- এই মুহূর্তে বৈষয়িক
- নভেম্বর ১৭, ২০২৫
ট্রাম্পের শুল্ক-ছাড়ে রফতানি বাণিজ্যে নতুন আশা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ২০০টিরও বেশি খাদ্যপণ্য এবং কিছু সারের ওপর আমদানি শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে ভারতীয় বাণিজ্যিক ক্ষেত্র প্রায় ২.৬-২.৭ লক্ষ কোটি টাকা লাভবান হতে চলেছে, এমন দাবি করেছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। বিশেষত, ভারতীয় রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কের চাপ কমানোর ফলে ভারতের ব্যবসায়ীরা নতুন সুযোগের মুখোমুখি।
ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজ়েশনস (এফআইইও)-এর ডিরেক্টর জেনারেল অজয় সহায় জানিয়েছেন, এই শুল্ক ছাড় ভারতের সঙ্গে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক চুক্তির জন্য ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে। তিনি আশা করছেন, ওয়াশিংটন এবার চুক্তির মধ্যে বড় কোনো অসুবিধাজনক শর্ত রাখবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন বাজারে ভারত থেকে রপ্তানির পরিমাণ অনেকটাই বেশি। গোমাংস, চা, কফি, কাজুবাদাম এবং মশলার ক্ষেত্রে ৫০% শুল্ক থাকায় ভারতীয় রপ্তানিতে প্রতিবন্ধকতা ছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক কমানোয় ব্যবসায়ীরা এখন বেশি সুবিধা পাবেন। যদিও, চিংড়ি এবং বাসমতি চালের উপর থেকে শুল্ক কমানো হয়নি।
২০১৪ সালে ভারত প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার মশলা রপ্তানি করেছিল, এবং চা-কফি রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৭৩৬ কোটি টাকা। এছাড়া, কাজু ও অন্যান্য বাদামের ক্ষেত্রেও মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা রয়েছে।
এফআইইও-এর মতে, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ বিভাগের ৫০টির কাছাকাছি পণ্যের রপ্তানি মোট ৪ হাজার কোটি টাকার ছিল, এবং ফল ও বাদামের রপ্তানি ছিল ৪৮৭ কোটি টাকার। তবে, মার্কিন প্রশাসন শুল্ক কমানোর পর কৃষিক্ষেত্রের শিপমেন্টের প্রায় ২০ শতাংশ প্রভাবিত হতে পারে।
তবে, ভারতের চিংড়ি রপ্তানির জন্য মার্কিন শুল্ক বাড়িয়ে ৫৯.৭২ শতাংশ করা হয়েছিল, যা চলতি বছরের আগস্টের শেষ সপ্তাহে কার্যকর হয়। ফলে, ঘরোয়া চিংড়ি রপ্তানিকারীরা বড় ধাক্কা খেয়েছিলেন। এই সমস্যা সমাধানে ভারত বিকেন্দ্রীকরণের পথে হাঁটছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ায় চিংড়ি ও সিফুড রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করছে ভারত।
কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গয়াল জানিয়েছেন, ভারত সরকারের চেষ্টা চলছে যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের মৎস্য শিল্প সম্প্রসারিত হতে পারে। তিনি সম্প্রতি বিশাখাপত্তনমে সিআইআই পার্টনারশিপ সামিটে বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ ভারতের মাছ আমদানি করতে চাচ্ছে। বর্তমানে ১০২ জন মৎস্য ব্যবসায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছেন।” তিনি আরও জানিয়েছেন, রাশিয়া ভারত থেকে সিফুড কেনার জন্য আগ্রহী হয়েছে এবং ২৫ জন মৎস্য ব্যবসায়ীকে অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।
এদিকে, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা নতুন রপ্তানি বাজার খোলার মাধ্যমে শুল্কের চাপ থেকে কিছুটা মুক্তি পাবেন, যা ভারতের বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে নতুন আশা সৃষ্টি করেছে।
❤ Support Us







