আনেননি, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও জেএনইউ-র ছাত্ররাজনীতিতেও প্রভাব বিস্তার করেছেন। অভিজিৎ দীপক বুঝেছিলেন, কঠোর আদর্শিক পরিচয় উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছাত্রছাত্রী ও তাদের দরিদ্র অভিভাবকদের দূরে ঠেলে দিতে পারে। তাই ‘সিজেপি’ নিজেকে ঘোষণা করল—‘সেকুলার, সোশ্যালিস্ট, ডেমোক্র্যাটিক, লেজি’— সংবিধানের প্রস্তাবনার প্যারডি, অথচ পরিহাসের আবরণে এক গুরুতর দাবি। এ কৌশলে বাখতিনের ‘কার্নিভালেস্ক’-এর ছায়া স্পষ্ট। যেখানে হাসি ক্ষমতার শ্রেণিবিন্যাসকে সাময়িকভাবে উল্টে দেয়, রাজাকে ভাঁড় বানায়, ভাঁড়কে রাজা। আরশোলার রূপকল্পও তেমনই এক উল্টে-দেওয়া মুকুট— যে অপমানকে অস্ত্র বানিয়ে ফেরত পাঠানো হলো তারই উৎসের দিকে।

পাঁচ

তবু প্রশ্ন থেকেই যায়। ‘সিজেপি’ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি, তার কোনো প্রথাগত সাংগঠনিক কাঠামোও নেই। মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেছেন, সংগঠনটি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মতো যুব-সংক্রান্ত বিষয়ে একটি চাপসৃষ্টিকারী ‘লবি’ হিসেবে কাজ করে যাবে। কিন্তু যে কাঠামোহীনতা একে শক্তি দিয়েছে, সেই একই কাঠামোহীনতা তার স্থায়িত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। বৈদেশিক অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইনের মতো আইন নাগরিক অধিকার গোষ্ঠীগুলোর মাথার ওপর দামোক্লিসের তরবারির মতো ঝুলে থাকে। শাসকগোষ্ঠী শীঘ্রই যন্তরমন্তর-মডেলের প্রতিবাদের সীমাবদ্ধতা চিনে নিতে শিখবে— আলবেয়র কামুর সেই পুরনো সতর্কবাণীর মতোই, বিদ্রোহ কখনো চিরস্থায়ী সম্পত্তি নয়, তাকে প্রতিদিন নতুন করে বেছে নিতে হয়, নয়তো সে নিভে যায় নিজের আগুনেই।

ছয়

কাফকার উপন্যাসে গ্রেগরের বাবা তাঁর ছেলের দিকে একটি আপেল ছুঁড়ে মারেন। ফলটি গ্রেগরের পিঠে গেঁথে যায়, পচে যায়, আর সে ক্ষতেই অবশেষে তাঁর মৃত্যু হয়— যে পরিবারকে সে বিব্রত করেছে, তাদের প্রতি বিচিত্র এক মমতা নিয়ে সে মরে যায়, নিজের অস্তিত্বকে বোঝা মনে করে, নিজেই নিজের অন্তর্ধান কামনা করে। উপন্যাস শেষ হয় গ্রেগরের বাবা-মা আর বোনের লজ্জা ঝেড়ে ফেলে রোদে হাঁটতে বেরোনোর মধ্য দিয়ে। জীবন আবার স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। পোকাটি চলে গেছে, আর তার সঙ্গে চলে গেছে পরিবারের অস্বস্তিও।

‘সিজেপি’-র ভবিষ্যৎও একই প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে। যুবসমাজের ক্ষোভ কি কেবল এক মৌসুমি ঝড় হয়ে থেমে যাবে, রাষ্ট্র যাকে সময়ের সঙ্গে হজম করে নেবে, না কি সে টিকে থাকবে স্থায়ী চাপসৃষ্টিকারী শক্তি হিসেবে ? প্রধানমন্ত্রীর দল যে ভারতে বাস করে— যেখানে রাম, রকেট ও রোবট স্বচ্ছন্দে সহাবস্থান করে বিজ্ঞাপনের ভাষায়, আর সাধারণ মানুষ যে ভারতে বাস করে —বিধ্বস্ত গ্রাম, ভাঙাচোরা মফস্‌সল শহর, বন্ধ কলকারখানার ছায়ায়; এই দুই ভারতের মধ্যেকার ফাটলটিকেই ‘আরশোলা’রা উন্মোচন করে দিয়েছে দিনের উদ্ভাসিত আলোয়। প্রশ্ন এখন  একটাই — তারা কি ব্যবস্থাকে কেবল একবারের মতো লজ্জা দেবে, না কি সেই লজ্জাকে রূপান্তরিত করবে স্থায়ী রাজনৈতিক স্মৃতিতে, যা সহজে ভুলে যাওয়া যায় না ?

ইতিহাস আর বিজ্ঞান সাক্ষী দিচ্ছে, আরশোলারা চলে যায় না এত সহজে। সে বেঁচে থাকে ফাটলে, দেয়ালের সন্ধিতে, নর্দমার অন্ধকারে, এমন সব জায়গায় যেখানে আলো পৌঁছায় না বলেই মানুষ ভুলে থাকে তাদের অস্তিত্ব। তারপর যখন আলো জ্বলে ওঠে হঠাৎ— রান্নাঘরের সুইচ টিপে দেওয়া হাতের মতো, কিংবা ইতিহাসের কোনো আকস্মিক মুহূর্তে— তখনো সে থমকে দাঁড়িয়ে জানান দেয় নিজের উপস্থিতি, তারপর সরে যায়, কিন্তু ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি রেখে যায় অন্ধকারে। ভারতীয় গণতন্ত্রের স্পর্শকাতর মুহূর্তে সেই জানানদানই, হয়তো, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা— কারণ যে রাষ্ট্র নিজের সবচেয়ে ঘৃণ্য রূপকল্পের মধ্যেই নিজের ভবিষ্যতের সবচেয়ে অবিনশ্বর প্রতিরোধকে চিনতে পারে না, সে আসলে নিজেকেই চিনতে ব্যর্থ হয়।

♦–♦•♦–♦  ♦–♦•♦–♦


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!