Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ৩১, ২০২৩

রাহুল-অভিষেক বৈঠক নিয়ে বাংলার কংগ্রেসে তীব্র ক্ষোভ দিল্লির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে, তবে এই বিষয়ে যা বলার ইন্ডিয়া বৈঠকের পর বলবে সিপিএম

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাহুল-অভিষেক বৈঠক নিয়ে বাংলার কংগ্রেসে তীব্র ক্ষোভ দিল্লির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে, তবে এই বিষয়ে যা বলার ইন্ডিয়া বৈঠকের পর বলবে সিপিএম

“ইন্ডিয়া” জোটের মুম্বই বৈঠক বসার আগেই বুধবার ভোরে ১০ জনপথ, অর্থাৎ  সনিয়া গান্ধির বাসভবন রাহুল গান্ধির সঙ্গে বৈঠকে হল  অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই নিয়ে বাংলার কংগ্রেস ক্ষুব্ধ, তবে আরও সময় নিয়ে এই বিষয়ে বক্তব্য রাখতে চাইছে সিপিএম।সিপিএম-এর বক্তব্য, বাংলার তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পর্কে সোনিয়া গান্ধি, রাহুল গান্ধি সতর্ক আছেন। তাই পয়লা সেপ্টেম্বরের বৈঠকের আগে এই বৈঠক নিয়ে মুখ খুলতে চাইছে না সিপিএম।

রাহুল-অভিষেক বৈঠক প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সদস্য সুভাশিষ ভট্টাচার্য বলেছেন, “২০০১ এবং ২০১১ সালে দিল্লি থেকে যখন নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বাংলায় তৃণমূলের সঙ্গে চলতে, তখন সোমেন মিত্র বলেছিলেন, এটা ভুল হচ্ছে। এর ফলে বাংলায় কংগ্রেসের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। দিল্লির নেতৃত্ত্ব তখন সেই কথা শোনেনি। আবারও সেই একই ভুল হবে যদি ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বাংলার কংগ্রেসকে দিল্লি তৃণমূলের হাত ধরার নির্দেশ দেয়। আমরা বাংলায় তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে এবং বিজেপির সাম্প্রদায়িক ও জনবিরোধী রাজনীতির বিরুদ্ধে বামেদের সঙ্গে এক হয়ে তৃণমূল ও বিজেপিকে রাজ্য থেকে উচ্ছেদ করতে চাইছি, সেটা যদি দিল্লির কংগ্রেস নেতৃত্ব না বুঝে লোকসভা নির্বাচনে সারা দেশে ১৫০টি আসন পাওয়ার লক্ষ্যে তৃণমূলের সঙ্গে বাংলায় হাত মেলাতে নির্দেশ দেয় সেটা আবারও একটা বড় ভুল হবে। এভাবেই সারা দেশে কংগ্রেসটাকে তুলে দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন বাংলায় তৃণমূল আর বিজেপি ছাড়া কোনও রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব থাকবে না, সেই দাবিটাই দিল্লি নেতৃত্বের মেনে নেওয়া হবে যদি বাংলায় তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসকে সমঝোতায় যেতে দিল্লি নির্দেশ দেয়।”

তবে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ যদি এভাবেই শেষ পর্যন্ত বদলে যায় তাহলে কংগ্রেস তৃণমূলস্তরের কর্মী, আঞ্চলিক নেতারা বসে যাবেন বলে পরদেশ কংগ্রেস সূত্রে জানা যাচ্ছে। সেই অবস্থায় কংগ্রেসের এই অংশ পরোক্ষে বামেদের ভোট দেবে তৃণমূলকে পরাজিত করার জন্য।

এই অবস্থায় ১ সেপ্টেম্বরের ইন্ডিয়া-র বৈঠকের আগে কোনও মন্তব্য করতে রাজি নয় সিপিএম। এই প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা রবীন দেবকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘যে বৈঠক হয়েছে তা নিয়ে কংগ্রেস যা বলার বলছে, সেটা তাদের কথা। আমরা বলছি সোনিয়া গান্ধি, রাহুল গান্ধি তৃণমূল সম্পর্কে সতর্ক আছেন। ১ সেপ্টেম্বরের ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকটা হোক, তার পরে যা বলার বলা যাবে। এখন রাহুল-অভিক্ষে বৈঠক নিয়ে এর থেকে বেশি কিছু আমার বলার নেই।”

একদা তৃণমূলের “‘অ্যালার্জি’ “, “বিজেপি-র টিআরপি”, বলে যে রাহুল গান্ধিকে গালমন্দ করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কোন রাজনৈতিক রসায়নে সেই রাহুল গান্ধির সঙ্গে  তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড বৈঠক করলেন ১০, জনপথ-এ ? এই প্রশ্ন এখন জাতীয় রাজনীতির যেমন প্রধান চর্চা তেমনই বঙ্গ-রাজনীতিরও প্রধান চর্চার বিষয়।

বঙ্গ-রাজনীতির চর্চার বিষয় , কারণ রাহুল-অভিষেক-এর ভোরের অর্থাৎ ব্রাহ্ম মুহূর্তের বৈঠক কী তাহলে বাংলার কংগ্রেসের অস্তিত্ব বিলোপের নতুন পদক্ষেপ? থগকবে তো বাংলায় বাম-কংগ্রেস জোট? তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে বাংলায় কংগ্রেস তৃণমূলকে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য জায়গা ছেড়ে দেবে না তো? তাহলে সিপিএম তথা রাজ্যের বাম শক্তির অস্তিত্বে বিপন্নতা আরও বাড়বে না তো? না কী সিপিএম এই সুযোগে নিজেদের পায়ের তোলার মাটি একক শক্তিতে আরও শক্তিশালী করতে পারবে? এই প্রশ্নগুলি এখন বঙ্গ-রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে রাহুল-অভিষেক বৈঠকের পর।

জানা যাচ্ছে, রাহুল-অভিষেকের এই বৈঠকে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের রণকৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে  আগামী লোকসভা নির্বাচনে নির্বাচনী কৌশল ও আসন বন্টন নিয়ে। মুম্বইতে “ইন্ডিয়া”-র বৈঠক শুরুর আগে রাহুল-অভিষেক এই বৈঠক দিল্লিতে ১০ জনপথে হওয়াটা যথেষ্ট রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

এখন এই বৈঠক ঘিরে যে সব রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠছে তা হল , পশ্চিমবঙ্গে কী কংগ্রেস তৃণমূলকে আসন ছাড়বে? আবার কী ২০১১-র পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা  নির্বাচনের মতো বাংলায় কংগ্রেস তৃণমূলের সঙ্গে আসন বন্টন নিয়ে আপোষ-রফায় যাবে? আবার কী এই রাজ্যে কংগ্রেসকে “সাইনবোর্ড” বানাবার তৃণমূলী কৌশল, যা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী সর্বদা বলে থাকেন, দিল্লির কংগ্রেস নেতাদের অর্থাৎ রাহুল-সোনিয়া-র নির্দেশ কংগ্রেসকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বন্ধ করে দিতে হবে? কেননা কংগ্রেসের সম্পর্কে , রাহুলের সম্পর্কে ইদানিং তৃণমূল নীরব। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মাটি এখন অনেকটাই তৃণমূলের দখলের বাইরে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে সেই ইঙ্গিত তৃণমূল পেয়েছে, আর তাই তৃতীয়বার রাজ্যে ক্ষমতায় এসেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূলকে পঞ্চায়েত নির্বাচনে নিজেদের জমি দখলে রাখার জন্য মারপিট করতে হয়েছে। তাই মমতা বন্দ্যঅধ্যায় বাংলার রাজনীতির মাটির যিনি খোঁজ-খবর সব জানেন, সেই তিনি আগাম তৃণমূলের জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দলগত অবস্থান, গ্রহন্যয্যতা বাংলায় কতটা, সেটা বুঝে কংগ্রেসের হাত ধরে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে “যে রাজ্যে যে শক্তশালী” সেই ফর্মুলা রাহুলকে বোঝাতে অভিষেককে দুটি করে পাঠালেন?

এখন প্রশ্ন , অধীর রঞ্জন চৌধুরীর কী হবে? তাঁকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক আগেই রাজনৈতিক ভাবে খাটো করে নানা মন্তব্য করেছেন। রাহুল গান্ধি যদি নির্দেশ দেন, বাংলায় তৃণমূলের জন্য কংগ্রেসকে জায়গা ছাড়তে হবে, তখন অধীর রঞ্জনের দল ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে একদিকে বামেদের সঙ্গে যৌথ সভা করে তৃণমূলকে গালাগাল করবেন আবার তৃণমূলের সঙ্গে যৌথ সভা করে বামেদের গালাগাল করবেন? আমরা আগেও দেখেছি হঠাৎ করে দিল্লির কংগ্রেস নেতৃত্ব বাংলার কংগ্রেসের রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে বিপ্লব, প্রতিবাদের তোয়াক্কা না করে সোজা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরার নির্দেশ পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসকে দিয়েছে, বাংলার কংগ্রেস নেতারা সেই নির্দেশ আজ্ঞাবহের মতো মেনে নিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে অধীর রঞ্জন চৌধুরীরই বা কী হবে? বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে কংগ্রেস যেটুকু জায়গা তৈরি করেছে তার সবটাই কি রাহুল-সোনিয়ার নির্দেশে জপলাঞ্জলি যাবে? মাঝ পথে কংগ্রেস কী বাংলায় বামেদের হাত ছাড়বে? এটা কী মেনে নেবেন নিচুতলার কংগ্রেস কর্মীরা?


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!