- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ৩, ২০২৬
বিধানসভা ভোটের হলফনামা, শুভেন্দু, অধীর, রাজীব, অগ্নিমিত্রা কার সম্পদ কত বাড়ল, কার কমল ?
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, গত পাঁচ বছরে অনেক প্রার্থীর সম্পত্তির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে—বিশেষ করে বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষেত্রে মোট সম্পত্তির পরিমাণ কমেছে।
শুভেন্দু অধিকারীর অস্থাবর সম্পত্তি ২০২১ সালের ৫৯ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা থেকে কমে ২০২৬ সালে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ২৪ লক্ষ টাকায়, অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক। যদিও তাঁর স্থাবর সম্পত্তির বাজারমূল্য ৪৬ লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬১ লক্ষ টাকা। কৃষি ও অ-কৃষি জমির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকলেও বাজারদরের বৃদ্ধির ফলে জমির মূল্য বেড়েছে। সব মিলিয়ে অস্থাবর সম্পত্তির বড়সড় হ্রাসের কারণে তাঁর মোট সম্পত্তি কমেছে। তবে ইতিবাচক দিক হল, এই সময়ের মধ্যে তাঁর বার্ষিক আয় ১১ লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে ১৭ লক্ষ টাকারও বেশি হয়েছে। তিনটি বাড়ি থাকলেও তাঁর কোনো গাড়ি নেই।
অন্যদিকে, ডেবরা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালে তাঁর মোট সম্পত্তি ছিল ১ কোটি ২২ লক্ষ টাকা, যা ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৯২ লক্ষ টাকারও বেশি। অস্থাবর সম্পত্তি প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা বেড়েছে এবং নগদের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। কলকাতার হিন্দুস্থান রোডের ফ্ল্যাটের মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাঁর স্থাবর সম্পত্তিও প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা বেড়েছে।
আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পলের সম্পত্তিও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ২০২১ সালে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা, যা ২০২৬ সালে বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা। মূলত মিউচুয়াল ফান্ড এবং সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলেই এই বৃদ্ধি। তাঁর ফ্ল্যাটের দামও প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বার্ষিক আয় ৯ লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে ১৪ লক্ষ টাকার বেশি হয়েছে। বিনপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী বিরবাহা হাঁসদার সম্পত্তিও গত পাঁচ বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ৬২ লক্ষ টাকার কিছু বেশি থেকে বেড়ে তা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকায়। জমির বাজারমূল্য বৃদ্ধিই এই সম্পদবৃদ্ধির মূল কারণ।
এদিকে কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী আবারও বিধানসভা নির্বাচনের ময়দানে ফিরেছেন। ১৯৯১ সালে মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম কেন্দ্র থেকে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তিনি পরাজিত হন। পরে ১৯৯৬ সালে জয়লাভ করে প্রথমবার বিধায়ক হন। এরপর টানা পাঁচবার বহরমপুর থেকে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। যদিও ২০২৪ সালে তৃণমূল প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের কাছে তিনি পরাজিত হন। দুই বছর পর আবার বহরমপুর থেকেই প্রার্থী হয়েছেন তিনি।
তাঁর হলফনামা অনুযায়ী, অধীর রঞ্জন চৌধুরীর কাছে নগদ রয়েছে ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং তাঁর স্ত্রী অতসীর কাছে রয়েছে ৭ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। অধীরের চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রয়েছে মোট ৬ লক্ষ ৪২ হাজার ৬১১ টাকা। এছাড়া তাঁর নামে ৮ লক্ষ ১৫ হাজার ৭০৫ টাকার এসবিআই ফোলিও মিউচুয়াল ফান্ড, ৩ লক্ষ টাকার জীবনবিমা পলিসি, ২২ লক্ষ ২৭ হাজার টাকার একটি গাড়ি এবং ২৭ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার সোনার গয়না রয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৮ লক্ষ ৪০ হাজার ৬০২ টাকা।
অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী অতসীর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ আরও বেশি। তাঁর দুটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, এসবিআই ফোলিও মিউচুয়াল ফান্ড, জীবনবিমা পলিসি, ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকার একটি গাড়ি এবং ১ কোটি ৭৪ হাজার টাকার গয়না মিলিয়ে মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৭ লক্ষ ৮৯ হাজার ৯৩৪ টাকা। সব মিলিয়ে এই হলফনামাগুলি থেকে স্পষ্ট, বেশিরভাগ প্রার্থীর সম্পদ বেড়েছে, তবে ব্যতিক্রম হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষেত্রে সম্পদের কাঠামোয় বড়ো পরিবর্তন ঘটেছে।
❤ Support Us







