- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৫
‘চিনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধই দেশের সবচেয়ে বড়ো নিরাপত্তা সংকট’, মন্তব্য তিন বাহিনীর প্রধানের
চিনের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে অমীমাংসিত বিরোধকেই দেশের সামনে ‘সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ’ বলে চিহ্নিত করলেন প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল অনিল চৌহান। একই সঙ্গে, পাকিস্তানের ‘প্রক্সি ওয়ার’ বা ‘হাজার কাঁটা দিয়ে রক্তাক্ত করা’র কৌশলকেও বড়ো হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
শুক্রবার গোরক্ষপুরের গোরক্ষনাথ মন্দিরে ‘ভারতের সামনে জাতীয় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে এ মন্তব্য করেন জেনারেল চৌহান। স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমি মনে করি, চিনের সঙ্গে অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধই দেশের সামনে সবচেয়ে বড়ো নিরাপত্তা সংকট। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের চালানো প্রক্সি যুদ্ধ, যার লক্ষ্য একটাই — ভারতকে রক্তাক্ত করা।’ এরপর, তিনি সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, এই দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশীর থেকে আসা সামরিক হুমকি মোকাবিলা করতে ভারতকে সব ধরনের যুদ্ধের জন্য তৈরি থাকতে হবে। ইতিহাসের দিকটিও মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘সীমান্ত বিরোধ বরাবরই ভারতকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এ সমস্যা এখনো সমানভাবে তীব্র। এটিই এই মুহূর্তে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রধান বাধা।’
এখানেই শেষ নয়। জেনারেল চৌহান চতুর্থ ও আরো বিপজ্জনক হুমকির কথাও তুলে ধরেন। ভবিষ্যতের যুদ্ধের ধরন। তিনি বলেন, ‘আগামী দিনের যুদ্ধ কেবল স্থল, আকাশ বা জলসীমায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। সেগুলি ছড়িয়ে পড়বে মহাকাশ, সাইবার এবং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্ষেত্রেও। এ আর কল্প বিজ্ঞান নয়, কঠিন বাস্তব। আর এই বাস্তবতার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’ রাজ্যগুলির আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রসঙ্গও টানেন তিনি। প্রতিবেশী দেশগুলিতে ক্রমবর্ধমান সামাজিক, রাজনৈতিক ও আর্থিক অস্থিরতা ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বলেই মত তাঁর। আদর্শবোধে বলিয়ান হবার আহ্বান জানিয়ে তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যেমন রক্ত ছাড়া মানবদেহ চলতে পারে না, তেমনই আদর্শ ছাড়া কোনো জাতি টিকে থাকতে পারে না।’
অন্যদিকে, চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছে ভারত। রাশিয়ার মাটিতে শুরু হয়েছে বহু-দেশীয় মহড়া ‘জাপাদ’। অংশ নিচ্ছে প্রায় ২০টি দেশ। ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই মহড়া চলবে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ভারতীয় সেনার ৭০ জনের একটি দল ৮ সেপ্টেম্বর মহড়াস্থলে পৌঁছবে। চিন ও পাকিস্তান একই গ্রুপে থাকছে, ভারতকে রাখা হয়েছে পৃথক গ্রুপে। সাম্প্রতিক অতীতে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক টানাপড়েনের আবহে এই যৌথ মহড়া কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মত প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের।
❤ Support Us







