Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ১২, ২০২৬

কলকাতায় ওয়ার্ড বাড়ছে ১৪৪ থেকে ২০৯, হাওড়া থেকে ফের আলাদা হচ্ছে বালি, বিল পাস বিধানসভায়

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কলকাতায় ওয়ার্ড বাড়ছে ১৪৪ থেকে ২০৯, হাওড়া থেকে ফের আলাদা হচ্ছে বালি, বিল পাস বিধানসভায়

কলকাতা পুরসভা ও হাওড়া পুরসভার পুনর্বিন্যাস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি সংশোধনী বিল বিধানসভায় পাস হল। কলকাতা পুরসভা সংশোধনী বিলের মাধ্যমে শহরে ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। একই সঙ্গে ধ্বনিভোটে পাস হয়েছে হাওড়া পুরসভা সংশোধনী বিলও। এই বিলের মাধ্যমে ফের হাওড়া পুরসভা থেকে বালিকে পৃথক করে আলাদা পুরসভার মর্যাদা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হল। পাশাপাশি হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে।

বর্তমানে কলকাতা পুরসভায় ১৪৪টি ওয়ার্ড রয়েছে। সংশোধনী বিল অনুযায়ী সেই সংখ্যা বেড়ে হবে ২০৯। অন্য দিকে, হাওড়া পুরসভায় বর্তমানে ৫০টি ওয়ার্ড রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় তা বেড়ে হবে ৬৮। অর্থাৎ দুই পুরসভা মিলিয়ে মোট ৮৩টি ওয়ার্ড বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

তবে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড বৃদ্ধি নিয়ে বিধানসভায় প্রশ্নও ওঠে। কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সংশোধনী বিলে কলকাতার ২০৯টি ওয়ার্ডেই ভোট হবে কি না, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্ন ছিল, যদি ১৪৪টি ওয়ার্ডে ভোট হয়, তা হলে বাকি ওয়ার্ডগুলিতে কি মনোনীত কাউকে বসানো হবে?

জবাবে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট করে দেন, মনোনীত কাউকে বসানোর কোনও প্রশ্নই নেই। সংশোধনী বিলে এমন কোনও ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়নি বলে তিনি জানান।

অন্য দিকে, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা হাওড়া পুরসভার নির্বাচন নিয়েও নতুন করে জট কাটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শেষ বার ২০১৩ সালে হাওড়া পুরসভার নির্বাচন হয়েছিল। এর পরে ২০১৫ সালে বালি পুরসভাকে বিলুপ্ত করে হাওড়া পুরসভার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সেই সময় বালিকে নিয়ে ১৬টি ওয়ার্ড তৈরি করে উপনির্বাচন হয় এবং সব ক’টি আসনেই জয়ী হয় তৃণমূল। ওই সংযুক্তিকরণের জন্য তৎকালীন রাজ্য সরকার বিধানসভায় একটি বিল পাস করেছিল।

পরবর্তী সময়ে হাওড়া থেকে বালিকে ফের পৃথক করে আলাদা পুরসভার মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই মর্মে বিধানসভায় বিল পাস করে অনুমোদনের জন্য তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের কাছে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু হাওড়া পুরসভার আর্থিক বরাদ্দ এবং খরচ সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্যপাল একাধিক তথ্য জানতে চেয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই প্রশ্নগুলির সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি রাজ্য সরকার। ফলে বালিকে পৃথক করার প্রক্রিয়াও আটকে যায়।

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর হাওড়া পুরসভার নির্বাচন সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে নতুন সরকার উদ্যোগী হয়। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের আলোচনাও হয়। অবশেষে হাওড়া পুরসভা সংশোধনী বিল বিধানসভায় পাস হওয়ায় হাওড়া ও বালিকে পৃথক করার পাশাপাশি হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানোর পথও প্রশস্ত হল।

কলকাতা পুরসভা সংশোধনী বিল নিয়ে বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আপাতত ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর পরে শুরু হবে ওয়ার্ডগুলির সীমানা নির্ধারণের কাজ। সেই সঙ্গে প্রতিটি ওয়ার্ডের জনসংখ্যা, ভোটার সংখ্যা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ও নির্ধারণ করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রক্রিয়ায় রাজ্য নির্বাচন কমিশন ভূমি দফতর এবং কলকাতার জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় দায়িত্ব দেবে। তার পরে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। সাধারণ মানুষের কোনও আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তা জানানোর সুযোগও থাকবে। পাশাপাশি রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে দু’দফায় সর্বদলীয় বৈঠক করতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, পুরো প্রক্রিয়াই নির্দিষ্ট নিয়মবিধি মেনে সম্পন্ন করা হবে। তাঁর বক্তব্য, নিজেদের ইচ্ছেমতো কোনও মানচিত্র তৈরি করে তা বিধানসভায় পাস করিয়ে দেওয়ার বিষয় নেই। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে সমস্ত নির্ধারিত নিয়ম ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মেনেই এগোনো হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!