- দে । শ
- এপ্রিল ২, ২০২৬
ভোটের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা, প্রবেশ রুদ্ধ রাজনৈতিক নেতাদেরও । অভিনব প্রতিবাদ মন্তেশ্বরের লস্করপুরে
ভোটার তালিকায় নাম নেই। তাই ভোটের প্রচার নিষিদ্ধ করে দিল মন্তেশ্বরের লস্করপুর গ্রাম। এই ঘোষণা সংবলিত একটি ব্যানার ঝোলানো হয়েছে জামনা পঞ্চায়েতের লস্করপুর বাসস্ট্যান্ডে। সেখানে লেখা আছে, ‘আগে ভোটার তালিকা সংশোধন তারপর গ্রামে প্রবেশ।’ আরও লেখা রয়েছে, ‘যতদিন না পর্যন্ত ভোটার তালিকার নাম ও তথ্যের যথাযথ সংশোধন হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মীদের গ্রামে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রাম প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ব্যানার টাঙানোর ঘটনা চাউর হতেই এলাকায় সাঙ্ঘাতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, সোশাল মিডিয়াতেও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন গ্রামের বাসিন্দারা। একই দাবিতে সরব হয়েছেন মন্তেশ্বরের জামনা পঞ্চায়েতের কুলে ও কুসুমগ্রাম পঞ্চায়েতের সানাপাড়ার বাসিন্দারা। কাটোয়ার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রাজুয়া গ্রামের বাসিন্দা বিশিষ্ট প্রত্নবস্তু সংগ্রাহক ও লোকগান গবেষক মুহম্মদ আয়ুব হোসেন-সহ দুশোর কাছাকাছি বাসিন্দার নাম বাদ পড়েছে। গ্রামের শিক্ষক ফিরোজ শেখের কথায়, ‘গ্রামের বহু বয়স্ক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোট দিচ্ছেন, তাদের নামও বাদ দিয়ে দিয়েছে।’
লস্করপুর গ্রামের ১৭১নং বুথের ভোটার সংখ্যা ৭৯৩ জন। বাদ পড়েছেন ২০৪ জন। নির্বাচন কমিশনের এহেন ‘তুঘলকি আচরণে’ ক্ষুব্ধ গোটা গ্রাম প্রতিবাদে ভোট প্রার্থীদের জন্য গ্রামের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। এটাকে গ্রামবাসীরা তাঁদের ‘নাগরিক অধিকার আদায়ের লড়াই’ হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি, সুষ্ঠু ও নির্ভুল ভোটার তালিকা। গ্রামের বাসিন্দা পেশায় হাইস্কুলের শিক্ষক ফিরোজ মণ্ডল জানালেন, ‘যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদের মধ্যে ৯৫ শতাংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।’ লস্করপুর গ্রামের এই দাবি সম্পর্কে মন্তেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ তথা এলাকার তৃণমূল নেতা লালন শেখ বললেন, ‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিরাতো শুরু থেকেই এসআইআর-র প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। তৃণমূল সরকারতো এ ব্যাপারে সকলের পাশে রয়েছে। ট্রাইবুনালে লড়ার জন্য নিখরচার উকিল দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।’ তাই লস্করপুরের দাবি সম্পর্কে সহমত পোষণ করলেও রাজনৈতিক নেতাদের গ্রামে ঢোকা নিষিদ্ধ করার ফরমান জারি ঠিক নয় বলেই মনে করেন লালন। এখন দেখার কবে, কীভাবে মান ভাঙে লস্করপুরের।
❤ Support Us





