Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • জানুয়ারি ১২, ২০২৬

আগামী বছর ট্রাম্পের ভারত সফরের সম্ভাবনা । বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ভারত, মন্তব্য সার্জিও গোর-এর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আগামী বছর ট্রাম্পের ভারত সফরের সম্ভাবনা । বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ভারত, মন্তব্য সার্জিও গোর-এর

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ আর কোনো দেশ নেই—এমন মন্তব্য করেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত-মনোনীত ও দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিশেষ দূত সার্জিও গোর। তিনি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে পরবর্তী দফার আলোচনা মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) থেকে আবার শুরু হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দেন, আগামী এক–দুই বছরের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত সফরে আসতে পারেন।

দিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসে দেওয়া বক্তব্যে গোর বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বন্ধুত্ব “বাস্তব ও দৃঢ়”। তাঁর কথায়, “যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত কেবল অভিন্ন স্বার্থের কারণে নয়, বরং সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের মধ্যে গড়ে ওঠা এক গভীর সম্পর্কের মাধ্যমে আবদ্ধ। প্রকৃত বন্ধুরা মতভেদে জড়াতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা সমাধানে পৌঁছায়।”

তিনি আরও বলেন, “ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ। তাই এই বাণিজ্য চুক্তিকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া সহজ কাজ নয়। তবুও আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে শেষ পর্যন্ত এটি সফলভাবে সম্পন্ন হবে।”

গোর জানান, ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, জ্বালানি, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বিভিন্ন দেশে সফরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে গোর বলেন, তিনি নিজে দেখেছেন ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির সম্পর্ক কতটা আন্তরিক। তাঁর বক্তব্য, “বিশ্বের প্রাচীনতম গণতন্ত্র এবং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র—এই দুইয়ের মিলনস্থলই ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক। শেষবার তাঁর সঙ্গে নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারত সফরের স্মৃতি ও প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেন। আশা করি, তিনি খুব শিগগিরই আবার ভারত সফরে আসবেন, সম্ভবত আগামী এক বা দুই বছরের মধ্যেই।”

গোর মজা করে আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়ই রাত দু’টোর সময় ফোন করেন—নয়াদিল্লির সময়ের সঙ্গে সেই অভ্যাস বেশ মানিয়েও যেতে পারে।

ভারতের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “ভারতের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আর কোনো অংশীদার এতটা অপরিহার্য নয়। আগামী মাস ও বছরগুলোতে একজন রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমার লক্ষ্য হবে এক অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা। আমরা সমান শক্তি, পারস্পরিক সম্মান ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রকৃত কৌশলগত অংশীদার হিসেবে এগিয়ে যাব।”

ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনার বিষয়ে গোর স্বীকার করেন, এটি একটি কঠিন প্রক্রিয়া। তবে তিনি আশাবাদী যে উভয় পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই চুক্তি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। তিনি জানান, বাণিজ্য সংক্রান্ত পরবর্তী বৈঠক বা কল অনুষ্ঠিত হবে আগামীকালই।

এছাড়াও গোর ঘোষণা করেন, ভারতকে ‘প্যাক্স সিলিকা’ জোটের পূর্ণ সদস্য হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তিনি বলেন, “আগামী মাসে ভারতকে এই জোটে পূর্ণ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।”

উল্লেখ্য, প্যাক্স সিলিকা হলো যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একটি কৌশলগত উদ্যোগ, যার লক্ষ্য হলো একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও উদ্ভাবননির্ভর সিলিকন সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!