- দে । শ
- এপ্রিল ১, ২০২৩
প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় সেনা তৎপরতায় ভারত চিন সংঙ্গর্ষের সম্ভাবনা বাড়ছে। মার্কিন উদ্বেগ ঘিরে চিনা অসন্তোষ
গত নভেম্বরে, উত্তরাখন্ডে ভারত মার্কিন যৌথ সেনা মহড়াকে ঘিরে প্রশ্ন বেইজিং এর
ভারত ও চিন সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর গত কয়েকমাস ধরে চিনের সেনা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যা উদ্বেগজনক বলেই মনে করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভারত-প্রশান্ত মহাসারীয় এলাকায় কর্মরত মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডার চার্লস ফ্লিন একথা জানিয়েছেন। চিনের সেনা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে বলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সেনাকর্তা উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন।
মার্কিন সেনার জেনারেল চার্লস ফ্লিন নিজের বক্তব্যের সমর্থনে আরও জানিয়েছেন, এবিষয়ে মার্কিন সেনার হাতে তথ্য মজুত রয়েছে। ভারত-চিন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার অন্তর্গত দক্ষিণ এশিয়ার অন্য যে দেশগুলিও ইতিমধ্যে চিনের এই সামরিক সক্রিয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
গত বছরের নভেম্বরে অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং সেক্টরে চিনের সেনা একতরফাভাবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা লঙ্ঘন করে স্থিতাবস্থা লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনা সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বিবৃতি দেন। তিনি বলেন, ভারতীয় সেনারা চিনকে প্রতিহত করায় দু’পক্ষের হাতাহাতিও হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে চিনের সেনা অরুণাচল প্রদেশে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় স্থিতাবস্থা লঙ্ঘন করার দু’বছর আগেও লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দু’দেশের সেনার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পূর্ব লাদাখের কিছু এলাকায় সীমান্ত নিয়ে চিন ও ভারতের বিরোধের জেরে নতুন করে উত্তেজক যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পর দু’দেশই সীমান্ত এলাকায় কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করেছে।
প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা নিয়ে ভারতের সঙ্গে চিন ও পাকিস্তানের সম্পর্কে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, এবিষয়ে গতমাসেই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। এরপর ভারত-প্রশান্ত সাগরীয় অঞ্চলের কর্মরত মার্কিন সেনাকর্তার এবিষয়ে মন্তব্য করাটা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সম্প্রতি মার্কিনি গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার যে অংশ নিয়ে চিন ও ভারতের বিরোধ রয়েছে, দু’দেশই সেই এলাকায় সামরিক সক্রিয়তা বাড়ানোর ফলে দু’দেশের সেনার মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষে বাঁধার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দুটি নিউক্লিয়ার শক্তিধর দেশের মধ্যে সম্পর্ক যে জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী।
গত নভেম্বরে ভারত ও মার্কিন সেনা উত্তরাখণ্ডে যৌথ মহড়া চালিয়েছে। এব্যাপারেও আপত্তি তোলে বেজিং। বেজিংয়ের বক্তব্য, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সীমান্ত সংক্রান্ত যে চুক্তিতে সই করেছিল ভারত এবং চিন, ওই চুক্তি মান্যতা পায়নি ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার ফলে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর শান্তি বজায় রাখতেই ওই চুক্তি দুটিতে সই করেছিল ভারত ও চিন।
❤ Support Us







