Advertisement
  • দে । শ
  • মে ১৬, ২০২৬

হাওড়াতেও কি এবার বুলডোজার অভিযান ? বেআইনি নির্মাণ নিয়ে ২১ মে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
হাওড়াতেও কি এবার বুলডোজার অভিযান ? বেআইনি নির্মাণ নিয়ে ২১ মে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতার পর এ বার কি হাওড়া শহরেও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে বুলডোজার অভিযান শুরু হতে চলেছে ? এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে হাওড়ার বিভিন্ন প্রান্তে। জেলা প্রশাসনের শীর্ষ সূত্রের ইঙ্গিত, বেআইনি নির্মাণ রুখতে কলকাতার ধাঁচেই হাওড়াতেও কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে প্রশাসন। প্রয়োজন হলে বেআইনি বহুতল ভাঙতে ব্যবহার করা হতে পারে বুলডোজারও।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ২১ মে হাওড়া জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি বিজেপি বিধায়কদেরও। বৈঠকে হাওড়ার বেআইনি নির্মাণ, জল জমার সমস্যা, নিকাশি ব্যবস্থা, জঞ্জাল পরিষ্কার, পানীয় জল-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। সেখান থেকেই ভবিষ্যতের হাওড়া শহরের উন্নয়ন পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একই দিনে মুখ্যমন্ত্রীর বেলুড় মঠেও যাওয়ার কথা রয়েছে।

উত্তর হাওড়ার বিজেপি বিধায়ক উমেশ রাই বলেন, “বেআইনি বাড়ির বিষয়টির সঙ্গে পুরসভা-সহ একাধিক দপ্তর জড়িত। তাই সব দিক খতিয়ে দেখে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মানুষের নিরাপত্তা এবং শহরের পরিকল্পিত উন্নয়ন বজায় রাখাই মূল লক্ষ্য।”

হাওড়া পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারদের দাবি, শহরের একাধিক এলাকায় লাগামছাড়া বেআইনি নির্মাণ হয়েছে। যেখানে তিনতলার বেশি নির্মাণের অনুমতি নেই, সেখানে নিয়ম ভেঙে পাঁচ থেকে ছ’তলা পর্যন্ত বহুতল তৈরি হয়েছে। সালকিয়া, পিলখানা, শিবপুর, কদমতলা, দাসনগর-সহ উত্তর ও মধ্য হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় এই ধরনের নির্মাণ চোখে পড়ছে।

পুরসভার এক আধিকারিক জানান, শুধু পিলখানা এলাকাতেই কয়েক হাজার বেআইনি নির্মাণ রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় পুরকর্মীরা অনেক সময় অভিযান চালাতে ভয় পান। প্রশাসনের মতে, অনিয়ন্ত্রিত বহুতল নির্মাণের ফলে শহরের নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে, বাড়ছে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও। সেই কারণেই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি উঠছে প্রশাসনের অন্দরেই।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বহু বছর ধরেই রাজনৈতিক মদতে পুরনো বস্তি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বেআইনি বহুতল তৈরি হয়েছে। কোথাও রাস্তা দখল করে, কোথাও আবার বাধ্যতামূলক ফাঁকা জায়গা না রেখেই বাড়ি তৈরি হওয়ায় বিপদের আশঙ্কা বাড়ছে।

সালকিয়ার বাসিন্দাদের বক্তব্য,“আগে ছোট ছোট বাড়ি ছিল, এখন সেখানে ৮-১০ তলা বাড়ি উঠে গিয়েছে। রাস্তা এতটাই সরু যে দমকল ঢুকতে পারবে না। আমরা চাই প্রশাসন কঠোর হোক, দরকার হলে বুলডোজার চলুক।”

পিলখানার মানুষদের বক্তব্য, “বেআইনি বাড়ির জন্য নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে যায়। যাঁরা নিয়ম মেনে বাড়ি করছেন, তাঁরাই সমস্যায় পড়ছেন। বেআইনি বাড়ির জল ও বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া উচিত।”

শিবপুরের বাসিন্দারা বলেন, “শুধু জরিমানা করে লাভ নেই। পুরোপুরি বেআইনি বাড়ির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

দাসনগরের ব্যবসায়ীদের কথায়, “কলকাতায় যেভাবে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, হাওড়াতেও সেই একই পদক্ষেপ করা হোক। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা চায়।”

এখন নজর ২১ মের বৈঠকের দিকে। সেখানেই স্পষ্ট হতে পারে, হাওড়া শহরে বেআইনি নির্মাণ রুখতে প্রশাসন কতটা কঠোর পথে হাঁটতে চলেছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!