Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫

ট্রাম্প–জেলেনস্কির বৈঠক চূড়ান্ত হতেই ইউক্রেনে বাড়লো যুদ্ধের উত্তাপ। কিয়েভে লাগাতার মিসাইল হামলা রাশিয়ার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ট্রাম্প–জেলেনস্কির বৈঠক চূড়ান্ত হতেই ইউক্রেনে বাড়লো যুদ্ধের উত্তাপ। কিয়েভে লাগাতার মিসাইল হামলা রাশিয়ার

ইউক্রেনে যুদ্ধের উত্তাপ আবারও চরমে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আসন্ন বৈঠকের ঠিক আগেই দেশজুড়ে হামলার ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে দিল রাশিয়া। শনিবার ভোর থেকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে শুরু হয়েছে লাগাতার মিসাইল আক্রমণ। একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে গোটা শহর।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো পরিস্থিতি সম্পর্কে নাগরিকদের সতর্ক করে টেলিগ্রামে বার্তা দিয়েছেন। তিনি লেখেন, “রাজধানীতে মিসাইল হামলা হয়েছে। পরপর বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সবাই নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রেই থাকুন, আপাতত বাইরে বেরোবেন না।”

শুধু কিয়েভ শহর নয়, রাজধানীর আশপাশের একাধিক অঞ্চলেও রুশ ড্রোনের গতিবিধি লক্ষ্য করা গেছে। আকাশপথে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছে ইউক্রেনের বায়ুসেনা। একই সঙ্গে পাল্টা হামলার প্রস্তুতিও শুরু করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।

২০২২ সাল থেকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চললেও, শনিবারের এই হামলার তীব্রতা আগের তুলনায় অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন সংবাদ সংস্থা এএফপি-র সাংবাদিকরা। কিয়েভ থেকে এক সাংবাদিক সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “পরপর শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি। চারপাশ এমন উজ্জ্বল আলোয় ঢেকে যাচ্ছিল, যেন বাজ পড়ছে।”

যুদ্ধ থামাতে আন্তর্জাতিক স্তরে একাধিক প্রচেষ্টা চললেও এখনও পর্যন্ত কোনও সমাধানসূত্র বেরোয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করেছেন। তবে তাতেও সংঘাত থামার কোনও ইঙ্গিত মেলেনি। এরই মধ্যে আগামী দিনে ফের জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন ট্রাম্প।

এই বৈঠকের আগে পলিটিকো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কিকে কড়া বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমার অনুমতি ছাড়া তিনি কিছু করতে পারবেন না। এটা মাথায় রাখা উচিত।” অন্যদিকে, জেলেনস্কি শান্তিচুক্তির প্রস্তাবিত শর্ত মানতে রাজি নন বলেই জানা যাচ্ছে। তাঁর অবস্থান, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকের ঠিক আগে হামলার মাত্রা বাড়িয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুধু ইউক্রেন নয়, গোটা বিশ্বের কাছেই একটি শক্ত বার্তা দিতে চেয়েছেন। এই মুহূর্তে প্রশ্ন একটাই—আসন্ন বৈঠক কি আদৌ যুদ্ধ থামানোর কোনও নতুন পথ খুলে দিতে পারবে, নাকি সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নেবে?


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!