Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ১৫, ২০২৬

মণিপুরে রাতভর অশান্তি ! সেনা শিবির ঘিরে বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মণিপুরে রাতভর অশান্তি ! সেনা শিবির ঘিরে বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ

তল্লাশি অভিযান ঘিরে উত্তেজনাতার জেরে বিক্ষোভভাঙচুরঅগ্নিসংযোগ। মঙ্গলবার গভীর রাতে মণিপুরের সেনাপতি জেলায় অসম রাইফেলসের শিবিরকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি। বিক্ষোভকারীদের একাংশের হামলায় পুড়ল একাধিক গাড়িউল্টে দেওয়া হল নিরাপত্তা বাহিনীর ট্রাক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়তে হয় সেনা জওয়ানদের। পরে পুলিশ ও সিআরপিএফ যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের জনসংযোগ আধিকারিক (ডিফেন্স পিআরও)-এর দাবি, মণিপুরের ওকলং এলাকার কাছে সশস্ত্র জঙ্গিদের উপস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পরই মঙ্গলবার অসম রাইফেলস টহল  তল্লাশি অভিযান শুরু করে। মাকুইলংদি এলাকায় ওই অভিযান চালানো হয়যা এনএসসিএন (আইএম)-এর নির্ধারিত শিবির থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। গোয়েন্দা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিলযুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে, কয়েক জন সশস্ত্র ক্যাডার নির্ধারিত শিবিরের বাইরে অস্ত্র হাতে ঘোরাফেরা করছে।

অসম রাইফেলস-এর কর্মকর্তাদের দাবিঅভিযানের সময় তাদের বাহিনী যখন মাকুইলংদি এবং ওকলং গ্রামের দিকে এগোচ্ছিলতখন স্থানীয় বাসিন্দারাবিশেষ করে মহিলারা, তাঁদের গতিরোধ করেন। পরিস্থিতি যাতে আরও জটিল না হয়সে জন্য বাহিনীর তরফে সংযম দেখানো হয় স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা হয়। সেনার তরফে, তাঁদের আশ্বস্ত করা হয় যেগ্রামবাসীদের সম্মতি ছাড়া কোনো গ্রামে প্রবেশ করা হবে না। কিন্তু এর মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক উগ্র  বার্তা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। সেসব বার্তায় দাবি করা হয়ওকলং গ্রামের অধীনস্থ এনএসসিএন (আইএম)-এর হুথরং ব্রিগেড সদর দফতর এবং অসম রাইফেলসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দাবানলের মতো সে বার্তা ছড়িয়ে পড়ে সেনাপতি জুড়ে। শহরের সাধারণ মানুষকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ও বাড়তে থাকে।

স্থানীয় সূত্রের খবররাত প্রায় ৯টার সময় শতাধিক মানুষ ট্রাফিক পয়েন্ট’-এ জড়ো হয়ে অসম রাইফেলসের কোম্পানি অপারেটিং বেস (সিওবি)-এর দিকে মিছিল শুরু করেন। আধ ঘণ্টার মধ্যে বিক্ষোভকারীরা শিবিরের সামনে পৌঁছে যান। অভিযোগতার পরেই শুরু হয় পাথর ছোড়াভাঙচুর আর অগ্নিসংযোগের চেষ্টা। যদিও তখন তল্লাশি অভিযানে অংশ নেওয়া বাহিনীর সদস্যরা এলাকা ছেড়ে ফিরে এসেছিলেন বলে দাবি করেছে অসম রাইফেলস। শিবিরের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িতে বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দিলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। পাশাপাশি, একটি যাত্রীছাউনিও জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে বিক্ষোভকারীদের একাংশ অসম রাইফেলসের গাড়িগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, বাহিনীর দুটি ট্রাক উল্টে দেওয়া হয়। আরও কয়েকটি গাড়ির ক্ষতি হয়েছে বলেও সূত্রের খবর।

পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকলে মণিপুর পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা বাহিনী শক্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস এবং ফাঁকা গুলি ব্যবহার করা হয়। পরে সেনাপতি পুলিশ ও সিআরপিএফ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কাজে যোগ দেয়। রাত গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রশাসনের দাবিএ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর নেই। এখনো পর্যন্ত কারও গুরুতর আহত হওয়ার খবরও মেলেনি। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও সামনে আসেনি।

এ ঘটনার মধ্যেই মণিপুরের বিভিন্ন জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বুধবার ইম্ফল পশ্চিম জেলার লোকতাক হ্রদের কাছে একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকেচুরাচাঁদপুর জেলার একটি জঙ্গল থেকেও উদ্ধার হয়েছে ইনসাস রাইফেলদেশি বন্দুকহ্যান্ড গ্রেনেডযোগাযোগের যন্ত্র  সামরিক সরঞ্জাম। ইম্ফল পূর্ব জেলা থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে তাঁর কাছ থেকে একটি একে-৫৬ রাইফেলপিস্তল-সহ বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। রাজ্য পুলিশের দাবিরাজ্যে চলমান অশান্তির আবহে অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। সেনাপতির ঘটনাও সেই বৃহত্তর নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত কি নাতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে মঙ্গলবার রাতের ঘটনার পর ফের এক বার স্পষ্ট হয়ে গেলমণিপুরে শান্তি ফেরানোর প্রচেষ্টার মধ্যেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত স্পর্শকাতর  অস্থির রয়ে গিয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!