- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- এপ্রিল ৮, ২০২৫
হার্ভার্ড থেকে স্ট্যানফোর্ড, কয়েকশো বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল করল মার্কিন অভিবাসন দফতর। আতঙ্কে ৩ লক্ষ ভারতীয় পড়ুয়া
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিভাগ হার্ভার্ড, টাফস এবং স্ট্যানফোর্ডসহ প্রধান কলেজগুলিতে বিদেশী নাগরিকদের জন্য একাধিক ছাত্র ভিসা বাতিল করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে, ট্রাফিক লঙ্ঘন, ছোটোখাটো অপরাধ অথবা প্রো-প্যালেস্টাইন বিক্ষোভে অংশ নেবার অভিযোগে বহু শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। যাঁদের মধ্যে কয়েকশো ভারতীয় শিক্ষার্থীও আছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ভিসা বাতিল-সহ কঠোড় পদক্ষেপ নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ হার্ভার্ড, টাফস এবং স্ট্যানফোর্ডসহ প্রধান কলেজগুলিতে বিদেশী নাগরিকদের জন্য একাধিক ছাত্র ভিসা বাতিল করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে, ট্রাফিক লঙ্ঘন, ছোটোখাটো অপরাধ অথবা প্রো-প্যালেস্টাইন বিক্ষোভে অংশ নেবার অভিযোগে বহু শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে ওয়াশিংটন। এমনকি, তুর্কি নাগরিক ও টাফস বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ছাত্র রুমেইসা ওজতুর্ককে, গত মাসে আটক করা হয়েছিল। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গ্র্যাজুয়েট মাহমুদ খালিলকেও আটক করা হয়। উভয় ক্ষেত্রেই পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাঁরা প্রো-প্যালেস্টাইন আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। ওজতুর্ক আর খালিল বর্তমানে ইমিগ্রেশন জেলে আটক রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাঁদের দেশে ফেরানোর চেষ্টা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ভিসা বাতিলের বিষয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগে থেকে কোনো নোটিশ দেওয়া হচ্ছে না। বহুক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতেই পারছে না। আগে শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারত। এখন তো অনেকের বৈধ ভিসাও বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে, আটক করা হচ্ছে। গত মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, ৩০০-র বেশি শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালযয়ের ৬ জন ছাত্রের ভিসা বাতিলের কথা জানতে পেরেছে। রবিবার হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনজন বর্তমান ছাত্র ও ২ জন সাম্প্রতিক গ্র্যাজুয়েটের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত ১৪৭ জন আন্তর্জাতিক ছাত্রের ভিসা বা অবস্থানের বৈধতা হঠাৎ করে বাতিল করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নীতির প্রয়োগ করা হচ্ছে। হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড, টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়, মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সহ বহু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ভারতীয় ছাত্ররা উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বা কাজের অনুমোদন বাতিল করার জন্য সে দেশের কংগ্রেসে বিল উত্থাপনের পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩ লক্ষ ভারতীয় শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ না করেই দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকির মুখে পড়েছেন। নতুন বিলটি অপশনাল প্র্যাকটিকাল ট্রেনিং প্রোগ্রামের উপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগে এই প্রোগ্রামটি একটি যোগ্য এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসাধারীকে তাঁর পড়াশোনা শেষ করার আগে বা পরে, অথবা উভয় সময়কালের জন্য অস্থায়ী কর্মসংস্থানের অনুমতি প্রদান করত। এই বিলের অধীনে, একজন অ-আমেরিকান এই প্রোগ্রামে কেবলমাত্র ৪ মাসের জন্য অংশগ্রহণ করতে পারবে। পরবর্তীতে সময় বাড়ানোর কোনো সুযোগ থাকবে না। এছাড়াও বিলে উল্লেখ, সংবেদনশীল বিষয়ে কাজ করা বা ডিগ্রি থাকা অথবা চিনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে কোনোরকম যোগ থাকা পড়ুয়ারা এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
মার্কিন মুলুকের কয়েকজন অভিবাসন আইনজীবী ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-কে জানিয়েছেন, তাঁরা একাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফোন আর ইমেল পেয়েছেন। শিক্ষার্থীরা তাঁদের জানিয়েছেন, তাঁদের ভিসা বা অবস্থানের বৈধতা বাতিল করা হয়েছে, কিন্তু এর পেছনে স্পষ্ট বা সুনির্দিষ্ট কোনো যুক্তি বা কারণ নেই। এর মধ্যে এমন কিছু ছাত্রও আছেন, যাদের রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য ভিসা বাতিল করা হয়েছে। যে সব শিক্ষার্থীরা, সাম্প্রতিককালে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন, বিশেষ করে ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্য রেখেছেন বা ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাত নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এমনকি যারা সামাজিক মাধ্যমে ‘সরকারবিরোধী’ বা ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী’ পোস্টে লাইক বা কমেন্ট করেছেন, তাদেরও ভিসা বাতিল করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি একটি নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে মার্কিন সরকারের বিরোধিতা করা শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে, তাঁদের ভিসা বাতিল করার প্রক্রিয়া যাতে দ্রুত কার্যকর করা যায়।
অন্যদিকে, কিছু শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিলের পেছনে অতীতের মৃদু অপরাধ যেমন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো বা কিছুক্ষেত্রে দোকান চুরি করার মতো অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অপরাধ কখনো আন্তর্জাতিক ছাত্রদের ভিসা বাতিলের কারণ হিসেবে ধরা হয়নি, তবুও বর্তমানে এই ধরনের অপরাধও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, এগুলি অনৈতিক আচরণ, অভিবাসন কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছেনও না, কেন বা কীভাবে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিছু শিক্ষার্থীকে ইমেল পাঠানো হয়েছে, যেখানে তাদের নিজস্ব উদ্যোগে দেশ ত্যাগ করার বা স্ব-নির্বাসনের জন্য বলা হচ্ছে। হুমকি দেওয়া হচ্ছে, পড়ুয়ারা নিজে থেকে না গেলে, তাদেরকে জোরপূর্বক দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরো উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এমনকি যাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তাদেরকে ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগও না দেওয়া হতে পারে ।এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে কিছু ছাত্র ও সংগঠন আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ‘আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন’-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই পদক্ষেপগুলির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অপরাধ ছাড়াই যারা ভিসা বাতিলের শিকার হয়েছেন তাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই পদক্ষেপগুলির মূল লক্ষ্য ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির বাস্তবায়ন করা। পাশাপাশি, দেশের মধ্যে ইহুদি-বিরোধিতা বা সরকারবিরোধিতা মোকাবেলা করার অংশ। প্রশাসন চাইছে বৈধ-অবৈধ দুই ধরণের অভিবাসীদের সংখ্যাই হ্রাস পাক । রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় আন্তর্জাতিক ছাত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এর ফলে, অনেক আন্তর্জাতিক ছাত্র, বিশেষ করে যারা বিশেষ প্রকল্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছেন কিংবা যারা গবেষণা বা ডক্টরেট প্রোগ্রামে আছেন, তাদের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নিজ দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে গিয়ে তাঁরা ভয়ঙ্কর বিপদের মধ্যে পড়ছেন।
❤ Support Us






