- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৫
দ্বিচারিতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের, কাতারের সঙ্গে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বিশ্বাসঘাতকতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের
মাত্র ৪ মাস আগে দোহা সফর করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেটাই ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম কাতার সফর। সেই সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটা বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭–৮ জেট উপহার দিয়েছিল কাতার। যাকে ‘উড়ন্ত প্রাসাদ’ বলা হয়। বিলাসবহুল উপহার পেয়েও কাতারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কাতারের সঙ্গে খেললেন দ্বিমুখী খেলা।
মঙ্গলবার হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে ইজরায়েল যে হামলা চালায়, সেই ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক আগেই জানিয়েছিল ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এই হামলার ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইজরায়েলকে সম্মতি দিয়েছিল বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। তেল আবিবের পক্ষ থেকে এমনই দাবি করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস যখন কাতারকে হামলার আশঙ্কার কথা জানায়, তার আগেই দোহায় বোমাবর্ষণ শুরু করে ইজরায়েলি বিমানবাহিনী। ট্রাম্প নির্লিপ্তভাবে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, আক্রমণ বন্ধ করতে অনেক দেরি হয়ে গেছে। একই সঙ্গে স্বীকার করেন যে, ইজরায়েল তাদের হামলার কথা জানিয়েছিল।
কাতার জানিয়েছে যে, দোহায় হামলা শুরু হওয়ার ১০ মিনিট পরে হোয়াইট হাউস থেকে তাদের কাছে ফোন আসে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল–আনসারি এক্স–এ জানিয়েছেন, ‘বিস্ফোরণের শব্দের সময় একজন মার্কিন কর্মকর্তার কাছ থেকে ফোনটি আসে।’ কাতারে হামলা চালানোর ঘটনাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র কাতারের বিশ্বাসঘাতকতার অনুভূতিকেই আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
কাতারে ইজরায়েলের এই হামলার ঘটনা নোবেল শান্তি পুরস্কারের মোহে আবিষ্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বৈত খেলাও উন্মোচিত করেছে। এমন সময়ে ইজরায়েল কাতারের ওপর হামলা চালায়, যখন গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য সর্বশেষ মার্কিন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করার জন্য হামাসের রাজনৈতিক নেতৃত্ব দোহায় জড়ো হয়েছিলেন। ট্রাম্পের শেষ সতর্কবার্তার পরই দোহায় বৈঠকে বসেছিলেন হামাস নেতারা। আলোচনা শেষ হওয়ার আগেই ইজরায়েল যে এভাবে হামলা চালাবে, তা হামাসদের কল্পনার বাইরে ছিল। হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘এই হামলার জন্য ইজরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে মার্কিন প্রশাসনও দায়ী।’ কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইজরায়েলের এই আক্রমণকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিবৃতি এবং নিন্দার বাইরেও হামলার জবাব দেওয়ার জন্য কাতার সব ধরণের পদক্ষেপ গ্রহন করবে।’
মাত্র ৪ মাস আগে দোহা সফরের ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটা বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭–৮ জেট উপহার দিয়েছিল। ওই সফরে ট্রাম্প কাতারের সঙ্গে ২৪৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক চুক্তিও করেছিল। এই চুক্তির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তম মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিও রয়েছে। এছাড়া আফগানিস্তান থেকে হাজার হাজার মার্কিন নাগরিককে সরিয়ে নিতেও সাহায্য করেছে কাতার। ট্রাম্পের ছেলে এরিক কাতারে ট্রাম্প–ব্র্যান্ডেড একটা গল্ফ কোর্সের জন্য চুক্তিও করেছেন। এর বাইরে, মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে কাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। কয়েক মাস ধরে হামাস ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার জন্য মধ্যস্থতাকারী এবং আয়োজকের ভূমিকা পালন করে আসছে কাতার।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনেই ২০১২ সালে দোহায় হামাসকে তাদের রাজনৈতিক অফিস খোলার অনুমতি দেয় কাতার। এর পিছনে ছিল ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগের লাইন স্থাপনের মার্কিন পদক্ষেপ। তবে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জুয়া ব্যর্থ হয়েছে। এক বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে যে, ইজরায়েলি হামলায় তাদের শীর্ষ নেতারা অক্ষত রয়েছেন। তবে পাঁচজন সদস্য মারা গেছেন। একজন কাতারি নিরাপত্তা কর্মীও নিহত হয়েছেন। এই অভিযানে ১৫টি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ইজরায়েল।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেছেন, ‘ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে আসন্ন আক্রমণ সম্পর্কে কাতারকে অবহিত করার নির্দেশ দেন।’ ট্রাম্প বলেন যে, যখন তাঁকে ইজরায়েলের হামলার ব্যাপারে জানানো হয়েছিল, তখনই তিনি কাতারকে তাড়াহুড়ো করে জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি ভাল নয়। যেভাবে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে তাতে আমরা খুশি নই।’ ট্রাম্প পরে ট্রুথ সোশ্যালে এক বিবৃতি পোস্ট করে বলেন, ‘এই আক্রমণের সিদ্ধান্ত আমি নিইনি।’ নেতানিয়াহুকে তিরস্কারও করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘কাতার আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র। ওরা শান্তির জন্য আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। কাতার একটা সার্বভৌম দেশ। এখানে বোমা হামলা মেনে নেওয়া যায় না।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট কাতারকে আশ্বস্ত করেছেন যে, এই ধরণের হামলা আর কখনও ঘটবে না।
❤ Support Us







