- বি। দে । শ
- জুন ১০, ২০২৬
হরমুজে ভূপাতিত মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার, পাল্টা জবাব ওয়াশিংটনের
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আবার বেড়ে গেল। মঙ্গলবার ইরানের বিরুদ্ধে আবার সামরিক অভিযান শুরু করল মার্কিন সেনা। সোমবার হরমুজ প্রণালীতে একটা হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জবাবে ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়। ফলে দু-দেশের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় বড়ো ধাক্কা খেল বলেই মত বিশ্লেষকদের। যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনাকে পুনরায় বাড়িয়ে দিল।
সোমবার হরমুজ প্রণালীর ওপর একটা মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করে ইরান। এর জন্য তেহরানকে অভিযুক্ত করার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে সামরিক হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর মতে, এ অভিযান ইরানের অযৌক্তিক আগ্রাসনের পাল্টা জবাব। একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটি ইরানের একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন দ্বারা ভূপাতিত করা হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, হেলিকপ্টারটিতে থাকা দুই মার্কিন পাইলট অক্ষত অবস্থায় বেঁচে গেছেন।
অভিযান চলাকালে এক মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান যে, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে ইরানের বেশ কয়েকটি বিমান প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত হওয়ার জবাবে এই হামলাগুলোকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সেন্টকম হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভূমি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং নজরদারি রাডার সাইটগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
বুধবার ভোরে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন অংশে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে মেহর নিউজ এজেন্সি বন্দর নগরী বান্দার আব্বাসে বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে, সিরিকে একটা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং কেশম দ্বীপ আক্রমণের শিকার হয়েছে। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে যে, মার্কিন অভিযানটি কৌশলগত জলপথটির নিকটবর্তী একাধিক স্থানে বিস্তৃত ছিল, যে পথ দিয়ে বিশ্বের তেল চালানের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ চলাচল করে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি হেলিকপ্টারের ঘটনাটি নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও সতর্ক করেছেন যে, ইরানের নিকটবর্তী এলাকায় কর্মরত বিদেশি সামরিক বাহিনীগুলো দুর্ঘটনা, ভুল হিসাবনিকাশ অথবা উভয়পক্ষের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে যাওয়ার মতো প্রতিনিয়ত ঝুঁকির সম্মুখীন হয়। ঝুঁকি কমাতে তাদের চলে যাওয়াই সর্বোত্তম সমাধান। মার্কিন হামলার পর আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রকে আরও সামরিক পদক্ষেপ না করার জন্য সতর্ক করে বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় সত্ত্বেও ওয়াশিংটন ইরানের দৃঢ়সংকল্প পরীক্ষা করার পথ বেছে নিয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সমস্ত হামলা বা হুমকির জবাব দেবে।’ নিরাপদ থাকতে চাইলে বিদেশি শক্তিগুলোকে এই অঞ্চল ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলার পর দেওয়া এক স্পষ্ট সতর্কবার্তায় আরাঘচি পারস্য উপসাগরের ইতিহাসের কথাও উল্লেখ করে বলেন, এতে অনুপ্রবেশকারী বহিরাগতদের ভয়াবহ পরিণতির অনেক উদাহরণ রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী জানিয়েছে, বুধবার সকালে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী বলেছে, সংঘর্ষ চলছে এবং তাদের ভাষায় অব্যাহত মার্কিন আগ্রাসন চলতে থাকলে ‘আরও কঠোর জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা আরও বলেছে, মার্কিন হামলায় ইরানের বন্দর শহর সিরিকে একটা টেলিযোগাযোগ টাওয়ার এবং দুটি জলের ট্যাঙ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন হামলার আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানায় যে, বিগত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালীতে ইরান কোনো বিমান হামলা চালায়নি। সূত্রটি আরও সতর্ক করে যে, হেলিকপ্টার কাণ্ডের জের ধরে নতুন করে কোনো বৈরিতার সম্মুখীন হলে ইরান একটি ‘চূড়ান্ত জবাব’ দেবে। এই হামলা ও পাল্টা জবাব উপসাগরীয় অঞ্চলে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
❤ Support Us







