Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ২৮, ২০২৪

চোরাশিকারি সন্দেহে বনরক্ষী গুলিতে নিহত দুই যুবক। হিমন্তর বিরুদ্ধে গণরোষ বাড়ছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বিরোধীদের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
চোরাশিকারি সন্দেহে বনরক্ষী গুলিতে নিহত দুই যুবক। হিমন্তর বিরুদ্ধে গণরোষ বাড়ছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বিরোধীদের

চোরাশিকারি সন্দেহে গত ২২ জুন দুই মুসলিম সম্প্রদায়ের ব্যক্তি প্রাণ হারান অসমে, এরপরই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার প্রশাসনে বিরুদ্ধে গণরোষ দানা বাঁধতে শুরু করেছে ।এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানির অভিযোগ করছেন স্থানীয় মানুষ ।

২২ জুন ভোররাতে লাওখোয়া বুরহাচাপোরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে, গোরাজন বনের রৌমারী বিলের কাছে ঘটনাটি ঘটে। নিকটবর্তী ধিংবরি চাপরি গ্রামের বাসিন্দা সোমরউদ্দিন (৩৬) এবং আব্দুল জলিল (৪৪) নামে দুই ভাই ওই অভয়ারণ্যে বন দফতরের রক্ষীদের গুলিতে নিহত হয়।

অল-আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (এএএমএসইউ) বৃহস্পতিবার নিহত দুই ভাইয়ের বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি পাঠিয়েছে। ২৪ জুন নওগাঁর জুরিয়া পুলিশ স্টেশনে একটি এফআইআরও দায়ের করা হয়েছে। সেখানে বন দফতরের চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে ওই দুই ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে ।

আমসু’র উপদেষ্টা আইনুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ওই দুই ব্যক্তি সম্পূর্ণ নিরস্ত্র ছিল। তাদের সরাসরি বুকে গুলি করা হয়েছে। তারা দুজনেই কৃষিজীবী, চোরাশিকারের সঙ্গে যুক্ত নয়। তাঁর দাবি, দরিদ্র, নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষদের চিহ্নিত করে, তাদের হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি সরাসরি আঙুল তুলেছেন রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে।জবাব চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, দুই ভাই জঙ্গলের জলাশয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিল।বিনা অনুমতিতে জঙ্গলে প্রবেশের জন্য বন রক্ষীরা তাদের আটক করতে গেলে, তারা পালানোর চেষ্টা করে। বাধ্য হয়ে রক্ষীরা তাদের গুলি করে।নিজের এক্স হ্যান্ডেলে আসামের মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, সেরাজ্যের মুখ্য সচিবকে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

রাজ্যসভার সাংসদ এবং সাংবাদিক অজিত ভুঁইয়া এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া বলেছেন, এই ঘটনা রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে একটি বিরাট বড় ইস্যু । এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, হিমন্ত বিশ্বশর্মা তাঁর সাম্প্রদায়িক- কার্ড খেলার জন্য প্রসিদ্ধ। এটি সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। পুলিশ আর বন দফতরকে রাজনৈতিক ঘুঁটি রূপে ব্যবহার করা হচ্ছে উত্তরপূর্বের রাজ্যে। ‘

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা দেবব্রত সইকিয়া বলেছেন, ‘কোনও আইন এই ধরণের অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়না। এই ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। বন দফতরকেও এর জবাবদিহি করতে হবে। হিমন্ত বিশ্বশর্মা ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে চলেছে রাজ্যে।’
রাজ্যের মানবাধিকার কর্মী অঞ্জুমান আরা বেগম সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার । চূড়ান্ত পদক্ষেপ একমাত্র শেষ অবলম্বন হিসাবে গ্রহণ করা উচিত । একজন মানবাধিকার কর্মী হিসেবে, আমি বিশ্বাস করি একটি স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত আবশ্যক। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকেও স্বতঃপ্রণোদিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া উচিত।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!