- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৮, ২০২৫
রাষ্ট্রপতির কাছে রাজ্যের রিপোর্ট পেশ রাজ্যপালের
বিধানসভা নির্বাচনের হাতে গোনা আর কয়েক মাস বাকি। তার আগে উত্তাল হয়ে উঠছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্যোগ মোকাবিলা, রাজনৈতিক হিংসা— সব মিলিয়ে রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন রাজ্যপাল ডঃ সি ভি আনন্দ বোস। এই অবস্থায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তুলে দিয়েছেন তিনি। এরপর থেকেই জোরাল হচ্ছে জল্পনা— পশ্চিমবঙ্গে কি রাষ্ট্রপতি শাসনের পথে হাঁটছে কেন্দ্র?
রাজ্যপাল বোস রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার মনে হয়েছে, অবস্থা খুবই খারাপ। এভাবে চলতে পারে না।”
তাঁর এই বক্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা প্রশ্ন। বিরোধী দলগুলি যেখানে দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি জানিয়ে আসছে, সেখানে রাজ্যপালের এই মন্তব্য সেই দাবিকে আরও জোরদার করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
রাজ্যপাল জানান, “রাজ্যপাল হিসেবে আমি মাঠে গিয়ে পরিস্থিতি দেখি, মানুষের সঙ্গে কথা বলি, তারপরই সুপারিশ করি। এখনো কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে কী সুপারিশ করা হবে, তা নিয়ে ভাবনা চলছে।”
অর্থাৎ, সরাসরি রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশের কথা না বললেও, তিনি যে বিষয়টি বিবেচনার মধ্যে রেখেছেন, তা স্পষ্ট করেন তাঁর বক্তব্যে।
সম্প্রতি উত্তরবঙ্গে ত্রাণ দিতে গিয়ে আক্রান্ত হন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। এই প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন রাজ্যপাল। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এ বিষয়ে তাঁর কথা হয়েছে। রাজ্যপাল বলেন, “ব্যক্তিগত এবং পেশাগত সম্পর্ক আলাদা। মুখ্যমন্ত্রীকে আমি শ্রদ্ধা করি। তবে প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রে আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “পুলিশ যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করে, তবে সংবিধান মেনে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।”
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার আশঙ্কা থাকছেই। এই বিষয়ে রাজ্যপাল বলেন,
“আমি গ্রাউন্ড জিরোর পরিস্থিতি জানি। সব রিপোর্ট নিয়মিত পাঠানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন গুরুতর কিছু হয়নি। কিন্তু আমি জানি গুরুতর ঘটনা ঘটেছে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলায় যা ঘটছে, তা হওয়া উচিত নয়। সময় এসেছে না বলার, সময় এসেছে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার।”
রাজ্যপাল জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও অন্যান্য দপ্তরেও যাবেন রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে জানাতে।
উত্তরবঙ্গের বন্যা ও দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়েও রাষ্ট্রপতিকে রিপোর্ট দিয়েছেন তিনি। যদিও, তাঁর রিপোর্টের বিস্তারিত কী, বা তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে ঠিক কী সুপারিশ করেছেন— সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি রাজ্যপাল।
তবে তাঁর বক্তব্যেই ইঙ্গিত মিলেছে, পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদল না হলে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এমন সময় রাজ্যপালের এই সক্রিয়তা এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে যখন রাজ্য সরকার ও রাজ্যপালের মধ্যে বারবার সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তখন রাজ্যপালের এই রিপোর্ট ও মন্তব্য ভবিষ্যতের রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক অভিজ্ঞরা মনে করছেন।
বিরোধীরা ইতিমধ্যেই রাজ্যপালের এই মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি আরও জোরদার করেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও, সূত্রের খবর— তাঁরা একে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলেই মনে করছেন।
এই মুহূর্তে নজর থাকবে, কেন্দ্রের তরফে রাজ্য সম্পর্কে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এবং রাজ্যপালের ‘রিপোর্ট’-এর ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি ভবনের কী প্রতিক্রিয়া আসে।
❤ Support Us








